০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব, দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা তৃতীয় দেশে নির্বাসন: পানামায় পাঠানো ইরানি খ্রিষ্টানের অনিশ্চিত জীবন জার্মানিতে ডানপন্থার উত্থানের জ্বালানি: হারিয়ে যাওয়া গৌরবের নস্টালজিয়া জিন্নাহর প্রতিকৃতি সরানোয় তাইয়েবকে হুমকির অভিযোগ, তদন্তের দাবি এডিপি বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন হার, দুই মাসে অগ্রগতি মাত্র ১.৮৫ শতাংশ ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,৬৫৫ বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ছকে দেখলে ভারতেরই কৌশলগত ক্ষতি নাক থেকে অন্ত্র—শরীরের অদৃশ্য প্রতিরক্ষা দেয়াল, কীভাবে কাজ করে মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম?

শুভেচ্ছার অর্থ যখন হিসাবের খাতায় বন্দী

  • উহ সু-উং
  • ০৮:০০:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • 48

বিয়ে একসময় ছিল দুটি মানুষের নতুন জীবনের সূচনা, দুটি পরিবারের সামাজিক বন্ধন এবং শুভকামনা বিনিময়ের উপলক্ষ। কিন্তু ইতিহাস বলছে, এই অনুষ্ঠান বহু যুগ ধরেই সম্পদ, মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থান প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও পরিণত হয়েছে। প্রাচীন সমাজ থেকে আধুনিক নগরজীবন—সময় বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু সামাজিক আচারকে ব্যক্তিগত লাভের উপায়ে রূপান্তর করার প্রবণতা যেন বারবার ফিরে এসেছে। আজ প্রশ্ন উঠছে, আমরা কি এখনও মানুষকে অভিনন্দন জানাই, নাকি কেবল অর্থনৈতিক হিসাব মেলাই?

প্রায় তিন হাজার বছর আগে এথেন্সে বিয়েকে ঘিরে পণ ও উপহারের প্রতিযোগিতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে রাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। তৎকালীন শাসক সোলন পণের পরিমাণ সীমিত করেন, মূল্যবান অলংকারের পরিবর্তে সাধারণ গৃহস্থালি সামগ্রী উপহার দেওয়ার নিয়ম চালু করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—বিয়ে যেন অর্থ আদায় বা সম্পদ উদ্ধারের কৌশলে পরিণত না হয়। ইতিহাসের সেই উদ্যোগ দেখায়, সামাজিক আচার যখন বাজারের যুক্তিতে পরিচালিত হতে শুরু করে, তখন তা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নতুন নয়।

আজকের সমাজে প্রযুক্তি সেই পুরোনো প্রবণতাকে আরও নতুন রূপ দিয়েছে। ডিজিটাল আমন্ত্রণপত্র, অনলাইন অর্থ স্থানান্তর এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার শুভেচ্ছা পাঠানোকে সহজ করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে অপব্যবহারের সুযোগও বাড়িয়েছে। এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে অস্তিত্বহীন বিয়ের আমন্ত্রণ পাঠিয়ে পরিচিতদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে। কোথাও অবসরের আগে শেষবারের মতো পরিচিতদের আবেগকে কাজে লাগানো হয়েছে, কোথাও আবার সামাজিক সম্পর্ককে ব্যবহার করা হয়েছে আর্থিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যম হিসেবে। এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন প্রতারণা নয়; এগুলো এমন এক মানসিকতার প্রকাশ, যেখানে সামাজিক বিশ্বাসকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই পরিবর্তনের আরেকটি দিক আরও সূক্ষ্ম। অনেক ক্ষেত্রে বিয়ের উপহার আর নিছক শুভেচ্ছার প্রতীক নয়; বরং অতীতে দেওয়া অর্থ ভবিষ্যতে ফেরত পাওয়ার এক অলিখিত চুক্তিতে পরিণত হয়েছে। বহু বছর যোগাযোগ না থাকা মানুষও সন্তানের বিয়ের সময় পুরোনো পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এই প্রত্যাশায় যে, আগে যা দিয়েছিলেন, এবার তা সমপরিমাণে ফিরে পাবেন। এতে আন্তরিকতা নয়, বরং লেনদেনের হিসাবই সম্পর্কের কেন্দ্রে চলে আসে। সামাজিক অনুষ্ঠান তখন আনন্দের বদলে দেনা-পাওনার খাতা হয়ে দাঁড়ায়।

ক্ষমতা ও প্রভাবের ব্যবহারও এই সংস্কৃতিকে আরও বিকৃত করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজেদের অবস্থান কাজে লাগিয়ে এমন আয়োজন করেন, যেখানে উপস্থিতির চেয়ে অর্থসংগ্রহই যেন মুখ্য হয়ে ওঠে। আমন্ত্রিত অতিথির তালিকায় কারা আছেন, তারা কী সুবিধা দিতে পারেন—এসব হিসাব যখন অনুষ্ঠানের নেপথ্যে কাজ করে, তখন বিয়ের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। ব্যক্তিগত আনন্দের অনুষ্ঠান তখন প্রভাব প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত হয়।

কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের অনুষ্ঠান করতে লাগবে আয়কর রিটার্নের রসিদ

অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের বাস্তবতা ভিন্ন। আজ অনেকেই বিয়েকে জীবনের বাধ্যতামূলক অধ্যায় হিসেবে দেখেন না। উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মজীবনের অনিশ্চয়তা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার গুরুত্ব তাদের নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। ফলে কোথাও অবিবাহিত থাকার সিদ্ধান্তকে স্বীকৃতি দিয়ে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, কোথাও বন্ধুরা বিয়ের উপহারের পরিবর্তে “অবিবাহিত জীবন” উদযাপন করেও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এসব উদ্যোগের সঙ্গে একমত হওয়া বা না হওয়া ভিন্ন বিষয়; তবে এগুলো অন্তত সামাজিক বাস্তবতার পরিবর্তনকে স্বীকার করার চেষ্টা।

বিশ্বের অন্য সমাজেও বিয়ের উপহারের সংস্কৃতি বদলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত “ওয়েডিং রেজিস্ট্রি” পদ্ধতিতে নবদম্পতি আগে থেকেই প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা তৈরি করেন। অতিথিরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেই তালিকা থেকে উপহার দেন। এতে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি কমে, অপচয় হ্রাস পায় এবং উপহার সত্যিকার অর্থে নতুন সংসারের কাজে লাগে। এখানে উদ্দেশ্য সম্পর্ককে আর্থিক লেনদেনে পরিণত করা নয়; বরং শুভেচ্ছাকে বাস্তব সহায়তায় রূপ দেওয়া।

সমাজের আচার-অনুষ্ঠান সময়ের সঙ্গে বদলাবে, এটাই স্বাভাবিক। ছোট পরিসরের বিয়ে, ডিজিটাল আমন্ত্রণ কিংবা নতুন ধরনের শুভেচ্ছা বিনিময়—এসব পরিবর্তনকে অস্বাভাবিক বলা যায় না। কিন্তু পরিবর্তনের নামে প্রতারণা, সামাজিক মর্যাদা ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ অথবা সম্পর্ককে বিনিয়োগের খাতায় পরিণত করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কারণ একটি সমাজের শক্তি কেবল তার অর্থনৈতিক সক্ষমতায় নয়, পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপরও দাঁড়িয়ে থাকে।

শেষ পর্যন্ত বিয়ের আসল মূল্য নির্ধারিত হয় না খামের ভেতরের অঙ্ক দিয়ে। নির্ধারিত হয় মানুষের আন্তরিকতা, পারস্পরিক সম্মান এবং সম্পর্কের প্রতি আস্থায়। যদি সেই বিশ্বাসও লাভ-লোকসানের হিসাবের নিচে চাপা পড়ে যায়, তাহলে সামাজিক আচার যতই জাঁকজমকপূর্ণ হোক, তার ভেতরের মানবিক অর্থ ক্রমশ শূন্য হয়ে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন

শুভেচ্ছার অর্থ যখন হিসাবের খাতায় বন্দী

০৮:০০:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

বিয়ে একসময় ছিল দুটি মানুষের নতুন জীবনের সূচনা, দুটি পরিবারের সামাজিক বন্ধন এবং শুভকামনা বিনিময়ের উপলক্ষ। কিন্তু ইতিহাস বলছে, এই অনুষ্ঠান বহু যুগ ধরেই সম্পদ, মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থান প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও পরিণত হয়েছে। প্রাচীন সমাজ থেকে আধুনিক নগরজীবন—সময় বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু সামাজিক আচারকে ব্যক্তিগত লাভের উপায়ে রূপান্তর করার প্রবণতা যেন বারবার ফিরে এসেছে। আজ প্রশ্ন উঠছে, আমরা কি এখনও মানুষকে অভিনন্দন জানাই, নাকি কেবল অর্থনৈতিক হিসাব মেলাই?

প্রায় তিন হাজার বছর আগে এথেন্সে বিয়েকে ঘিরে পণ ও উপহারের প্রতিযোগিতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে রাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। তৎকালীন শাসক সোলন পণের পরিমাণ সীমিত করেন, মূল্যবান অলংকারের পরিবর্তে সাধারণ গৃহস্থালি সামগ্রী উপহার দেওয়ার নিয়ম চালু করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—বিয়ে যেন অর্থ আদায় বা সম্পদ উদ্ধারের কৌশলে পরিণত না হয়। ইতিহাসের সেই উদ্যোগ দেখায়, সামাজিক আচার যখন বাজারের যুক্তিতে পরিচালিত হতে শুরু করে, তখন তা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নতুন নয়।

