ভারতে এক বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন তিন বাংলাদেশি নারী। ভালো বেতনে বিউটি পারলারে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দালালদের মাধ্যমে তাদের ভারতে পাচার করা হয়েছিল।
বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে তাদের বেনাপোল বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ফিরে আসা তিন নারী হলেন সাতক্ষীরার রিয়া খাতুন (২৫), নড়াইলের শিলপি খাতুন (২৬) ও পাবনার শিমলা খাতুন (২৬)।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, প্রায় দুই বছর আগে ভালো বেতনে বিউটি পারলারে চাকরির কথা বলে দালালরা ওই তিন নারীকে প্রলোভিত করেন। পরে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতের মুম্বাইয়ে চলে যান।
মুম্বাইয়ে বিউটি পারলারে কাজ করার সময় ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে আদালত প্রত্যেককে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।
কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একটি ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠন তাদের দায়িত্ব নেয়। সংগঠনটি তাদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখে এবং দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিন নারীকে বেনাপোল বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাদের দায়িত্ব নিয়ে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি কর্মকর্তা মুহিত হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দালালদের প্রলোভনে বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়া এসব নারীর দেশে ফেরার ঘটনায় মানবপাচারের ঝুঁকি নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কাজের প্রলোভনে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার আগে যথাযথ যাচাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















