দক্ষিণ কোরিয়ার শাস্ত্রীয় সংগীতের নতুন প্রজন্মকে সামনে আনতে বিশেষ আয়োজন করেছে কোরিয়ান চেম্বার অর্কেস্ট্রা। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সিউল আর্টস সেন্টারের দোয়াম হলে অনুষ্ঠিত হবে তাদের ২০২৬ সালের অভিষেক কনসার্ট। সন্ধ্যা ৫টায় শুরু হওয়া এই আয়োজনে প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে নির্বাচিত একদল তরুণ শিল্পী নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরবেন।
উদ্বোধনেই কিশোর সুরস্রষ্টার নতুন সৃষ্টি
অনুষ্ঠানের শুরুতেই থাকবে ‘নাখটলিশার মোনোলগ’ নামের একটি নতুন সুরকর্মের বিশ্ব পরিবেশনা। ২০২৬ সালের কোরিয়ান চেম্বার অর্কেস্ট্রার সুরসৃষ্টি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী লি তে-হোয়ানের এই সৃষ্টি বাঁশি, ভায়োলা ও পিয়ানোর জন্য রচিত।
সিউলের সনহোয়া আর্টস হাই স্কুলের প্রথম বর্ষের এই কিশোর সংগীতস্রষ্টা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই সুর রচনা শুরু করেন। ধ্রুপদি সংগীতের পাশাপাশি আধুনিক সংগীত নিয়েও তার আগ্রহ রয়েছে।
‘নাখটলিশার মোনোলগ’-এ নিদ্রাহীন রাতের অস্থির মানসিক অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। অনুশোচনা, উদ্বেগ ও নানা অস্থির চিন্তা কীভাবে রাতের নীরবতায় আরও তীব্র হয়ে ওঠে, সেই অনুভূতিই সুরের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন তরুণ এই সুরকার।

মঞ্চে থাকছেন প্রতিযোগিতার সেরা শিল্পীরা
কনসার্টে অংশ নেবেন ২০২৫ সালের কোরিয়ান চেম্বার অর্কেস্ট্রা প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ পুরস্কারজয়ী বেহালাবাদক পার্ক ইয়ে-হুন। তার সঙ্গে থাকবেন বেহালাবাদক ইউ জি-মিন, ইউ ই-সুল ও ওয়াং রুইই, চেলোবাদক মুন জি-ওন এবং ক্ল্যারিনেটবাদক কিম ইয়ে-উন।
পুরো পরিবেশনার নেতৃত্ব দেবেন কিম জে-ইউন। অনুষ্ঠানের সংগীতসূচি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে প্রতিটি শিল্পী তার নিজস্ব দক্ষতা ও পরিবেশনাশৈলী তুলে ধরার সুযোগ পান।
থাকছে বিশ্বখ্যাত সুরকারদের কঠিন সব সৃষ্টি
কনসার্টে মেন্ডেলসনের ‘দশম তারবাদ্য সিম্ফনি’ এবং মোৎসার্টের ‘হাফনার’ সেরেনেডের একটি বিশেষ পরিবেশনা থাকবে। পাশাপাশি শুবার্টের ‘আর্চেপিয়োনে সোনাটা’ও পরিবেশন করবেন শিল্পীরা।
এ ছাড়া লুই বাসি, ক্যামিল সাঁ-সাঁস, কার্ল দাভিদভ ও হেনরিক ভিয়েনিয়াভস্কির কারিগরিভাবে কঠিন সুরকর্মও পরিবেশিত হবে। এসব পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তরুণ শিল্পীদের বাদ্যযন্ত্রে দক্ষতা, সূক্ষ্মতা ও মঞ্চনৈপুণ্য তুলে ধরার চেষ্টা থাকবে।
চীনা বেহালাবাদকও থাকছেন আয়োজনে

আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন চীনের বেহালাবাদক ওয়াং রুইই। তার পরিবেশনার তালিকায় রয়েছে সাঁ-সাঁসের ‘ভালসের আদলে রচিত অনুশীলনভিত্তিক কেপ্রিস’, যা ইউজেন ইয়াসায়ের বিন্যাসে পরিবেশিত হবে।
এর মাধ্যমে কোরিয়ার তরুণ শিল্পীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উদীয়মান শিল্পীদেরও একই মঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ছয় দশকের ঐতিহ্য কোরিয়ান চেম্বার অর্কেস্ট্রার
১৯৬৫ সালে সিউল বারোক এনসেম্বল নামে যাত্রা শুরু করেছিল কোরিয়ান চেম্বার অর্কেস্ট্রা। দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি কোরিয়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠিত চেম্বার অর্কেস্ট্রা হিসেবে কাজ করে আসছে।
সংগীত পরিচালক কিম মিনের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংগঠনটি আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করেছে। একই সঙ্গে তরুণ শিল্পীদের প্রশিক্ষণ, বিকাশ ও মঞ্চে তুলে ধরার জন্য বিভিন্ন শিক্ষা ও প্রতিভা বিকাশ কর্মসূচিও পরিচালনা করছে।
২০২৬ সালের এই অভিষেক কনসার্ট তাই শুধু একটি সংগীতানুষ্ঠান নয়; বরং কোরিয়ার শাস্ত্রীয় সংগীতের আগামী দিনের শিল্পীদের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















