ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনে এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। আগামী ১৫ আগস্ট নয়াদিল্লির লালকেল্লায় আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে তরুণদের শক্তি, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ ভারতের নির্মাণে তাদের ভূমিকা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই আয়োজনে প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক লালকেল্লায় জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ বিশেষভাবে পরিবেশিত হবে।
এবারের আয়োজনের অন্যতম বিশেষ দিক হলো ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি। একই সঙ্গে ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গঠনের লক্ষ্যে দেশের তরুণদের অবদান ও আকাঙ্ক্ষাকে সামনে তুলে ধরা হবে। আয়োজনে প্রজন্ম-জেড এবং তরুণ শক্তির অংশগ্রহণকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তরুণদের অংশগ্রহণে নতুন আবহ
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন জাতীয় ক্যাডেট বাহিনীর সদস্য ও ‘মাই ভারত’-এর স্বেচ্ছাসেবক এবারের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তাঁদের মধ্যে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর তরুণ সদস্যদের পাশাপাশি ছেলে-মেয়ে উভয়েই থাকবেন। লালকেল্লার বিপরীতে জ্ঞানপথ এলাকায় তাঁদের জন্য বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর সেনাবাহিনীর ব্যান্ডের মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশিত হবে। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শেষ হওয়ার পর জাতীয় ক্যাডেট বাহিনীর সদস্য ও ‘মাই ভারত’-এর স্বেচ্ছাসেবকেরা আবারও জাতীয় গান পরিবেশন করবেন। এরপর গাওয়া হবে জাতীয় সংগীত।

ভিআইপি নয়, সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব
এবারের স্বাধীনতা দিবসের অতিথি তালিকাতেও রয়েছে ভিন্নতার ছাপ। প্রায় ৫ হাজার বিশেষ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নারী উদ্যোক্তা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, পথবিক্রেতা, তরুণ উদ্ভাবক, বিজ্ঞানী, নতুন উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা, মেট্রোর কর্মী, ট্যাক্সিচালক, হাসপাতালের কর্মী, কারুশিল্পী, কৃষক ও শিক্ষার্থীরা।
এ ছাড়া ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে দেড় হাজারের বেশি মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের বৈচিত্র্য ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে জাতীয় উদ্যাপনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
অতিথিদের বসার ব্যবস্থাতেও বার্তা
এবারের আয়োজনে প্রচলিত ভিআইপি-কেন্দ্রিক নামকরণের বদলে অতিথিদের বসার বিভিন্ন স্থান ভারতের গুরুত্বপূর্ণ হ্রদের নামে নামকরণ করা হয়েছে। চিলিকা, লোকটাক, প্যাংগং সো, ভেম্বানাদ, উলার, পুলিকাট ও হুসেইন সাগরের নামে এসব স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি জল সংরক্ষণের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরা হচ্ছে। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশ সুরক্ষার বার্তাও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।
স্বাধীনতার সঙ্গে ভবিষ্যতের স্বপ্ন
এবারের স্বাধীনতা দিবস তাই শুধু অতীতের সংগ্রাম ও অর্জন স্মরণ করার আয়োজন নয়। তরুণ প্রজন্মের শক্তি, সাধারণ মানুষের অবদান, দেশের বৈচিত্র্য এবং পরিবেশ রক্ষার বার্তাকে একসঙ্গে সামনে এনে ভবিষ্যৎ ভারতের একটি বৃহত্তর চিত্র তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
লালকেল্লার প্রাচীর থেকে স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে তরুণ ভারতের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার যে সংযোগ তৈরি হবে, সেটিই এবারের ১৫ আগস্ট উদ্যাপনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।



















