০৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
ইয়াসুকুনিতে পুরোনো রাজনীতি, নতুন বার্তা: জাপানের যুদ্ধস্মৃতিতে কি বদলের ইঙ্গিত? বালুচিস্তান সংকট সমাধানে রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান ট্রাম্পের প্রশংসায় পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি, বললেন ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’ জ্বালানি তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে পাকিস্তানের বড় শহরে জামায়াতের অবস্থান কর্মসূচি হামে মৃতের সংখ্যা ৯১৫, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু ব্যাংকে বাড়তি তারল্য, ৯ শতাংশের নিচে নামল ট্রেজারি বিলের সুদ শেখ হাসিনা ভারতে কোন স্ট্যাটাসে, জানে না বাংলাদেশ: চিফ প্রসিকিউটর আলোচনার দরজা খোলা রাখছে পিটিআই, সমঝোতার গুঞ্জনে বাড়ছে জল্পনা নৌবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত, উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সকালে কফি খাওয়ার পর হৃদস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে? যে ৬ লক্ষণ একেবারেই উপেক্ষা করবেন না

ট্রাম্পের প্রশংসায় পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি, বললেন ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ‘সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিন দেশের নেতৃত্বকে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তি দেখিয়ে দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য কীভাবে ধীরে ধীরে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে এবং দেশগুলো কীভাবে নিজেদের নিরাপত্তা আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে নিরাপত্তা সহযোগিতা

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ বাড়ছে। এই সংঘাতের প্রভাব উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশেও পড়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে।

Turkish president arrives in Saudi Arabia for talks with PM Shehbaz, Saudi  crown prince

এমন পরিস্থিতিতে গত ৭ আগস্ট মক্কা আল-মুকাররমা সম্মেলনে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। নীতিটি অনেকটা ন্যাটোর যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো।

আগ্রাসন নয়, শান্তি ও নিরাপত্তার বার্তা

চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক দিন পর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের উদ্দেশ্যে করা হয়নি। ১০ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি জোরদার করা।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও জানিয়েছেন, চুক্তিটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এর মূল উদ্দেশ্য আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, অভিন্ন শান্তি ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াতে তিন দেশের দীর্ঘদিনের আলোচনা ও সমন্বয়ের ফল এই চুক্তি।

ইসহাক দার আরও জানান, চুক্তির মৌলিক নীতিগুলো মেনে চলতে আগ্রহী অন্য দেশগুলোর জন্যও এর দরজা খোলা রয়েছে।

As elections approach, Turkey's president finds enemies everywhere

মিসরও হতে পারে নতুন সদস্য

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে মিসর এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর অংশ হতে পারে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জোটের সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে এবং মিসরের যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এরদোয়ানের ভাষায়, এই চুক্তি বিশ্বের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে আরও দেশকে যুক্ত করার বিষয়টি চুক্তির কাঠামোর মধ্যে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

ট্রাম্পকে ধন্যবাদ শাহবাজের

এদিকে চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের প্রশংসার জবাবে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে সমন্বয় করে পাকিস্তান তিন দেশ এবং বৃহত্তর অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে যাবে।

শাহবাজ শরিফ আরও একবার দক্ষিণ এশিয়ায় সম্ভাব্য পারমাণবিক বিপর্যয় ঠেকাতে ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তার মতে, টেকসই শান্তিই উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়াসুকুনিতে পুরোনো রাজনীতি, নতুন বার্তা: জাপানের যুদ্ধস্মৃতিতে কি বদলের ইঙ্গিত?

ট্রাম্পের প্রশংসায় পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি, বললেন ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’

০৩:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ‘সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিন দেশের নেতৃত্বকে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তি দেখিয়ে দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য কীভাবে ধীরে ধীরে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে এবং দেশগুলো কীভাবে নিজেদের নিরাপত্তা আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে নিরাপত্তা সহযোগিতা

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ বাড়ছে। এই সংঘাতের প্রভাব উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশেও পড়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে।

Turkish president arrives in Saudi Arabia for talks with PM Shehbaz, Saudi  crown prince

এমন পরিস্থিতিতে গত ৭ আগস্ট মক্কা আল-মুকাররমা সম্মেলনে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। নীতিটি অনেকটা ন্যাটোর যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো।

আগ্রাসন নয়, শান্তি ও নিরাপত্তার বার্তা

চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক দিন পর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের উদ্দেশ্যে করা হয়নি। ১০ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি জোরদার করা।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও জানিয়েছেন, চুক্তিটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এর মূল উদ্দেশ্য আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, অভিন্ন শান্তি ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াতে তিন দেশের দীর্ঘদিনের আলোচনা ও সমন্বয়ের ফল এই চুক্তি।

ইসহাক দার আরও জানান, চুক্তির মৌলিক নীতিগুলো মেনে চলতে আগ্রহী অন্য দেশগুলোর জন্যও এর দরজা খোলা রয়েছে।

As elections approach, Turkey's president finds enemies everywhere

মিসরও হতে পারে নতুন সদস্য

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে মিসর এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর অংশ হতে পারে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জোটের সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে এবং মিসরের যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এরদোয়ানের ভাষায়, এই চুক্তি বিশ্বের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে আরও দেশকে যুক্ত করার বিষয়টি চুক্তির কাঠামোর মধ্যে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

ট্রাম্পকে ধন্যবাদ শাহবাজের

এদিকে চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের প্রশংসার জবাবে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে সমন্বয় করে পাকিস্তান তিন দেশ এবং বৃহত্তর অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে যাবে।

শাহবাজ শরিফ আরও একবার দক্ষিণ এশিয়ায় সম্ভাব্য পারমাণবিক বিপর্যয় ঠেকাতে ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তার মতে, টেকসই শান্তিই উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত।