০৪:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল করলো ঢাকা আঞ্চলিক রাজনীতির নতুন মানচিত্র সীমান্তে ফের পুশইনের চেষ্টা, চারজনকে ঠেকিয়ে দিল বিজিবি ইউরোপের পোশাকবাজারে ধাক্কা, প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি কমল ১৬ শতাংশ স্বাধীনতার ৭৯ বছরে পাকিস্তানকে ঐক্য ও শৃঙ্খলার বার্তা সশস্ত্র বাহিনীর মাস্তাংয়ে বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বহরে হামলা, আহত ৬ নিরাপত্তাকর্মী পাহালগাম হামলার পর মোদির প্রথম প্রশ্ন—‘কারা করেছে?’ অজিত দোভালের মুখে অপারেশন সিঁদুরের নেপথ্যকথা রাজনীতির ময়দানে ফের বিতর্ক: বিজয়ের মাকে নিয়ে নাইনর নাগেন্দ্রনের মন্তব্যে তীব্র সমালোচনা ইন্দোনেশিয়ায় আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্প, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৬.৯ মাত্রার কম্পনে কাঁপল উত্তর সুমাত্রা পাকিস্তানের হিন্দুরা ভারত নয়, পাকিস্তানেই থাকতে চান—জারদারির দাবি

৫৪৩ আসনেই লোকসভা স্থির রাখার দাবি, মোদিকে চিঠি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় লোকসভার আসনসংখ্যা ৫৪৩-তেই স্থায়ীভাবে স্থির রাখার দাবি জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাজ্যগুলোর মধ্যে বর্তমানে যে অনুপাতে লোকসভা আসন বণ্টন করা হয়, তা বজায় রাখার জন্য সংবিধান সংশোধনেরও দাবি তুলেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার পাঠানো চিঠির সঙ্গে তিনি ১২ আগস্ট তামিলনাড়ু বিধানসভায় গৃহীত একটি প্রস্তাবের অনুলিপি সংযুক্ত করেন। ওই প্রস্তাবে লোকসভা আসনের সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখার পাশাপাশি নারী প্রতিনিধিত্বের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

লোকসভার আসনসংখ্যা ৫৪৩ রাখার দাবি

তামিলনাড়ু বিধানসভার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, লোকসভার মোট আসন ৫৪৩-তেই স্থায়ীভাবে নির্দিষ্ট রাখা হোক। পাশাপাশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টনের বর্তমান অনুপাতও যেন পরিবর্তন না করা হয়।

এ ছাড়া লোকসভা ও রাজ্যসভার আসনের বর্তমান অনুপাত ২.২:১ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজয়ের বক্তব্য, জনসংখ্যার ভিত্তিতে নতুন করে আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

Vijay Writes To PM Modi, Urges Him To Freeze Lok Sabha Seats At 543

নারী সংরক্ষণেও বর্তমান কাঠামো বজায় রাখার দাবি

তামিলনাড়ু বিধানসভার প্রস্তাবে আগামী লোকসভা নির্বাচন থেকেই ৫৪৩টি বর্তমান আসনের ভিত্তিতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে। পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনগুলোতেও একইভাবে নারী সংরক্ষণ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, সংসদীয় ও বিধানসভা আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসনসংখ্যা নির্ধারণ নিয়ে যে সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের আলোচনা চলছে, তার প্রেক্ষাপটেই বিধানসভা এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

দক্ষিণের রাজ্যগুলো কেন উদ্বিগ্ন

বিজয়ের মতে, নতুন জনশুমারির পর জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো বড় ধরনের রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

তামিলনাড়ু বিধানসভায় এ প্রসঙ্গে ১৯৬৭ সালের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। সে সময় তামিলনাড়ুর লোকসভা আসন ৪১ থেকে কমিয়ে ৩৯ করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে ১৯৭১ সালের পরের জনসংখ্যার হিসাবের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর বর্তমান প্রতিনিধিত্ব আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পুরস্কার যেন শাস্তি না হয়

Amend Constitution to freeze the strength of the Lok Sabha at 543, Vijay  tells PM Modi - The Hindu

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি এসব রাজ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।

তাই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হওয়ার কারণে যদি সংসদে তাদের আসন কমে যায়, তবে সেটি ওই রাজ্যগুলোর জন্য দীর্ঘস্থায়ী অন্যায় হয়ে দাঁড়াবে বলে তিনি মনে করেন।

