০৭:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
খরায় পানামা খালে জাহাজ চলাচল কমছে, সেপ্টেম্বরে আরও কড়াকড়ি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাপে বদলে যাচ্ছে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসা তিয়ানআনমেন স্মরণে হংকংয়ের দুই অধিকারকর্মী দোষী সাব্যস্ত রাজা চার্লসের কাছে উইলিয়ামই অগ্রাধিকার, হ্যারি-মেগানের নিরাপত্তায় বছরে লাগতে পারে ৫০ লাখ পাউন্ড মিয়ানমারের বিবৃতি কি রোহিঙ্গা সংকট আরও জটিল করে তুলছে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ‘হ্যাকিং’ ঠেকিয়ে আলোচনায় টেক্সাসের শিক্ষার্থী ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকার বাইরে যে পাঁচ জেলা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে যুক্তরাজ্যে ফিরেই অভিনয়ে ফিরতে পারেন মেগান হলুদ খাওয়ার উপকার নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো কতটা সত্য আমেরিকায় হ্যারি-মেগানের ‘স্বপ্ন’ কেন ফিকে হয়ে গেল

পাকিস্তানের সামরিক ও পারমাণবিক কমান্ড কাঠামো নিয়ে দুটি বিল পাস, বিরোধীদের ওয়াকআউট

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক কমান্ড কাঠামো নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর ওয়াকআউট এবং ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম শরিক পাকিস্তান পিপলস পার্টির আপত্তির মধ্যেই বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট বিল দুটি অনুমোদন করা হয়।

দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস

প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জাতীয় পরিষদে ‘প্রতিরক্ষা বাহিনী আইন ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় কমান্ড কর্তৃপক্ষ আইন ২০১০’-এর সংশোধনী বিল উপস্থাপন করেন। বিল দুটি উত্থাপনের সময় বিরোধী সদস্যরা অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান।

তবে পাকিস্তান পিপলস পার্টির আইনপ্রণেতারা শেষ পর্যন্ত উভয় বিলের পক্ষেই ভোট দেন। দলটির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি অবশ্য বিল উপস্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।

সরকারের সঙ্গে মিত্রদের পরামর্শ না করার অভিযোগ

জাতীয় পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিলাওয়াল বলেন, তিনি আইন দুটির মূল বিষয়কে সমর্থন করেন। তবে সরকারের সঙ্গে থাকা মিত্রদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা না করেই গুরুত্বপূর্ণ আইন সংসদে আনার ঘটনায় তিনি আপত্তি জানিয়েছেন।

তার প্রশ্ন, যে আইন নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকার কথা নয়, সেটিকে কেন বিতর্কিত পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা হলো।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ক্ষমতাসীন জোটের শরিক এবং বিরোধীদের উদ্দেশে চলমান পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

আগেই মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

বিল দুটি জাতীয় পরিষদের সেদিনের নির্ধারিত কার্যসূচিতে ছিল না। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফেডারেল মন্ত্রিসভার বৈঠকে এগুলো অনুমোদন করা হয়। বিল উপস্থাপনের সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেও জাতীয় পরিষদে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, গত বছরের ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সামরিক কাঠামোয় যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতেই নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।NA passes bills related to military, nuclear command structure as Bilawal  objects, opposition walks out - Mashriq Vibe

সামরিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন

গত বছরের নভেম্বরে কার্যকর হওয়া ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ বিলুপ্ত করা হয়। একই সঙ্গে ‘প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান’ নামে নতুন একটি পদ সৃষ্টি করা হয়। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান একই সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করবেন।

এরপর ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির পাকিস্তানের প্রথম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন।

এ ছাড়া কৌশলগত বাহিনীগুলোর কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য ‘জাতীয় কৌশলগত কমান্ডার’ পদও সৃষ্টি করা হয়। এটি চার তারকা মর্যাদার একটি পদ। গত মাসে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল থেকে পদোন্নতি দিয়ে জেনারেল সৈয়দ আমের রাজাকে এই পদে নিয়োগ দেন।

