জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিনের তাণ্ডবে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। প্রবল বাতাসে প্রায় ১৪ হাজার ভবন বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। ঝড়টি এখন চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য আঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে চীন একাধিক বন্দর বন্ধ করেছে, শতাধিক ফেরি চলাচল স্থগিত করেছে এবং বিমান ও রেল যোগাযোগেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
শনিবার দুপুরে জাপানের আবহাওয়া সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টাইফুন ডলফিন ওকিনাওয়ার কুমে দ্বীপের প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।
টাইফুনটির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার। তবে দমকা বাতাসের গতি ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠে যায়। এই প্রবল বাতাসেই ওকিনাওয়ার বিভিন্ন এলাকায় মানুষজন পড়ে গিয়ে আহত হন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।
প্রবল ঝড়ে আহত বয়স্ক মানুষ
ওকিনাওয়া প্রশাসন জানিয়েছে, ঝড়ের প্রভাবে পাঁচজন বয়স্ক মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের কারও আঘাত জীবনহানির মতো গুরুতর নয়। আহতদের মধ্যে তিনজন প্রবল বাতাসের ধাক্কায় পড়ে যান।
ঝড়ের কারণে ওকিনাওয়ায় বিমান চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দেশটির বড় দুই বিমান সংস্থা ওই অঞ্চলের বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করেছে। ফলে দ্বীপাঞ্চলের সঙ্গে জাপানের অন্যান্য এলাকার যোগাযোগে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।
ওকিনাওয়ার পাশাপাশি কাগোশিমা প্রিফেকচারের আমামি দ্বীপপুঞ্জেও টাইফুনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
এবার চীনের দিকে ডলফিন
জাপানের পর টাইফুন ডলফিনের সম্ভাব্য গন্তব্য চীনের পূর্ব ও দক্ষিণ উপকূল। চীনের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে ঝড়টি দেশটির উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
ঝড়টি সবচেয়ে সম্ভাব্যভাবে ঝেজিয়াং প্রদেশের ঝৌশান শহর এবং ফুজিয়ান প্রদেশের ফুতিং শহরের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকায় আঘাত করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ঝড়ের কেন্দ্রের কাছে বাতাসের গতিবেগ সেকেন্ডে ৩৮ থেকে ৪৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর সঙ্গে থাকবে ভারী বৃষ্টিপাত ও প্রবল ঝোড়ো বাতাস।
পূর্ব চীনের বিভিন্ন এলাকায় ১২ আগস্ট পর্যন্ত ঝড় ও বৃষ্টির প্রভাব থাকতে পারে। ঝেজিয়াংয়ের কিছু এলাকায় ৬০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

সর্বোচ্চ সতর্কতায় ঝেজিয়াং
টাইফুনের আশঙ্কায় ঝেজিয়াং প্রদেশ উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে। বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ১৬২টি যাত্রীবাহী ফেরি চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
নিংবো লিশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শনিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববারের সব ফ্লাইটও স্থগিত করা হয়েছে।
শাংহাইয়ের ইয়াংশান বন্দর থেকেও শুক্রবার রাতের মধ্যে জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে ইয়াংজি নদীর বদ্বীপ অঞ্চলের কিছু রেল পরিষেবাও রোববার থেকে স্থগিত করা হবে।
এতে চীনের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চলে পণ্য পরিবহন, যাত্রী চলাচল এবং বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
তাইওয়ানেও বাতিল ৬৩ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট
টাইফুন ডলফিনের প্রভাব থেকে বাদ পড়েনি তাইওয়ানও। দেশটির সরকার জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে ৬৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
সপ্তাহান্তে তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। তবে শনিবার পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কোনো এলাকায় বাধ্যতামূলকভাবে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়নি।
টাইফুনের মধ্যেই চীন-তাইওয়ান উত্তেজনা
ডলফিনকে ঘিরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি নতুন করে সামনে এসেছে চীন ও তাইওয়ানের রাজনৈতিক বিরোধ।
চীন জানিয়েছে, টাইফুনের সময় তাইওয়ান প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে চীনের সামুদ্রিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
তবে তাইওয়ান এই নির্দেশ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাইপেই বলেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচল সীমিত করার কোনো অধিকার চীনের নেই। তাইওয়ান চীনের এই নির্দেশকে ‘হাস্যকর’ বলেও সমালোচনা করেছে।
চীন গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাইওয়ান প্রণালির ওপরও বেইজিংয়ের দাবি রয়েছে। তবে তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
একসঙ্গে তিন অঞ্চলে দুর্যোগের আশঙ্কা
টাইফুন ডলফিনের গতিপথ এখন জাপান, চীন ও তাইওয়ানের আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। জাপানে ইতোমধ্যে শক্তিশালী বাতাস, বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। চীন সম্ভাব্য বড় ধরনের আঘাতের আগেই বন্দর, ফেরি, বিমান ও রেল যোগাযোগে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। তাইওয়ানেও বাতিল হয়েছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত হলে উপকূলীয় এলাকায় আকস্মিক বন্যা, জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠায় জাহাজ ও ফেরি চলাচলেও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এখন নজর টাইফুন ডলফিনের পরবর্তী গতিপথের দিকে। ঝড়টি কোন উপকূলে ঠিক কতটা শক্তি নিয়ে আঘাত করবে, তার ওপর নির্ভর করছে পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতি।
জাপান থেকে চীন, চীন থেকে তাইওয়ান—এক বিশাল অঞ্চলে এখন ডলফিনের গতিপথই হয়ে উঠেছে প্রধান উদ্বেগের বিষয়।
মেটা বর্ণনা: জাপানের ওকিনাওয়ায় ২১৬ কিমি বেগের দমকা হাওয়ায় টাইফুন ডলফিনের তাণ্ডব। চীনে বন্ধ বন্দর-ফেরি, বাতিল ফ্লাইট।
টাইফুন ডলফিনের তাণ্ডব
ওকিনাওয়া #টাইফুনডলফিন #জাপান #চীন #তাইওয়ান #ঘূর্ণিঝড় #প্রাকৃতিকদুর্যোগ #ঝড় #বন্দর #পূর্বএশিয়া
ওকিনাওয়ায় ভয়ংকর তাণ্ডব চালাচ্ছে টাইফুন ডলফিন! 
দমকা বাতাসের গতি উঠেছে ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত। ইতোমধ্যে পাঁচজন আহত এবং প্রায় ১৪ হাজার ভবন বিদ্যুৎহীন। বাতিল হয়েছে বিমান চলাচল।
এবার চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে শক্তিশালী এই টাইফুন। ঝড়ের আশঙ্কায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বন্দর, স্থগিত ১৬২টি যাত্রীবাহী ফেরি, বাতিল হয়েছে ফ্লাইট। তাইওয়ানেও বাতিল হয়েছে ৬৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
এর মধ্যেই তাইওয়ান প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা।
কোথায় আঘাত হানবে ডলফিন? কতটা ভয়ংকর হতে পারে এর পরবর্তী তাণ্ডব?
Sarakhon Report 



