বিজয়ের বক্তব্য, একটি রাজ্য যদি দায়িত্বশীলভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে এবং উন্নয়ন ও জনকল্যাণে এগিয়ে যায়, তাহলে সেই সাফল্যের রাজনৈতিক মূল্য হিসেবে তার সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়া কোনোভাবেই ন্যায্য হতে পারে না।

কেন্দ্রের সামনে এখন বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন

লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নটি ভারতের কেন্দ্র ও দক্ষিণের রাজ্যগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তামিলনাড়ুর এই প্রস্তাব সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

একদিকে জনসংখ্যার ভিত্তিতে সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব পুনর্নির্ধারণের যুক্তি রয়েছে, অন্যদিকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখা হবে, সেটিই এখন কেন্দ্রের সামনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল করলো ঢাকা

৫৪৩ আসনেই লোকসভা স্থির রাখার দাবি, মোদিকে চিঠি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর

০১:২৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় লোকসভার আসনসংখ্যা ৫৪৩-তেই স্থায়ীভাবে স্থির রাখার দাবি জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাজ্যগুলোর মধ্যে বর্তমানে যে অনুপাতে লোকসভা আসন বণ্টন করা হয়, তা বজায় রাখার জন্য সংবিধান সংশোধনেরও দাবি তুলেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার পাঠানো চিঠির সঙ্গে তিনি ১২ আগস্ট তামিলনাড়ু বিধানসভায় গৃহীত একটি প্রস্তাবের অনুলিপি সংযুক্ত করেন। ওই প্রস্তাবে লোকসভা আসনের সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখার পাশাপাশি নারী প্রতিনিধিত্বের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

লোকসভার আসনসংখ্যা ৫৪৩ রাখার দাবি

তামিলনাড়ু বিধানসভার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, লোকসভার মোট আসন ৫৪৩-তেই স্থায়ীভাবে নির্দিষ্ট রাখা হোক। পাশাপাশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টনের বর্তমান অনুপাতও যেন পরিবর্তন না করা হয়।

এ ছাড়া লোকসভা ও রাজ্যসভার আসনের বর্তমান অনুপাত ২.২:১ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজয়ের বক্তব্য, জনসংখ্যার ভিত্তিতে নতুন করে আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

Vijay Writes To PM Modi, Urges Him To Freeze Lok Sabha Seats At 543

নারী সংরক্ষণেও বর্তমান কাঠামো বজায় রাখার দাবি

তামিলনাড়ু বিধানসভার প্রস্তাবে আগামী লোকসভা নির্বাচন থেকেই ৫৪৩টি বর্তমান আসনের ভিত্তিতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে। পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনগুলোতেও একইভাবে নারী সংরক্ষণ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, সংসদীয় ও বিধানসভা আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসনসংখ্যা নির্ধারণ নিয়ে যে সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের আলোচনা চলছে, তার প্রেক্ষাপটেই বিধানসভা এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

দক্ষিণের রাজ্যগুলো কেন উদ্বিগ্ন

বিজয়ের মতে, নতুন জনশুমারির পর জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো বড় ধরনের রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

তামিলনাড়ু বিধানসভায় এ প্রসঙ্গে ১৯৬৭ সালের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। সে সময় তামিলনাড়ুর লোকসভা আসন ৪১ থেকে কমিয়ে ৩৯ করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে ১৯৭১ সালের পরের জনসংখ্যার হিসাবের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর বর্তমান প্রতিনিধিত্ব আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পুরস্কার যেন শাস্তি না হয়

Amend Constitution to freeze the strength of the Lok Sabha at 543, Vijay  tells PM Modi - The Hindu

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি এসব রাজ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।

তাই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হওয়ার কারণে যদি সংসদে তাদের আসন কমে যায়, তবে সেটি ওই রাজ্যগুলোর জন্য দীর্ঘস্থায়ী অন্যায় হয়ে দাঁড়াবে বলে তিনি মনে করেন।

বিজয়ের বক্তব্য, একটি রাজ্য যদি দায়িত্বশীলভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে এবং উন্নয়ন ও জনকল্যাণে এগিয়ে যায়, তাহলে সেই সাফল্যের রাজনৈতিক মূল্য হিসেবে তার সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়া কোনোভাবেই ন্যায্য হতে পারে না।

কেন্দ্রের সামনে এখন বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন

লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নটি ভারতের কেন্দ্র ও দক্ষিণের রাজ্যগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তামিলনাড়ুর এই প্রস্তাব সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

একদিকে জনসংখ্যার ভিত্তিতে সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব পুনর্নির্ধারণের যুক্তি রয়েছে, অন্যদিকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখা হবে, সেটিই এখন কেন্দ্রের সামনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন।