০৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকার বাইরে যে পাঁচ জেলা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে যুক্তরাজ্যে ফিরেই অভিনয়ে ফিরতে পারেন মেগান হলুদ খাওয়ার উপকার নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো কতটা সত্য আমেরিকায় হ্যারি-মেগানের ‘স্বপ্ন’ কেন ফিকে হয়ে গেল ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’তে কতটা বিপাকে পড়তে পারে ইরান? রাশিয়ার বিরল ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া, জাপানের দাবি করা দ্বীপ ঘিরে বাড়ল উত্তেজনা পাকিস্তানের সামরিক ও পারমাণবিক কমান্ড কাঠামো নিয়ে দুটি বিল পাস, বিরোধীদের ওয়াকআউট মহড়ার কাটছাঁটে দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘মার্কিন পুতুল’ বলে কটাক্ষ কিম ইয়ো জংয়ের গ্যাস সংকটে ময়মনসিংহের ২০ কারখানায় শ্রমিক ছুটি, অর্ধেকে নেমেছে উৎপাদন কারাগার থেকে হাসপাতালে ইমরান খান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চিকিৎসা শুরু

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি পরিকল্পনায় পাঁচ দেশের তীব্র নিন্দা

পশ্চিম তীরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নতুন ইহুদি বসতি স্থাপনের ইসরায়েলি পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা। দেশগুলো সতর্ক করে বলেছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে নিয়ে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমের পূর্বদিকে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ‘ই-১’ এলাকায় ১ হাজার ২৩৪টি আবাসন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। এটি ৩ হাজার ৪০১টি নতুন আবাসন নির্মাণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ, যা গত বছরের আগস্টে ইসরায়েলি সরকার অনুমোদন করেছিল।

পাঁচ দেশের যৌথ প্রতিবাদ

বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে পাঁচ দেশ ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে তারা পরিকল্পনাটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম তীরে যখন বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ফিলিস্তিনি অর্থনীতির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, তখন এমন সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এই পদক্ষেপ শান্তির সম্ভাবনা থেকে আরও দূরে নিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থানও দুর্বল করবে বলে সতর্ক করেছে দেশগুলো।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বড় হুমকি

জাতিসংঘের মহাসচিবও ই-১ প্রকল্প নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রকল্প একটি সংযুক্ত ও ভৌগোলিকভাবে ধারাবাহিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য অস্তিত্বগত হুমকি তৈরি করতে পারে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ই-১ প্রকল্পটি পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েলি বসতি মালে আদুমিমের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১৯ অক্টোবর। এর মাত্র কয়েক দিন পর ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।European leaders demand Israel halt controversial E1 settlement project in West  Bank

আইনি চ্যালেঞ্জের মধ্যেই দরপত্র

প্রকল্পটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ওই এলাকায় বসবাসকারী বেদুইন ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠী এবং ইসরায়েলের শান্তিকামী সংগঠনগুলো আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। তবে এসব আপত্তির মধ্যেই বুধবার ইসরায়েলের আবাসন মন্ত্রণালয় প্রকল্পটির জন্য দরপত্র প্রকাশ করেছে।

প্রকল্পটি ঘোষণার সময় ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ বলেছিলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা মুছে ফেলা হচ্ছে। তাঁর এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সমালোচনার জন্ম দেয়।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছেন। এর জবাবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিকল্পনার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

পশ্চিম তীর বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা

ইসরায়েল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ১৬০টি বসতি গড়ে তুলেছে। এসব বসতিতে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করেন। অন্যদিকে, ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য দাবি করা এসব এলাকায় প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ দখলকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করে।

ই-১ প্রকল্পের বিরোধীরা বলছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর কার্যত উত্তর ও দক্ষিণ অংশে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে। এতে রামাল্লা, পূর্ব জেরুজালেম ও বেথলেহেমের মধ্যে ভৌগোলিক যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। ফলে একটি স্বাধীন ও ধারাবাহিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও সংকুচিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের পশ্চিম তীর বসতি পরিকল্পনা

পশ্চিম তীরে নতুন বসতি নির্মাণের ইসরায়েলি পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডার নিন্দা এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এর সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকার বাইরে যে পাঁচ জেলা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি পরিকল্পনায় পাঁচ দেশের তীব্র নিন্দা

০৫:০৫:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

পশ্চিম তীরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নতুন ইহুদি বসতি স্থাপনের ইসরায়েলি পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা। দেশগুলো সতর্ক করে বলেছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে নিয়ে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমের পূর্বদিকে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ‘ই-১’ এলাকায় ১ হাজার ২৩৪টি আবাসন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। এটি ৩ হাজার ৪০১টি নতুন আবাসন নির্মাণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ, যা গত বছরের আগস্টে ইসরায়েলি সরকার অনুমোদন করেছিল।

পাঁচ দেশের যৌথ প্রতিবাদ

বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে পাঁচ দেশ ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে তারা পরিকল্পনাটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম তীরে যখন বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ফিলিস্তিনি অর্থনীতির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, তখন এমন সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এই পদক্ষেপ শান্তির সম্ভাবনা থেকে আরও দূরে নিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থানও দুর্বল করবে বলে সতর্ক করেছে দেশগুলো।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বড় হুমকি

জাতিসংঘের মহাসচিবও ই-১ প্রকল্প নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রকল্প একটি সংযুক্ত ও ভৌগোলিকভাবে ধারাবাহিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য অস্তিত্বগত হুমকি তৈরি করতে পারে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ই-১ প্রকল্পটি পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েলি বসতি মালে আদুমিমের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১৯ অক্টোবর। এর মাত্র কয়েক দিন পর ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।European leaders demand Israel halt controversial E1 settlement project in West  Bank

আইনি চ্যালেঞ্জের মধ্যেই দরপত্র

প্রকল্পটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ওই এলাকায় বসবাসকারী বেদুইন ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠী এবং ইসরায়েলের শান্তিকামী সংগঠনগুলো আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। তবে এসব আপত্তির মধ্যেই বুধবার ইসরায়েলের আবাসন মন্ত্রণালয় প্রকল্পটির জন্য দরপত্র প্রকাশ করেছে।

প্রকল্পটি ঘোষণার সময় ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ বলেছিলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা মুছে ফেলা হচ্ছে। তাঁর এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সমালোচনার জন্ম দেয়।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছেন। এর জবাবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিকল্পনার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

পশ্চিম তীর বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা

ইসরায়েল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ১৬০টি বসতি গড়ে তুলেছে। এসব বসতিতে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করেন। অন্যদিকে, ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য দাবি করা এসব এলাকায় প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ দখলকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করে।

ই-১ প্রকল্পের বিরোধীরা বলছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর কার্যত উত্তর ও দক্ষিণ অংশে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে। এতে রামাল্লা, পূর্ব জেরুজালেম ও বেথলেহেমের মধ্যে ভৌগোলিক যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। ফলে একটি স্বাধীন ও ধারাবাহিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও সংকুচিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের পশ্চিম তীর বসতি পরিকল্পনা

পশ্চিম তীরে নতুন বসতি নির্মাণের ইসরায়েলি পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডার নিন্দা এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এর সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।