০৩:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
গ্যাস আছে, কিন্তু গ্যাস নেই: বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের আসল হিসাব সবজির দামে নতুন ঝড়: সার সংকট, বিশ্ববাজার ও বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের খাবারের ভবিষ্যৎ জঙ্গিদের হাতে রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা, সাভার-আশুলিয়ায় পরপর উদ্ধারে পুলিশের উদ্বেগ নেপালে তিব্বতবিষয়ক সম্মেলন বাতিল, চীনের চাপ নিয়ে তীব্র বিতর্ক  ভারত নান্দেডের গুরুদ্বারে সুখবীর বাদলের ওপর হামলা, হাতে সামান্য আঘাত বিরোধীদের ঐক্যে চাপে মোদি সরকার, পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ বিল ঠেকানোর দাবি কংগ্রেসের ভারত খড়গের সভাস্থল ‘শুদ্ধিকরণ’ নিয়ে উত্তাল উত্তরাখণ্ড, বিজেপির বিরুদ্ধে জাতপাতের অভিযোগ মোদির বিদেশনীতি নিয়ে রাহুলের কটাক্ষ, ‘মোদিভক্ত’ হয়ে দেশের লাভ হবে না: খার্গে উত্তরাখণ্ডের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধস ও পানির স্রোত, আটকা পড়ার আশঙ্কা ৬ শ্রমিকের তরুণ শক্তির আবেগে সাজছে ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস

বিরোধীদের ঐক্যে চাপে মোদি সরকার, পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ বিল ঠেকানোর দাবি কংগ্রেসের

ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিরোধীদের ঐক্য ও সমন্বয়ের কারণে নরেন্দ্র মোদি সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত আইন পাস করাতে পারেনি বলে দাবি করেছে কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, পুরো অধিবেশনজুড়ে সরকারকে ‘ভীত ও চাপে’ থাকতে হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া এড়িয়ে গেছেন।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু পুরো অধিবেশনজুড়েই প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেই দায়িত্ব থেকে সরে থেকেছেন বলে তাঁর দাবি।

বিরোধীদের ঐক্যই বড় সাফল্য

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ দলের উপনেতা গৌরব গগৈকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, এবারের অধিবেশন বিরোধী দলগুলোর ঐক্যের শক্তি স্পষ্ট করেছে।

Jairam Ramesh | Congress questioned against the purpose of Demonetization  after the black money or counterfeiting were not curbed - Anandabazar

তিনি ২০১৫ সালের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সে সময় মধ্যপ্রদেশের নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ‘ব্যাপম’ কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে অধিবেশন কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। তাঁর মতে, ১১ বছর পর এবারও তরুণদের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংসদের কার্যক্রম বড় ধরনের অচলাবস্থার মুখে পড়েছে।

জয়রাম রমেশ বিরোধীদের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, লোকসভা ও বিধানসভা আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের পথ সহজ করতে প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনী বিল সরকার সংসদে আনতে পারেনি। এ ধরনের বিল পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকারের নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

একই সঙ্গে একযোগে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাবিত আইন শীতকালীন অধিবেশন পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষা ও বিদেশি অনুদান আইনেও বাধা

জয়রাম রমেশের দাবি, ‘বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল, ২০২৫’ নিয়েও সরকার এগোতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি বিলটির ওপর প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় সেটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রস্তাবও যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, এটিও বিরোধীদের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।

Statement issued By Shri Jairam Ramesh, MP, General Secretary  (Communications), AICC

এ ছাড়া গ্রেপ্তার ও আটক থাকার কারণে কোনো প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীকে টানা ৩০ দিন পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব-সংবলিত সংবিধান সংশোধনী বিলও সংসদে আনা যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন প্রস্তুত না হওয়ায় বিলটি এগোয়নি বলে জানান তিনি।

বিতর্ক ছাড়াই দুই বিল পাস নিয়ে ক্ষোভ

তবে বিরোধীদের জন্য সবকিছু সাফল্যের ছিল না বলেও স্বীকার করেন জয়রাম রমেশ। তাঁর অভিযোগ, খনি ও খনিজ উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল এবং জাতীয় সমবায় উন্নয়ন নিগম সংশোধনী বিল বিতর্ক ছাড়াই পাস করানো হয়েছে।

