০১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
ক্যামেরার ফ্রেমে বদলে যাওয়া ভারত: নেহরু-গান্ধী থেকে ক্ষমতার রাজনীতির দৃশ্যপট কৃষকের ঘরে ধান, অথচ বিক্রির পথ নেই—কৃষ্ণসাগর অবরোধে ইউক্রেনের কৃষিতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা ব্রিটেনে খাদ্যপণ্যের দাম কমার স্বস্তি, তবে সামনে নতুন শঙ্কা স্বাধীনতার সুরে কবিতা ও গান, যে শিল্প আজও জাগিয়ে রাখে দেশপ্রেমের আগুন সিওডো ব্যান্ডের ‘জোসন পপ’: ছন্দের সূত্র নয়, অনুভূতিই যেখানে আসল মার্কিন ভক্তদের কাছে জনপ্রিয়তায় নতুন রেকর্ড গড়ল বিটিএস বিতর্কিত অডিওর জেরে এক্সডিনারি হিরোজ ছাড়লেন গুনিল অ্যাডরে ফেরার পর প্রথম একক কাজে নতুন রূপে নিউজিন্সের হেরিন এশিয়ার প্রথম শিল্পী হিসেবে মারিয়া কালাস বিশেষ সম্মাননা পেলেন সুুমি জো হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার হুমকি ট্রাম্পের

তাইওয়ানে ‘মেবি হ্যাপি এন্ডিং’-এর সাফল্য, ৯৭.৫ শতাংশ দর্শক উপস্থিতি

দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সঙ্গীতনাট্য ‘মেবি হ্যাপি এন্ডিং’ তাইওয়ান সফর শেষ করেছে দারুণ সাফল্যের মধ্য দিয়ে। নিউ তাইপেই সিটি আর্ট সেন্টারে ৩১ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত ১২টি প্রদর্শনীতে টিকিট বিক্রির হার ছিল ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রায় পূর্ণ দর্শকাসন নিয়ে শেষ হওয়া এই আয়োজন দক্ষিণ কোরিয়ার মঞ্চনাট্যের আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তার নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

দুই পরিত্যক্ত রোবটের ভালোবাসার গল্প

ভবিষ্যতের এক কল্পিত সিউল শহরকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সঙ্গীতনাট্যের গল্প। মানুষের যত্ন নেওয়ার জন্য তৈরি দুই সহায়ক রোবট অলিভার ও ক্লেয়ার একসময় নিজেদেরই এক পুরোনো আবাসিক ভবনে পরিত্যক্ত অবস্থায় খুঁজে পায়। বয়স ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের অস্তিত্ব যখন শেষের দিকে, তখনই তারা আবিষ্কার করে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ ও জীবনের গভীর অনুভূতি।

গল্পের এই কোমল মানবিক আবেগই দর্শকদের কাছে নাটকটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

MAYBE HAPPY ENDING Wraps Taiwan Run With 97.5% Attendance

কোরিয়া থেকে বিশ্বমঞ্চে

২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম মঞ্চস্থ হওয়ার পর থেকেই ‘মেবি হ্যাপি এন্ডিং’ দর্শকদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। প্রতিটি মৌসুমে দর্শক মূল্যায়নে গড়ে ১০-এর মধ্যে ৯ দশমিক ৮ নম্বর পেয়েছে নাটকটি। একই সঙ্গে অধিকাংশ প্রদর্শনীতেই ৯০ শতাংশের বেশি আসন পূর্ণ হয়েছে।

২০২৪ সালে এটি ব্রডওয়েতে মঞ্চস্থ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করে। পরের বছর একাধিক টনি পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে নাটকটি মঞ্চনাট্যের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নেয়। এর মধ্যে সেরা সঙ্গীতনাট্যের পুরস্কারও রয়েছে।

নিজ দেশ দক্ষিণ কোরিয়াতেও এর জনপ্রিয়তা কমেনি। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত দশম বার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী সফরে ১৯০টি প্রদর্শনীর প্রতিটিই ছিল পূর্ণ।

ভাষা ও সংস্কৃতির সীমা পেরিয়ে

Maybe Happy Ending' wraps Taiwan run with 97.5% paid attendance - The Korea  Times

তাইওয়ানে সাফল্যকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযোজকদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ভাষা ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও নাটকটির আবেগ দর্শকদের কাছে সহজেই পৌঁছে গেছে।

