০২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
ভারত খড়গের সভাস্থল ‘শুদ্ধিকরণ’ নিয়ে উত্তাল উত্তরাখণ্ড, বিজেপির বিরুদ্ধে জাতপাতের অভিযোগ মোদির বিদেশনীতি নিয়ে রাহুলের কটাক্ষ, ‘মোদিভক্ত’ হয়ে দেশের লাভ হবে না: খার্গে উত্তরাখণ্ডের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধস ও পানির স্রোত, আটকা পড়ার আশঙ্কা ৬ শ্রমিকের তরুণ শক্তির আবেগে সাজছে ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস ৫৪৩ আসনেই লোকসভা স্থির রাখার দাবি, মোদিকে চিঠি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর রাজস্থানে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পথে বড় পদক্ষেপ, ২৯ প্রজাতির গাছ পাবে বিশেষ সুরক্ষা ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে ৫০০ বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা, বাড়ানো হলো নিরাপত্তা পশ্চিম এশিয়ার সংকটেও ভারতের পণ্য রপ্তানিতে ২০ শতাংশের উল্লম্ফন, বদলাচ্ছে বাণিজ্যের মানচিত্র ক্যামেরার ফ্রেমে বদলে যাওয়া ভারত: নেহরু-গান্ধী থেকে ক্ষমতার রাজনীতির দৃশ্যপট কৃষকের ঘরে ধান, অথচ বিক্রির পথ নেই—কৃষ্ণসাগর অবরোধে ইউক্রেনের কৃষিতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

ব্রিটেনে খাদ্যপণ্যের দাম কমার স্বস্তি, তবে সামনে নতুন শঙ্কা

ব্রিটেনে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে। চলতি বছরের জুনে দেশটিতে খাদ্য ও অ্যালকোহলবিহীন পানীয়ের দাম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ। এটি প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হার এবং মে মাসের ২ দশমিক ২ শতাংশের তুলনায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

অথচ কয়েক মাস আগেও পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর জ্বালানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্রিটেনের খাদ্যশিল্প আশঙ্কা করেছিল, বছরের শেষ নাগাদ খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। কিন্তু সেই আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নেয়নি। তীব্র বাজার প্রতিযোগিতা, ভোক্তাদের বাড়তি দাম দিতে অনীহা এবং সরবরাহকারীদের আগাম ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কৌশল খাদ্যপণ্যের দাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করেছে।

প্রত্যাশার চেয়েও অনেক কম মূল্যস্ফীতি

জুনের ১ দশমিক ৭ শতাংশ খাদ্য মূল্যস্ফীতি ব্রিটেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বাভাসের তুলনায়ও অনেক কম। এপ্রিল মাসে জুনের জন্য ব্যাংকটি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস দিয়েছিল। অন্যদিকে খাদ্য ও পানীয় শিল্পের সংগঠন বছরের শেষ নাগাদ ৯ শতাংশের বেশি মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল।

Supermarket Price War Keeps UK Food Inflation at Bay | Asian Trader

বাস্তবে সেই পূর্বাভাসের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দাম অনেকটাই স্থিতিশীল রয়েছে। এর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চাপে থাকা ব্রিটিশ পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকারের কাছেও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।

তীব্র প্রতিযোগিতাই বড় কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সুপারমার্কেটগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতা। টেসকো, সেইন্সবারিজ, আসডা, মরিসনস, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার এবং কমদামি পণ্যের বিক্রেতা আলডি ও লিডলের মধ্যে ক্রেতা ধরে রাখার লড়াই এখন অত্যন্ত তীব্র।

ফলে কাঁচামাল, জ্বালানি, মজুরি ও করের ব্যয় বাড়লেও বিক্রেতারা তার পুরোটা ক্রেতার ওপর চাপিয়ে দিতে পারছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান বরং বাজার ধরে রাখতে কিছু ক্ষেত্রে নিজেদের মুনাফার অংশ কমিয়ে পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে কম রাখছে।

বিশেষ করে তাজা ও ঠান্ডা খাবারের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ এসব পণ্যের দাম ক্রেতাদের দোকান বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কমদামি নিজস্ব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে

ব্র্যান্ডভিত্তিক খাদ্যপণ্যের নির্মাতারাও এখন দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সতর্ক। অতিরিক্ত দাম বাড়ালে ক্রেতারা আরও বেশি করে সুপারমার্কেটের নিজস্ব কমদামি পণ্যের দিকে চলে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কা রয়েছে।

UK food inflation falls despite war-driven cost pressures | Al Mayadeen English

ব্রিটেনে দীর্ঘদিন ধরে জীবনযাত্রার মানের দুর্বল প্রবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ ভোক্তাদের আরও বেশি মূল্যসচেতন করে তুলেছে। ফলে দোকানগুলোতে ছাড়ের পরিমাণও বেড়েছে। জুনের মাঝামাঝি চার সপ্তাহে মোট মুদি পণ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কোনো না কোনো ছাড়ের আওতায় বিক্রি হয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা থেকে শিক্ষা

রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর জ্বালানি ও কাঁচামালের দামে যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা ব্রিটেনের খাদ্যশিল্পকে নতুন কৌশল নিতে বাধ্য করে। তখন অনেক সরবরাহকারী হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ব্যয়ের জন্য প্রস্তুত ছিল না।

এবার পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। সরবরাহকারীরা জ্বালানি ও খাদ্য উপকরণের দাম আগেভাগেই নির্ধারণ করে রাখার মতো ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৌশল ব্যবহার করছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সরাসরি ভোক্তাদের ওপর পড়ছে না।

কোকো ও কফির মতো কিছু কৃষিপণ্যের দামে সাম্প্রতিক স্বস্তিও খাদ্যশিল্পকে কিছুটা সহায়তা করেছে।

ব্যয় কমাতে প্রযুক্তির ব্যবহার

খাদ্যপণ্যের দাম কম রাখার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সুপারমার্কেটগুলো। টেসকো গত চার বছরে ২২০ কোটি পাউন্ডের বেশি ব্যয় সাশ্রয় করেছে। চলতি বছর আরও ৫০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, পণ্যের দাম কমানোর সঠিক সময় নির্ধারণ এবং খাদ্য অপচয় কমানোর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে এই ব্যয় কমানো হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় কমানো এবং ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক কম দাম ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে।

UK grocery inflation slows, easing fears of Iran war hit, says Worldpanel | Reuters

মুনাফার ওপর বাড়ছে চাপ

তবে খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার এই কৌশলের আরেকটি দিকও রয়েছে। সুপারমার্কেটগুলো ক্রেতাদের ওপর বাড়তি ব্যয় চাপিয়ে দিতে না পারায় তাদের মুনাফার ওপর চাপ বাড়ছে।

টেসকো ও সেইন্সবারিজ—দুই প্রতিষ্ঠানই চলতি বছরের মুনাফা নিয়ে আগের তুলনায় বিস্তৃত পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের পূর্বাভাসের নিম্নসীমা ইঙ্গিত করছে, গত বছরের তুলনায় মুনাফা কমেও যেতে পারে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, আর কতদিন সুপারমার্কেটগুলো নিজেদের মুনাফা কমিয়ে ক্রেতাদের জন্য দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে।

খরা নিয়ে নতুন আশঙ্কা

খাদ্য মূল্যস্ফীতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সামনে নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ব্রিটেনে চলমান খরা আগামী বছর খাদ্যপণ্যের দামে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হলে সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং তার প্রভাব বাজারদরে পড়তে পারে। ফলে চলতি বছরের স্বস্তি আগামী বছরও অব্যাহত থাকবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

ব্রিটেনের খাদ্যবাজার তাই একদিকে প্রতিযোগিতা, ব্যয় সাশ্রয় এবং সরবরাহকারীদের আগাম প্রস্তুতির কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে; অন্যদিকে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি ও বাড়তে থাকা পরিচালন ব্যয় ভবিষ্যতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত খড়গের সভাস্থল ‘শুদ্ধিকরণ’ নিয়ে উত্তাল উত্তরাখণ্ড, বিজেপির বিরুদ্ধে জাতপাতের অভিযোগ

ব্রিটেনে খাদ্যপণ্যের দাম কমার স্বস্তি, তবে সামনে নতুন শঙ্কা

১২:৫৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ব্রিটেনে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে। চলতি বছরের জুনে দেশটিতে খাদ্য ও অ্যালকোহলবিহীন পানীয়ের দাম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ। এটি প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হার এবং মে মাসের ২ দশমিক ২ শতাংশের তুলনায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

অথচ কয়েক মাস আগেও পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর জ্বালানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্রিটেনের খাদ্যশিল্প আশঙ্কা করেছিল, বছরের শেষ নাগাদ খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। কিন্তু সেই আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নেয়নি। তীব্র বাজার প্রতিযোগিতা, ভোক্তাদের বাড়তি দাম দিতে অনীহা এবং সরবরাহকারীদের আগাম ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কৌশল খাদ্যপণ্যের দাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করেছে।

প্রত্যাশার চেয়েও অনেক কম মূল্যস্ফীতি

জুনের ১ দশমিক ৭ শতাংশ খাদ্য মূল্যস্ফীতি ব্রিটেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বাভাসের তুলনায়ও অনেক কম। এপ্রিল মাসে জুনের জন্য ব্যাংকটি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস দিয়েছিল। অন্যদিকে খাদ্য ও পানীয় শিল্পের সংগঠন বছরের শেষ নাগাদ ৯ শতাংশের বেশি মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল।

Supermarket Price War Keeps UK Food Inflation at Bay | Asian Trader

বাস্তবে সেই পূর্বাভাসের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দাম অনেকটাই স্থিতিশীল রয়েছে। এর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চাপে থাকা ব্রিটিশ পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকারের কাছেও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।

