ঢাকা ও ঢাকার উপকণ্ঠে পরপর কয়েকটি বোমা উদ্ধারের ঘটনায় দেশে সক্রিয় উগ্রবাদীদের হাতে রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, আশুলিয়া ও সাভার থেকে উদ্ধার করা দুটি ‘প্রেশার কুকার’ বোমাই দূর থেকে বিস্ফোরণ ঘটানোর উপযোগী ছিল। এর আগে ফরিদপুরেও রিমোট নিয়ন্ত্রিত একটি বোমা উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ।
সাভার-আশুলিয়ায় পরপর বোমা উদ্ধার
আশুলিয়ার চারাবাগে একটি চায়ের দোকানের সামনে ফেলে যাওয়া ‘প্রেশার কুকার’ বোমা থেকে একটি রিমোট উদ্ধার করে পুলিশ। কর্মকর্তারা জানান, রিমোটটি মোটরসাইকেলের বৈদ্যুতিক লকে ব্যবহৃত ধরনের এবং সেটি দিয়ে বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব ছিল। এর দুই সপ্তাহ পর সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের একটি মাঠে পাওয়া আরেকটি ‘প্রেশার কুকার’ বোমাকেও রিমোট নিয়ন্ত্রিত বলে শনাক্ত করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরে আরিফ ওরফে ইমরানের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু পাইপ বোমা, বোমা তৈরির রাসায়নিক, ডেটোনেটর, বৈদ্যুতিক তার, রিমোট ও কন্ট্রোলারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। ওই অভিযানে পাঁচটি হাতবোমাও উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে।

মাঠে ফেলে যাওয়া বোমা ঘিরে রহস্য
সাভারের গোপেরবাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের সামনে মাঠে পাওয়া ‘প্রেশার কুকার’ বোমাটিও রিমোট নিয়ন্ত্রিত বলে নিশ্চিত করেছে সিটিটিসি। তবে সেটির রিমোট পাওয়া যায়নি। পুলিশের ধারণা, শ্যামপুরে অভিযান চলার সময় আতঙ্কে বোমাসহ একটি ড্রাম সেখানে ফেলে যাওয়া হয়েছিল। পরে ভোরে কেউ ড্রামটি নিয়ে গেলেও বোমাটি মাঠে পড়ে থাকে।
মামুনকে ঘিরে পুলিশের তদন্ত
পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ঘটনায় নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন’ এবং তার সহযোগী আরিফ ওরফে ইমরানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। গত জুলাইয়ে মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘উল্টো রথযাত্রা’র পথে ছাতার ভেতরে রাখা ‘পাইপ বোমা’ এবং আশুলিয়ার চায়ের দোকানে ফেলে যাওয়া বোমার সঙ্গেও তাদের যোগসূত্র দেখছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিওতে বিস্ফোরিত দুটি ‘প্রেশার কুকার’ বোমার সঙ্গে মামুনের সংশ্লিষ্টতা ছিল। নব্য জেএমবির বোমা কারিগরদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া মামুন দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর আবার বোমা তৈরির কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

রিমোট বোমা নিয়ে পুলিশের নতুন উদ্বেগ
সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে এর আগে রিমোট কন্ট্রোলড বোমার ব্যবহার দেখা যায়নি। অতীতে জঙ্গিরা আইইডিতে টাইম ডিভাইস ব্যবহার করত, যেখানে নির্দিষ্ট সময় পর বিস্ফোরণ ঘটত। ২০০১ সালের রমনার বটমূল হামলা এবং ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলায় এ ধরনের টাইম ডিভাইস ব্যবহারের কথা পুলিশ জানিয়েছিল।
সিটিটিসির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক জানিয়েছেন, ঘটনাগুলো নিয়ে তদন্ত চলছে এবং তদন্তে যাদের নাম আসবে, তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। মামুনকে গ্রেপ্তারের জন্যও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