প্রযোজক হান কিয়ং-সুক বলেন, দেশীয়ভাবে তৈরি একটি মৌলিক সঙ্গীতনাট্য ভাষা ও সংস্কৃতির বাধা পেরিয়ে বিদেশি দর্শকদের কাছ থেকে এত ভালোবাসা পাওয়াটা অত্যন্ত অর্থবহ। ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশ ও মঞ্চে ‘মেবি হ্যাপি এন্ডিং’-এর আবেগ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তাইওয়ানের প্রায় পূর্ণ দর্শক উপস্থিতি শুধু একটি সফল বিদেশ সফরের হিসাব নয়; বরং এশিয়ার নিজস্ব গল্প ও মঞ্চনির্মাণ যে আন্তর্জাতিক দর্শকদের হৃদয় ছুঁতে পারে, তারও শক্তিশালী প্রমাণ হয়ে উঠেছে ‘মেবি হ্যাপি এন্ডিং’।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যামেরার ফ্রেমে বদলে যাওয়া ভারত: নেহরু-গান্ধী থেকে ক্ষমতার রাজনীতির দৃশ্যপট

তাইওয়ানে ‘মেবি হ্যাপি এন্ডিং’-এর সাফল্য, ৯৭.৫ শতাংশ দর্শক উপস্থিতি

১২:০০:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সঙ্গীতনাট্য ‘মেবি হ্যাপি এন্ডিং’ তাইওয়ান সফর শেষ করেছে দারুণ সাফল্যের মধ্য দিয়ে। নিউ তাইপেই সিটি আর্ট সেন্টারে ৩১ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত ১২টি প্রদর্শনীতে টিকিট বিক্রির হার ছিল ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রায় পূর্ণ দর্শকাসন নিয়ে শেষ হওয়া এই আয়োজন দক্ষিণ কোরিয়ার মঞ্চনাট্যের আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তার নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

দুই পরিত্যক্ত রোবটের ভালোবাসার গল্প

ভবিষ্যতের এক কল্পিত সিউল শহরকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সঙ্গীতনাট্যের গল্প। মানুষের যত্ন নেওয়ার জন্য তৈরি দুই সহায়ক রোবট অলিভার ও ক্লেয়ার একসময় নিজেদেরই এক পুরোনো আবাসিক ভবনে পরিত্যক্ত অবস্থায় খুঁজে পায়। বয়স ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের অস্তিত্ব যখন শেষের দিকে, তখনই তারা আবিষ্কার করে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ ও জীবনের গভীর অনুভূতি।

গল্পের এই কোমল মানবিক আবেগই দর্শকদের কাছে নাটকটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

MAYBE HAPPY ENDING Wraps Taiwan Run With 97.5% Attendance

কোরিয়া থেকে বিশ্বমঞ্চে

২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম মঞ্চস্থ হওয়ার পর থেকেই ‘মেবি হ্যাপি এন্ডিং’ দর্শকদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। প্রতিটি মৌসুমে দর্শক মূল্যায়নে গড়ে ১০-এর মধ্যে ৯ দশমিক ৮ নম্বর পেয়েছে নাটকটি। একই সঙ্গে অধিকাংশ প্রদর্শনীতেই ৯০ শতাংশের বেশি আসন পূর্ণ হয়েছে।

২০২৪ সালে এটি ব্রডওয়েতে মঞ্চস্থ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করে। পরের বছর একাধিক টনি পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে নাটকটি মঞ্চনাট্যের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নেয়। এর মধ্যে সেরা সঙ্গীতনাট্যের পুরস্কারও রয়েছে।

নিজ দেশ দক্ষিণ কোরিয়াতেও এর জনপ্রিয়তা কমেনি। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত দশম বার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী সফরে ১৯০টি প্রদর্শনীর প্রতিটিই ছিল পূর্ণ।

ভাষা ও সংস্কৃতির সীমা পেরিয়ে

Maybe Happy Ending' wraps Taiwan run with 97.5% paid attendance - The Korea  Times

তাইওয়ানে সাফল্যকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযোজকদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ভাষা ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও নাটকটির আবেগ দর্শকদের কাছে সহজেই পৌঁছে গেছে।

প্রযোজক হান কিয়ং-সুক বলেন, দেশীয়ভাবে তৈরি একটি মৌলিক সঙ্গীতনাট্য ভাষা ও সংস্কৃতির বাধা পেরিয়ে বিদেশি দর্শকদের কাছ থেকে এত ভালোবাসা পাওয়াটা অত্যন্ত অর্থবহ। ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশ ও মঞ্চে ‘মেবি হ্যাপি এন্ডিং’-এর আবেগ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তাইওয়ানের প্রায় পূর্ণ দর্শক উপস্থিতি শুধু একটি সফল বিদেশ সফরের হিসাব নয়; বরং এশিয়ার নিজস্ব গল্প ও মঞ্চনির্মাণ যে আন্তর্জাতিক দর্শকদের হৃদয় ছুঁতে পারে, তারও শক্তিশালী প্রমাণ হয়ে উঠেছে ‘মেবি হ্যাপি এন্ডিং’।