সকালের এক কাপ গরম কফি অনেকের কাছেই দিনের শুরু করার অপরিহার্য অংশ। ঘুমঘুম ভাব কাটানো, কাজে মনোযোগ বাড়ানো কিংবা শরীরকে চাঙা করতে কফির ওপর নির্ভর করেন অনেকেই। কিন্তু কফি পান করার পর যদি হঠাৎ হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে যায়, বুক ধড়ফড় করে বা মনে হয় হৃদযন্ত্র যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য ছন্দ হারাচ্ছে, তাহলে বিষয়টি সবসময় হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কফির প্রধান উত্তেজক উপাদান ক্যাফেইন সাময়িকভাবে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তবে অতিরিক্ত কফি পান, ক্যাফেইনের প্রতি বেশি সংবেদনশীলতা কিংবা খালি পেটে কফি খাওয়ার কারণে এই প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
কফি খেলে হৃদস্পন্দন কেন বেড়ে যায়
ক্যাফেইন শরীরের স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এবং অ্যাড্রেনালিনের নিঃসরণ বাড়াতে পারে। এর ফলে কিছু সময়ের জন্য হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ ও সতর্কতা বেড়ে যেতে পারে। সুস্থ অনেক মানুষের ক্ষেত্রেই এমন সাময়িক পরিবর্তন দেখা যায় এবং সাধারণ মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ বেশির ভাগ মানুষের জন্য গুরুতর হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা তৈরি করে না।
তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের পর বুক ধড়ফড়, বুকে ব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ করে সকালে খালি পেটে গাঢ় কফি পান করলে ক্যাফেইন দ্রুত শরীরে শোষিত হয়ে এর প্রভাব বেশি অনুভূত হতে পারে।
শুধু কফিই কি দায়ী?
সকালে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার জন্য শুধু কফিকে দায়ী করা ঠিক নয়। এনার্জি পানীয়, ধূমপান, শরীরচর্চার আগে ব্যবহৃত উত্তেজক উপাদান, শরীরে পানির ঘাটতি এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপও বুক ধড়ফড়ের কারণ হতে পারে।
তাই নিয়মিত এমন সমস্যা হলে নিজের খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
যে ৬টি লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন
বুক ধড়ফড় সাধারণত ক্ষতিকর না হলেও তা যদি বারবার হয়, স্বাভাবিকের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী হয় কিংবা নিচের কোনো লক্ষণের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হওয়া: কফি পান করার পর হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে বুকে ব্যথা বা চাপ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
শ্বাসকষ্ট: হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে শ্বাস নিতে কষ্ট হলে সেটিকে সাধারণ ক্যাফেইনের প্রতিক্রিয়া ধরে নেওয়া উচিত নয়।
মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম করা: হঠাৎ মাথা হালকা লাগা বা ভারসাম্য হারানোর মতো অনুভূতি সতর্কতার কারণ হতে পারে।
অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অজ্ঞান হওয়ার উপক্রম: বুক ধড়ফড়ের সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা প্রায় অজ্ঞান হয়ে পড়া হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াই অতিরিক্ত ঘাম: হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে অস্বাভাবিক ঘাম দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।
বিশ্রামেও হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত থাকা: কফি পান করার পর কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও বিশ্রাম অবস্থায় হৃদস্পন্দন খুব দ্রুত থাকলে চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।
কখন হৃদ্যন্ত্রের ছন্দের সমস্যা হতে পারে
ঘন ঘন বা দীর্ঘ সময় ধরে বুক ধড়ফড় করা কখনও কখনও হৃদ্যন্ত্রের ছন্দের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে পরিবারের কারও হঠাৎ হৃদ্যন্ত্রজনিত মৃত্যু বা বংশগত হৃদ্যন্ত্রের ছন্দের সমস্যা থাকলে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
এ ধরনের উপসর্গ কিছু ক্ষেত্রে দ্রুতগতির হৃদ্স্পন্দন, অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দনসহ বিভিন্ন হৃদ্যন্ত্রের ছন্দের সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
কী করলে ঝুঁকি কমতে পারে
যদি অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণই বুক ধড়ফড়ের কারণ হয়, তাহলে কফির পরিমাণ কমানো, খালি পেটে কফি না খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস উপকারী হতে পারে।
তবে বুক ধড়ফড় যদি নিয়মিত হতে থাকে, কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় অথবা বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট কিংবা অজ্ঞান হওয়ার সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে শুধু কফি কমিয়ে সমস্যাটি সামাল দেওয়ার চেষ্টা না করে হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কফি পান করার পর হৃদস্পন্দন বাড়া অনেক সময় সাময়িক ও ক্ষতিকর নয়। কিন্তু শরীরের দেওয়া সতর্ক সংকেতকে বারবার কেবল ক্যাফেইনের প্রভাব বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















