০৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
গ্যাস আছে, কিন্তু গ্যাস নেই: বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের আসল হিসাব সবজির দামে নতুন ঝড়: সার সংকট, বিশ্ববাজার ও বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের খাবারের ভবিষ্যৎ জঙ্গিদের হাতে রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা, সাভার-আশুলিয়ায় পরপর উদ্ধারে পুলিশের উদ্বেগ নেপালে তিব্বতবিষয়ক সম্মেলন বাতিল, চীনের চাপ নিয়ে তীব্র বিতর্ক  ভারত নান্দেডের গুরুদ্বারে সুখবীর বাদলের ওপর হামলা, হাতে সামান্য আঘাত বিরোধীদের ঐক্যে চাপে মোদি সরকার, পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ বিল ঠেকানোর দাবি কংগ্রেসের ভারত খড়গের সভাস্থল ‘শুদ্ধিকরণ’ নিয়ে উত্তাল উত্তরাখণ্ড, বিজেপির বিরুদ্ধে জাতপাতের অভিযোগ মোদির বিদেশনীতি নিয়ে রাহুলের কটাক্ষ, ‘মোদিভক্ত’ হয়ে দেশের লাভ হবে না: খার্গে উত্তরাখণ্ডের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধস ও পানির স্রোত, আটকা পড়ার আশঙ্কা ৬ শ্রমিকের তরুণ শক্তির আবেগে সাজছে ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস

 ভারত নান্দেডের গুরুদ্বারে সুখবীর বাদলের ওপর হামলা, হাতে সামান্য আঘাত

মহারাষ্ট্রের নান্দেড জেলার একটি গুরুদ্বারে সফরের সময় শিরোমণি অকালি দলের সভাপতি ও পাঞ্জাবের সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবারের এ ঘটনায় তাঁর হাতে সামান্য আঘাত লাগে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী নিহাং সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত এবং গুরুদ্বারের একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন।

কৃপাণ নিয়ে হামলা

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নান্দেডের মাতা সাহিব গুরুদ্বারে সুখবীর বাদলকে লক্ষ্য করে কৃপাণ দিয়ে হামলা চালানো হয়। তবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পরিদর্শক দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাঁকে রক্ষা করেন। হামলার সময় ওই পুলিশ কর্মকর্তাও আহত হন।

নান্দেডের পুলিশ সুপার অবিনাশ কুমার জানিয়েছেন, হামলায় দুজন জড়িত থাকার যে দাবি উঠেছিল, তা সঠিক নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারী একজনই এবং তিনি গুরুদ্বারের নিহাং স্বেচ্ছাসেবক।

May be an image of one or more people and text

নান্দেডের জেলা প্রশাসক রাহুল কারদিলে জানান, সুখবীর বাদলের হাতে সামান্য আঘাত লেগেছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত। ঘটনার সময় তাঁর স্ত্রী ও লোকসভা সদস্য হরসিমরত কৌর বাদলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

হামলাকারী গুরুদ্বারের কর্মী

পুলিশ সূত্রে হামলাকারী হিসেবে জাসপাল সিংয়ের নাম জানা গেছে। তিনি গত দুই বছর ধরে ওই গুরুদ্বারে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সুখবীর বাদলের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাঁর স্ত্রী হরসিমরত কৌর বাদলের সঙ্গে ফোনে কথা বলে খোঁজ নিয়েছেন।

অকালি দলের তদন্তের দাবি

Their mission is to take control of Punjab's situation...": Akali Dal chief  Sukhbir Singh Badal on Nanded Gurudwara attack

হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে শিরোমণি অকালি দল। দলের জ্যেষ্ঠ নেতা বিক্রম সিং মাজিথিয়া ঘটনাটিকে পাঞ্জাবের রাজনীতি ও শিখ সম্প্রদায়ের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্রে সুখবীর বাদলের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার হাতে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পাঞ্জাবের কংগ্রেস ও বিজেপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও হামলার নিন্দা করেছে। পাঞ্জাব বিধানসভার বিরোধী দলীয় নেতা প্রতাপ সিং বাজওয়া বলেন, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে সহিংসতার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। ধর্মীয় উপাসনালয়কে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার স্থান হিসেবেই বজায় রাখা উচিত।

