গাইবান্ধায় তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের ভয়াবহ নদীভাঙনে মাত্র এক মাসে নয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ছয়টি বিদ্যালয় রয়েছে তীব্র ভাঙনঝুঁকিতে। এতে প্রায় ৩ হাজার শিশুর শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়।
ভাঙনে বিদ্যালয় বিলীন
মঙ্গলবার ভোরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তিস্তার ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে বিদ্যালয়টি রক্ষার চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যায়নি।
চলতি ভাঙন মৌসুমে ফুলছড়ি উপজেলার চর চৌমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যমুনায় বিলীন হয়েছে। একইভাবে উত্তর খাটিয়ারমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও নদীগর্ভে চলে গেছে। গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লারচরের সীতাসাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিলীন হয়েছে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে।
ফুলছড়ি উপজেলায় চর পিপুলিয়া, গালনা ও কটকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। কোথাও কোথাও শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ভবন বিলীন হওয়ার আগে টিনের চাল, বেঞ্চসহ সরানো সম্ভব এমন সামগ্রী নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে পেরেছেন।

প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষার বাইরে
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত নয়টি বিদ্যালয়ের অন্তত ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী ত্রৈমাসিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যালয়গুলো বিকল্প স্থানে সরিয়ে নিয়ে পাঠদান চালু রাখা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের বর্ণনায় পরিস্থিতি অনেক বেশি সংকটপূর্ণ।
কয়েকটি বিদ্যালয় বিচ্ছিন্ন এলাকায় অস্থায়ী স্থাপনায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এসব স্থানে পর্যাপ্ত বেঞ্চ, চেয়ার ও টেবিল নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। পাশাপাশি নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের সম্ভাব্য জায়গা নিয়েও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে।
আরও ছয় বিদ্যালয় ঝুঁকিতে
যমুনার তীরবর্তী আরও ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে ভয়াবহ ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে। এগুলো হলো চর পশ্চিম খাটিয়ারমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেতকীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাওয়াবাদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোটিয়ারভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গৌরীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চর ডাকুমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ভাঙনের আশঙ্কায় কয়েকটি বিদ্যালয়ের টিনের চাল, বেড়া ও খুঁটি স্থানীয়রা নিজেরাই খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন, তারা বারবার স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে সহযোগিতা চাইলেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নদীভাঙনে শুধু বিদ্যালয় নয়, বহু পরিবারও তাদের বসতভিটা, কৃষিজমি ও বাপ-দাদার সম্পত্তি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাস বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলো বিকল্প স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যেসব ভবন সরানো সম্ভব হয়নি, শিক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেগুলোও দ্রুত বিকল্প স্থানে স্থানান্তর করা হবে। তিনি বলেন, বিদ্যালয়গুলো ধ্বংস হয়ে গেলেও বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠদান চালু রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















