চীনা পণ্য তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ঘুরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢোকানোর অভিযোগে নতুন করে সরব হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই অবৈধ পণ্য পুনঃরপ্তানি ব্যবস্থার কারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ শুল্ক ও রাজস্ব হারাচ্ছে। ৪০টির বেশি দেশের দিকে অভিযোগের তীর
হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা পণ্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে না পাঠিয়ে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে পণ্যের প্রকৃত উৎপত্তি গোপন করে তুলনামূলক কম শুল্কের সুবিধা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এ ধরনের একটি ছায়া বাণিজ্য নেটওয়ার্কের সঙ্গে ৪০টির বেশি দেশ জড়িত থাকার ঝুঁকি রয়েছে। তালিকায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি কানাডা, মেক্সিকো, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারের নাম এসেছে।
তবে কোনো দেশের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বা সরবরাহব্যবস্থায় পরিবর্তন ঘটলেই তা অবৈধ পণ্য পুনঃরপ্তানির প্রমাণ নয়—হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনেও এই বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে।
বছরে কয়েক হাজার কোটি ডলারের রাজস্ব ক্ষতির দাবি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা পণ্যের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন হিসাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় অনুমান প্রায় ৬ হাজার কোটি ডলার হলেও বিভিন্ন বিশ্লেষণে তা ৪ হাজার কোটি থেকে ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, শুল্ক ফাঁকির কারণে বছরে প্রায় ১৯ থেকে ২৬ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারাতে পারে দেশটি। একই সঙ্গে এর প্রভাব পড়ছে মার্কিন শিল্প ও কর্মসংস্থানের ওপর বলেও দাবি করা হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নজরদারি বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র
ট্রাম্প প্রশাসন এখন এই ধরনের পণ্য পুনঃরপ্তানি শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। পণ্যের উৎস, চালানের পথ এবং বাণিজ্যিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সন্দেহজনক চালান শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো, কাগজপত্রে কোনো পণ্যের উৎপত্তি তৃতীয় দেশে দেখানো হলেও সেটি আসলে চীন থেকে এসেছে কি না, তা আরও দ্রুত শনাক্ত করা। এর মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি বন্ধ এবং সন্দেহজনক আমদানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
এশিয়ার বাণিজ্যে বাড়তে পারে চাপ
চীনকেন্দ্রিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এই উদ্যোগ নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশে চীনা কাঁচামাল বা যন্ত্রাংশ এনে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হয়, তাদের উৎপত্তি-নিয়ম ও বাণিজ্যিক নথিপত্র আরও কঠোরভাবে যাচাইয়ের মুখে পড়তে পারে।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর জন্য শুধু চীনা পণ্যের ওপর নির্ভরতা নয়, পণ্যের প্রকৃত উৎপত্তি প্রমাণ করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সংঘাতকে সরাসরি শুল্ক আরোপের বাইরে আরও একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এশিয়ার আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থার ওপরও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