এর আগেও হামলার চেষ্টা

সুখবীর সিং বাদল এর আগেও হামলার লক্ষ্য হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরের বাইরে তাঁর ওপর গুলি চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় তিনি একটি ধর্মীয় প্রায়শ্চিত্তের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছিলেন। সাবেক এক জঙ্গি ও খালিস্তানপন্থী সমর্থক তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালালেও তিনি অক্ষত ছিলেন।

নান্দেডের সর্বশেষ হামলার ঘটনায় তাই পাঞ্জাবের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে হামলার উদ্দেশ্য ও এর পেছনে অন্য কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস আছে, কিন্তু গ্যাস নেই: বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের আসল হিসাব

 ভারত নান্দেডের গুরুদ্বারে সুখবীর বাদলের ওপর হামলা, হাতে সামান্য আঘাত

০২:৩৫:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

মহারাষ্ট্রের নান্দেড জেলার একটি গুরুদ্বারে সফরের সময় শিরোমণি অকালি দলের সভাপতি ও পাঞ্জাবের সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবারের এ ঘটনায় তাঁর হাতে সামান্য আঘাত লাগে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী নিহাং সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত এবং গুরুদ্বারের একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন।

কৃপাণ নিয়ে হামলা

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নান্দেডের মাতা সাহিব গুরুদ্বারে সুখবীর বাদলকে লক্ষ্য করে কৃপাণ দিয়ে হামলা চালানো হয়। তবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পরিদর্শক দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাঁকে রক্ষা করেন। হামলার সময় ওই পুলিশ কর্মকর্তাও আহত হন।

নান্দেডের পুলিশ সুপার অবিনাশ কুমার জানিয়েছেন, হামলায় দুজন জড়িত থাকার যে দাবি উঠেছিল, তা সঠিক নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারী একজনই এবং তিনি গুরুদ্বারের নিহাং স্বেচ্ছাসেবক।

May be an image of one or more people and text

নান্দেডের জেলা প্রশাসক রাহুল কারদিলে জানান, সুখবীর বাদলের হাতে সামান্য আঘাত লেগেছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত। ঘটনার সময় তাঁর স্ত্রী ও লোকসভা সদস্য হরসিমরত কৌর বাদলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

হামলাকারী গুরুদ্বারের কর্মী

পুলিশ সূত্রে হামলাকারী হিসেবে জাসপাল সিংয়ের নাম জানা গেছে। তিনি গত দুই বছর ধরে ওই গুরুদ্বারে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সুখবীর বাদলের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাঁর স্ত্রী হরসিমরত কৌর বাদলের সঙ্গে ফোনে কথা বলে খোঁজ নিয়েছেন।

অকালি দলের তদন্তের দাবি

Their mission is to take control of Punjab's situation...": Akali Dal chief  Sukhbir Singh Badal on Nanded Gurudwara attack

হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে শিরোমণি অকালি দল। দলের জ্যেষ্ঠ নেতা বিক্রম সিং মাজিথিয়া ঘটনাটিকে পাঞ্জাবের রাজনীতি ও শিখ সম্প্রদায়ের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্রে সুখবীর বাদলের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার হাতে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পাঞ্জাবের কংগ্রেস ও বিজেপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও হামলার নিন্দা করেছে। পাঞ্জাব বিধানসভার বিরোধী দলীয় নেতা প্রতাপ সিং বাজওয়া বলেন, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে সহিংসতার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। ধর্মীয় উপাসনালয়কে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার স্থান হিসেবেই বজায় রাখা উচিত।

এর আগেও হামলার চেষ্টা

সুখবীর সিং বাদল এর আগেও হামলার লক্ষ্য হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরের বাইরে তাঁর ওপর গুলি চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় তিনি একটি ধর্মীয় প্রায়শ্চিত্তের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছিলেন। সাবেক এক জঙ্গি ও খালিস্তানপন্থী সমর্থক তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালালেও তিনি অক্ষত ছিলেন।

নান্দেডের সর্বশেষ হামলার ঘটনায় তাই পাঞ্জাবের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে হামলার উদ্দেশ্য ও এর পেছনে অন্য কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।