তীব্র প্রতিযোগিতাই বড় কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সুপারমার্কেটগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতা। টেসকো, সেইন্সবারিজ, আসডা, মরিসনস, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার এবং কমদামি পণ্যের বিক্রেতা আলডি ও লিডলের মধ্যে ক্রেতা ধরে রাখার লড়াই এখন অত্যন্ত তীব্র।

ফলে কাঁচামাল, জ্বালানি, মজুরি ও করের ব্যয় বাড়লেও বিক্রেতারা তার পুরোটা ক্রেতার ওপর চাপিয়ে দিতে পারছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান বরং বাজার ধরে রাখতে কিছু ক্ষেত্রে নিজেদের মুনাফার অংশ কমিয়ে পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে কম রাখছে।

বিশেষ করে তাজা ও ঠান্ডা খাবারের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ এসব পণ্যের দাম ক্রেতাদের দোকান বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কমদামি নিজস্ব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে

ব্র্যান্ডভিত্তিক খাদ্যপণ্যের নির্মাতারাও এখন দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সতর্ক। অতিরিক্ত দাম বাড়ালে ক্রেতারা আরও বেশি করে সুপারমার্কেটের নিজস্ব কমদামি পণ্যের দিকে চলে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কা রয়েছে।

UK food inflation falls despite war-driven cost pressures | Al Mayadeen English

ব্রিটেনে দীর্ঘদিন ধরে জীবনযাত্রার মানের দুর্বল প্রবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ ভোক্তাদের আরও বেশি মূল্যসচেতন করে তুলেছে। ফলে দোকানগুলোতে ছাড়ের পরিমাণও বেড়েছে। জুনের মাঝামাঝি চার সপ্তাহে মোট মুদি পণ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কোনো না কোনো ছাড়ের আওতায় বিক্রি হয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা থেকে শিক্ষা

রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর জ্বালানি ও কাঁচামালের দামে যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা ব্রিটেনের খাদ্যশিল্পকে নতুন কৌশল নিতে বাধ্য করে। তখন অনেক সরবরাহকারী হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ব্যয়ের জন্য প্রস্তুত ছিল না।

এবার পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। সরবরাহকারীরা জ্বালানি ও খাদ্য উপকরণের দাম আগেভাগেই নির্ধারণ করে রাখার মতো ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৌশল ব্যবহার করছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সরাসরি ভোক্তাদের ওপর পড়ছে না।

কোকো ও কফির মতো কিছু কৃষিপণ্যের দামে সাম্প্রতিক স্বস্তিও খাদ্যশিল্পকে কিছুটা সহায়তা করেছে।

ব্যয় কমাতে প্রযুক্তির ব্যবহার

খাদ্যপণ্যের দাম কম রাখার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সুপারমার্কেটগুলো। টেসকো গত চার বছরে ২২০ কোটি পাউন্ডের বেশি ব্যয় সাশ্রয় করেছে। চলতি বছর আরও ৫০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, পণ্যের দাম কমানোর সঠিক সময় নির্ধারণ এবং খাদ্য অপচয় কমানোর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে এই ব্যয় কমানো হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় কমানো এবং ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক কম দাম ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে।

UK grocery inflation slows, easing fears of Iran war hit, says Worldpanel | Reuters

মুনাফার ওপর বাড়ছে চাপ

তবে খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার এই কৌশলের আরেকটি দিকও রয়েছে। সুপারমার্কেটগুলো ক্রেতাদের ওপর বাড়তি ব্যয় চাপিয়ে দিতে না পারায় তাদের মুনাফার ওপর চাপ বাড়ছে।

টেসকো ও সেইন্সবারিজ—দুই প্রতিষ্ঠানই চলতি বছরের মুনাফা নিয়ে আগের তুলনায় বিস্তৃত পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের পূর্বাভাসের নিম্নসীমা ইঙ্গিত করছে, গত বছরের তুলনায় মুনাফা কমেও যেতে পারে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, আর কতদিন সুপারমার্কেটগুলো নিজেদের মুনাফা কমিয়ে ক্রেতাদের জন্য দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে।

খরা নিয়ে নতুন আশঙ্কা

খাদ্য মূল্যস্ফীতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সামনে নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ব্রিটেনে চলমান খরা আগামী বছর খাদ্যপণ্যের দামে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হলে সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং তার প্রভাব বাজারদরে পড়তে পারে। ফলে চলতি বছরের স্বস্তি আগামী বছরও অব্যাহত থাকবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

ব্রিটেনের খাদ্যবাজার তাই একদিকে প্রতিযোগিতা, ব্যয় সাশ্রয় এবং সরবরাহকারীদের আগাম প্রস্তুতির কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে; অন্যদিকে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি ও বাড়তে থাকা পরিচালন ব্যয় ভবিষ্যতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।