ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলন ২০তম দিনে গড়িয়েছে। এর মধ্যেই বিধানসভা অভিমুখে মিছিলের ঘটনায় পাঁচ শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
পাঁচ শতাধিক মানুষের বিরুদ্ধে মামলা
সোমবার বিধানসভার দিকে মিছিলকে কেন্দ্র করে অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ শতাধিক মানুষের বিরুদ্ধে প্রথম তথ্য প্রতিবেদন দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, মিছিলে শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্দেশ্য তাদের নয়; বরং যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করেছে, তাদের শনাক্ত করাই এই মামলার লক্ষ্য।
রাঁচির জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা রাকেশ রঞ্জন বলেন, মিছিলের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংগঠনের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হয়েছে। পুলিশের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নিলেও কিছু দুষ্কৃতকারী ও বিশৃঙ্খলাকারী মিছিলে ঢুকে পড়েছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হয়। এ কারণেই পাঁচ শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় কোনো শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়নি বলেও পুলিশ জানিয়েছে। মিছিলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের শনাক্ত করার পর তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
এদিকে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অবস্থানরত শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি স্পষ্ট। সরকার দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরে যাবেন না।
আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো ঝাড়খণ্ডের নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের বিষয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তের মাধ্যমে অনুসন্ধান। পরীক্ষাব্যবস্থার ওপর শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতেই এই তদন্ত প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।
আন্দোলনকারীদের সংগঠনের সভাপতি রাম অবতার মাহাতো অভিযোগ করেছেন, ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তিনি আবারও আন্দোলনস্থলে ফিরতে চাইলেও হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছাড়পত্র দিয়ে আন্দোলনস্থলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
মাহাতোর অভিযোগ, প্রশাসনের এই অবস্থানের মাধ্যমে আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘিরে কড়া নিরাপত্তা
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় রাঁচির কানকে সড়ক ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ওই এলাকাতেই মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সরকারি বাসভবন রয়েছে। আন্দোলনকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মিছিল করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় সড়কে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাওয়া যানবাহনও বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে যানজট এড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে প্রশাসন।

তবে অতিরিক্ত ব্যারিকেড ও যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিজেপি। দলের রাজ্য মুখপাত্র শোভা যাদবের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের চারপাশে ব্যাপক ব্যারিকেড সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করছে।
তিনি বলেন, সড়কে অতিরিক্ত প্রতিবন্ধকতার কারণে মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি ও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে সকালে স্কুলগামী শিশুদের অভিভাবকদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। যান চলাচলে বাধার কারণে অনেককেই বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তির কারণ কী—প্রশাসনের কাছে সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। দ্রুত ব্যারিকেডের ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন বিজেপির এই নেতা।
নান্দেদে গুরুদ্বারে শিখ নেতা আক্রান্ত
এদিকে মহারাষ্ট্রের নান্দেদে একটি গুরুদ্বারে সফরের সময় শিরোমণি আকালি দলের সভাপতি ও পাঞ্জাবের সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদালের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় তাঁর হাতে আঘাত লাগে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী নিহাং শিখদের পোশাক পরেছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, ঐতিহ্যবাহী ছোরা ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে।
হামলার পর সুখবীর সিং বাদালের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং হামলার পেছনে কী কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্যে পাঁচ শতাধিক মানুষের বিরুদ্ধে মামলা এবং মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের ঘটনা পরিস্থিতির উত্তেজনাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এখন আন্দোলনকারীদের দাবি ও সরকারের অবস্থানের মধ্যে সমাধানের পথ কত দ্রুত বের হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