এই দুই আইনকে তিনি সংবিধানবিরোধী বলে আখ্যা দেন এবং ভবিষ্যতে আদালতে এগুলো চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, কংগ্রেসের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনে পুলিশের পদক্ষেপ এবং অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদানের অর্থ চুরির অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে সরকার নীরব থেকেছে। এই নীরবতাকেই সরকারপক্ষের ‘অস্বস্তি ও দায়বোধের প্রকাশ’ হিসেবে দেখছে কংগ্রেস।

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের সংসদীয় ঐক্য ও পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ বিল আটকে দেওয়ার দাবি এখন ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস আছে, কিন্তু গ্যাস নেই: বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের আসল হিসাব

বিরোধীদের ঐক্যে চাপে মোদি সরকার, পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ বিল ঠেকানোর দাবি কংগ্রেসের

০২:৩১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিরোধীদের ঐক্য ও সমন্বয়ের কারণে নরেন্দ্র মোদি সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত আইন পাস করাতে পারেনি বলে দাবি করেছে কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, পুরো অধিবেশনজুড়ে সরকারকে ‘ভীত ও চাপে’ থাকতে হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া এড়িয়ে গেছেন।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু পুরো অধিবেশনজুড়েই প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেই দায়িত্ব থেকে সরে থেকেছেন বলে তাঁর দাবি।

বিরোধীদের ঐক্যই বড় সাফল্য

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ দলের উপনেতা গৌরব গগৈকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, এবারের অধিবেশন বিরোধী দলগুলোর ঐক্যের শক্তি স্পষ্ট করেছে।

Jairam Ramesh | Congress questioned against the purpose of Demonetization  after the black money or counterfeiting were not curbed - Anandabazar

তিনি ২০১৫ সালের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সে সময় মধ্যপ্রদেশের নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ‘ব্যাপম’ কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে অধিবেশন কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। তাঁর মতে, ১১ বছর পর এবারও তরুণদের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংসদের কার্যক্রম বড় ধরনের অচলাবস্থার মুখে পড়েছে।

জয়রাম রমেশ বিরোধীদের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, লোকসভা ও বিধানসভা আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের পথ সহজ করতে প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনী বিল সরকার সংসদে আনতে পারেনি। এ ধরনের বিল পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকারের নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

একই সঙ্গে একযোগে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাবিত আইন শীতকালীন অধিবেশন পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষা ও বিদেশি অনুদান আইনেও বাধা

জয়রাম রমেশের দাবি, ‘বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল, ২০২৫’ নিয়েও সরকার এগোতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি বিলটির ওপর প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় সেটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রস্তাবও যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, এটিও বিরোধীদের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।

Statement issued By Shri Jairam Ramesh, MP, General Secretary  (Communications), AICC

এ ছাড়া গ্রেপ্তার ও আটক থাকার কারণে কোনো প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীকে টানা ৩০ দিন পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব-সংবলিত সংবিধান সংশোধনী বিলও সংসদে আনা যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন প্রস্তুত না হওয়ায় বিলটি এগোয়নি বলে জানান তিনি।

বিতর্ক ছাড়াই দুই বিল পাস নিয়ে ক্ষোভ

তবে বিরোধীদের জন্য সবকিছু সাফল্যের ছিল না বলেও স্বীকার করেন জয়রাম রমেশ। তাঁর অভিযোগ, খনি ও খনিজ উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল এবং জাতীয় সমবায় উন্নয়ন নিগম সংশোধনী বিল বিতর্ক ছাড়াই পাস করানো হয়েছে।

এই দুই আইনকে তিনি সংবিধানবিরোধী বলে আখ্যা দেন এবং ভবিষ্যতে আদালতে এগুলো চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, কংগ্রেসের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনে পুলিশের পদক্ষেপ এবং অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদানের অর্থ চুরির অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে সরকার নীরব থেকেছে। এই নীরবতাকেই সরকারপক্ষের ‘অস্বস্তি ও দায়বোধের প্রকাশ’ হিসেবে দেখছে কংগ্রেস।

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের সংসদীয় ঐক্য ও পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ বিল আটকে দেওয়ার দাবি এখন ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।