জ্বালানি তেলের দাম, পেট্রোলিয়াম শুল্ক এবং লাগামহীন মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে পাকিস্তানের করাচি, লাহোর, পেশোয়ার ও কোয়েটায় একযোগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াতে ইসলামী। রোববারের এই কর্মসূচিকে দলটি তাদের চলমান দেশব্যাপী আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সমাবেশ, অবস্থান ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছিল দলটি। এবার চার প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে সরাসরি অবস্থান নিয়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে জামায়াত।
লাহোরে মাল রোডে বিক্ষোভ
লাহোরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা মাল রোড ধরে মিছিল করে ফয়সাল চকে পৌঁছান। সেখানে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। জায়গাটি মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি।
পাঞ্জাব জামায়াতের প্রধান জাভেদ কাসুরি ছাড়াও দলের অন্য নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নেন। জামায়াতের আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানও সেখানে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, সরকার একদিকে পেট্রোলের দাম বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে জনগণের ওপর করের বোঝাও বাড়িয়ে চলেছে। পেট্রোলিয়াম শুল্ককে তিনি ‘জবরদস্তিমূলক কর’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের সঙ্গে যুক্ত কতজন জমিদার তাদের কৃষিজমির আয় থেকে যথাযথ কর দিয়েছেন।
হাফিজ নাঈমুর রহমান পেট্রোলের দাম কমিয়ে প্রতি লিটার ২২৫ রুপি করার দাবি জানান। তার অভিযোগ, বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
করাচিতে গভর্নর হাউসের সামনে অবস্থান
করাচিতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে গভর্নর হাউসের দিকে যান। করাচি জামায়াতের প্রধান মুনিম জাফরের নেতৃত্বে তারা গভর্নর হাউসের সামনে অবস্থান নেন।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে ফাওয়ারা চত্বর থেকে প্রেস ক্লাব ও আর্টস কাউন্সিলের দিকে যাওয়ার সড়কটি যান চলাচলের জন্য খোলা রাখা হয়েছিল।
ট্রাকে তৈরি অস্থায়ী মঞ্চ থেকে বক্তব্য দেওয়ার সময় মুনিম জাফর সরকার ও পুলিশকে সতর্ক করে বলেন, অবস্থান কর্মসূচি বন্ধ করতে শক্তি প্রয়োগ করা হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, পেট্রোলের উচ্চমূল্যের প্রভাব দেশের প্রতিটি নাগরিক ও অর্থনীতির প্রতিটি খাতে পড়ছে। তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ওপরও জ্বালানি শুল্কের বড় বোঝা চাপছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
করাচির পানি সংকট সমাধানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে মুনিম জাফর তার সাম্প্রতিক করাচি সফরেরও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, বিপুল নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শহরে এলেও করাচির দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি।
পেশোয়ারে গভর্নর হাউসের সামনে অবস্থান
পেশোয়ারেও গভর্নর হাউসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে জামায়াত। কর্মসূচির কারণে সদর এলাকা থেকে খাইবার পাখতুনখাওয়া বিধানসভা চত্বর পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দলের উপআমির লিয়াকত বালুচ সেখানে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।
কোয়েটাতেও একই কর্মসূচি
বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটাতেও একই সময়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে জামায়াতে ইসলামী। চার প্রদেশে একযোগে কর্মসূচির মাধ্যমে দলটি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পেট্রোলিয়াম শুল্ক ও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
এর আগে ৮ আগস্ট পেশোয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান অভিযোগ করেছিলেন, সরকার রাজস্ব আদায়ের জন্য পেট্রোলিয়াম শুল্কের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

জামায়াত উচ্চ জ্বালানি মূল্য ও মূল্যস্ফীতি থেকে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষমতাসীনদের অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা ও সরকারি ব্যয় কমানোরও দাবি জানিয়ে আসছে।
দলটির ভাষ্য, সাম্প্রতিক আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য অর্থনৈতিক স্বস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
পাকিস্তানে জ্বালানি তেলের দাম ও করের বোঝা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই জামায়াতে ইসলামীর এই ধারাবাহিক কর্মসূচি দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
পাকিস্তানে জ্বালানি তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর চার প্রদেশজুড়ে অবস্থান কর্মসূচি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