আজকের সমাজে প্রযুক্তি সেই পুরোনো প্রবণতাকে আরও নতুন রূপ দিয়েছে। ডিজিটাল আমন্ত্রণপত্র, অনলাইন অর্থ স্থানান্তর এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার শুভেচ্ছা পাঠানোকে সহজ করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে অপব্যবহারের সুযোগও বাড়িয়েছে। এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে অস্তিত্বহীন বিয়ের আমন্ত্রণ পাঠিয়ে পরিচিতদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে। কোথাও অবসরের আগে শেষবারের মতো পরিচিতদের আবেগকে কাজে লাগানো হয়েছে, কোথাও আবার সামাজিক সম্পর্ককে ব্যবহার করা হয়েছে আর্থিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যম হিসেবে। এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন প্রতারণা নয়; এগুলো এমন এক মানসিকতার প্রকাশ, যেখানে সামাজিক বিশ্বাসকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই পরিবর্তনের আরেকটি দিক আরও সূক্ষ্ম। অনেক ক্ষেত্রে বিয়ের উপহার আর নিছক শুভেচ্ছার প্রতীক নয়; বরং অতীতে দেওয়া অর্থ ভবিষ্যতে ফেরত পাওয়ার এক অলিখিত চুক্তিতে পরিণত হয়েছে। বহু বছর যোগাযোগ না থাকা মানুষও সন্তানের বিয়ের সময় পুরোনো পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এই প্রত্যাশায় যে, আগে যা দিয়েছিলেন, এবার তা সমপরিমাণে ফিরে পাবেন। এতে আন্তরিকতা নয়, বরং লেনদেনের হিসাবই সম্পর্কের কেন্দ্রে চলে আসে। সামাজিক অনুষ্ঠান তখন আনন্দের বদলে দেনা-পাওনার খাতা হয়ে দাঁড়ায়।

ক্ষমতা ও প্রভাবের ব্যবহারও এই সংস্কৃতিকে আরও বিকৃত করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজেদের অবস্থান কাজে লাগিয়ে এমন আয়োজন করেন, যেখানে উপস্থিতির চেয়ে অর্থসংগ্রহই যেন মুখ্য হয়ে ওঠে। আমন্ত্রিত অতিথির তালিকায় কারা আছেন, তারা কী সুবিধা দিতে পারেন—এসব হিসাব যখন অনুষ্ঠানের নেপথ্যে কাজ করে, তখন বিয়ের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। ব্যক্তিগত আনন্দের অনুষ্ঠান তখন প্রভাব প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত হয়।

কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের অনুষ্ঠান করতে লাগবে আয়কর রিটার্নের রসিদ

অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের বাস্তবতা ভিন্ন। আজ অনেকেই বিয়েকে জীবনের বাধ্যতামূলক অধ্যায় হিসেবে দেখেন না। উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মজীবনের অনিশ্চয়তা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার গুরুত্ব তাদের নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। ফলে কোথাও অবিবাহিত থাকার সিদ্ধান্তকে স্বীকৃতি দিয়ে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, কোথাও বন্ধুরা বিয়ের উপহারের পরিবর্তে “অবিবাহিত জীবন” উদযাপন করেও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এসব উদ্যোগের সঙ্গে একমত হওয়া বা না হওয়া ভিন্ন বিষয়; তবে এগুলো অন্তত সামাজিক বাস্তবতার পরিবর্তনকে স্বীকার করার চেষ্টা।

বিশ্বের অন্য সমাজেও বিয়ের উপহারের সংস্কৃতি বদলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত “ওয়েডিং রেজিস্ট্রি” পদ্ধতিতে নবদম্পতি আগে থেকেই প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা তৈরি করেন। অতিথিরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেই তালিকা থেকে উপহার দেন। এতে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি কমে, অপচয় হ্রাস পায় এবং উপহার সত্যিকার অর্থে নতুন সংসারের কাজে লাগে। এখানে উদ্দেশ্য সম্পর্ককে আর্থিক লেনদেনে পরিণত করা নয়; বরং শুভেচ্ছাকে বাস্তব সহায়তায় রূপ দেওয়া।

সমাজের আচার-অনুষ্ঠান সময়ের সঙ্গে বদলাবে, এটাই স্বাভাবিক। ছোট পরিসরের বিয়ে, ডিজিটাল আমন্ত্রণ কিংবা নতুন ধরনের শুভেচ্ছা বিনিময়—এসব পরিবর্তনকে অস্বাভাবিক বলা যায় না। কিন্তু পরিবর্তনের নামে প্রতারণা, সামাজিক মর্যাদা ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ অথবা সম্পর্ককে বিনিয়োগের খাতায় পরিণত করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কারণ একটি সমাজের শক্তি কেবল তার অর্থনৈতিক সক্ষমতায় নয়, পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপরও দাঁড়িয়ে থাকে।

শেষ পর্যন্ত বিয়ের আসল মূল্য নির্ধারিত হয় না খামের ভেতরের অঙ্ক দিয়ে। নির্ধারিত হয় মানুষের আন্তরিকতা, পারস্পরিক সম্মান এবং সম্পর্কের প্রতি আস্থায়। যদি সেই বিশ্বাসও লাভ-লোকসানের হিসাবের নিচে চাপা পড়ে যায়, তাহলে সামাজিক আচার যতই জাঁকজমকপূর্ণ হোক, তার ভেতরের মানবিক অর্থ ক্রমশ শূন্য হয়ে যাবে।