ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে অভিযোগ করেছেন, সংসদে বিরোধীদের এড়িয়ে চলছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে কাজ করা সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেন রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি মোদির বিদেশনীতি নিয়ে ব্যঙ্গ করে বলেন, বিদেশনীতি যেন বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলিঙ্গনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে।
নিজের বক্তব্য বোঝাতে সম্মেলনের প্রধান সন্দীপ দীক্ষিতকে আলিঙ্গনও করেন রাহুল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিদেশনীতি যে বিশ্বনেতাদের আলিঙ্গন করার বিষয়—এমন ধারণা প্রধানমন্ত্রী কোথা থেকে পেলেন?
ভারতের ওপর ‘শৃঙ্খলা’ চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, ভারতকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে আটকে রাখতে চাইছে বিজেপি ও আরএসএস। তাঁর মতে, দেশের মানুষের মতপ্রকাশের সুযোগ তৈরি করাই বিরোধীদের দায়িত্ব।
জন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজেদের কথা বলতে চাইছেন। অন্যদিকে সরকার তাদের ওপর একটি নির্দিষ্ট ‘শৃঙ্খলা’ চাপিয়ে দিয়ে সেই মতপ্রকাশের পথ বন্ধ করতে চাইছে।
রাহুল বলেন, বিজেপি-আরএসএসের রাজনৈতিক দর্শন এমন একটি ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া, যা তাদের এবং কিছু নির্দিষ্ট মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে। কংগ্রেসের লক্ষ্য সেই ব্যবস্থা ভেঙে ভারতকে নিজের কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, মোদি ও অমিত শাহ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত বিরোধীরা তাদের ওপর রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখবে। এই লড়াইকে তিনি ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও অহিংসার ভিত্তিতে পরিচালিত করার কথা বলেন।
‘মোদিভক্ত’ হয়ে দেশের লাভ হবে না: খার্গে
এর আগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও অমিত শাহের বিরুদ্ধে সংসদে বিরোধীদের এড়িয়ে চলার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, প্রায় ২০ দিন ধরে তাঁরা বিরোধীদের মুখোমুখি হচ্ছেন না।

খার্গে বলেন, সংসদ প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রচারের মঞ্চ নয়। এটি এমন একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে বিভিন্ন মতামত উপস্থাপন, আলোচনা ও প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করলেই দেশের উপকার হবে না। দেশের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে।
বিরোধীদের সঙ্গে সরকারের সংঘাত আরও তীব্র
রাহুল গান্ধী ও খার্গের বক্তব্যে স্পষ্ট, সংসদীয় কার্যক্রম, সরকারের নীতি এবং বিরোধীদের মতপ্রকাশের সুযোগ নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে। একদিকে কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে বিজেপি-আরএসএসের রাজনৈতিক অবস্থানকে সরাসরি আক্রমণ করে জনমত গঠনের চেষ্টা করছেন রাহুল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