প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর গঠনের উদ্যোগ

নতুন প্রতিরক্ষা বাহিনী আইন ২০২৬-এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও তাঁর দপ্তরের প্রশাসনিক দায়িত্ব নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়া অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান প্রধানমন্ত্রীকে সামরিক বিষয়ে প্রধান পরামর্শ দেবেন। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর তাঁর কার্যকর পরিচালনাগত কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

অধিবেশনে শুরুতেই উত্তেজনা

এর আগে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী ও সংসদীয় সচিবদের অনুপস্থিতির কারণে জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক ১৫ মিনিটের জন্য কার্যক্রম স্থগিত করেন।

তিনি আন্তঃপ্রাদেশিক সমন্বয় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরও তলব করেন এবং ভবিষ্যতে মন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি অব্যাহত থাকলে সংসদীয় অধিকার লঙ্ঘনের প্রস্তাব আনার সতর্কতা দেন।

পরে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন শুক্রবার ২১ আগস্ট সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

খরায় পানামা খালে জাহাজ চলাচল কমছে, সেপ্টেম্বরে আরও কড়াকড়ি

পাকিস্তানের সামরিক ও পারমাণবিক কমান্ড কাঠামো নিয়ে দুটি বিল পাস, বিরোধীদের ওয়াকআউট

০৫:৫৭:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক কমান্ড কাঠামো নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর ওয়াকআউট এবং ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম শরিক পাকিস্তান পিপলস পার্টির আপত্তির মধ্যেই বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট বিল দুটি অনুমোদন করা হয়।

দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস

প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জাতীয় পরিষদে ‘প্রতিরক্ষা বাহিনী আইন ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় কমান্ড কর্তৃপক্ষ আইন ২০১০’-এর সংশোধনী বিল উপস্থাপন করেন। বিল দুটি উত্থাপনের সময় বিরোধী সদস্যরা অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান।

তবে পাকিস্তান পিপলস পার্টির আইনপ্রণেতারা শেষ পর্যন্ত উভয় বিলের পক্ষেই ভোট দেন। দলটির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি অবশ্য বিল উপস্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।

সরকারের সঙ্গে মিত্রদের পরামর্শ না করার অভিযোগ

জাতীয় পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিলাওয়াল বলেন, তিনি আইন দুটির মূল বিষয়কে সমর্থন করেন। তবে সরকারের সঙ্গে থাকা মিত্রদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা না করেই গুরুত্বপূর্ণ আইন সংসদে আনার ঘটনায় তিনি আপত্তি জানিয়েছেন।

তার প্রশ্ন, যে আইন নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকার কথা নয়, সেটিকে কেন বিতর্কিত পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা হলো।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ক্ষমতাসীন জোটের শরিক এবং বিরোধীদের উদ্দেশে চলমান পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

আগেই মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

বিল দুটি জাতীয় পরিষদের সেদিনের নির্ধারিত কার্যসূচিতে ছিল না। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফেডারেল মন্ত্রিসভার বৈঠকে এগুলো অনুমোদন করা হয়। বিল উপস্থাপনের সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেও জাতীয় পরিষদে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, গত বছরের ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সামরিক কাঠামোয় যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতেই নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।NA passes bills related to military, nuclear command structure as Bilawal  objects, opposition walks out - Mashriq Vibe

সামরিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন

গত বছরের নভেম্বরে কার্যকর হওয়া ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ বিলুপ্ত করা হয়। একই সঙ্গে ‘প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান’ নামে নতুন একটি পদ সৃষ্টি করা হয়। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান একই সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করবেন।

এরপর ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির পাকিস্তানের প্রথম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন।

এ ছাড়া কৌশলগত বাহিনীগুলোর কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য ‘জাতীয় কৌশলগত কমান্ডার’ পদও সৃষ্টি করা হয়। এটি চার তারকা মর্যাদার একটি পদ। গত মাসে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল থেকে পদোন্নতি দিয়ে জেনারেল সৈয়দ আমের রাজাকে এই পদে নিয়োগ দেন।

প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর গঠনের উদ্যোগ

নতুন প্রতিরক্ষা বাহিনী আইন ২০২৬-এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও তাঁর দপ্তরের প্রশাসনিক দায়িত্ব নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়া অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান প্রধানমন্ত্রীকে সামরিক বিষয়ে প্রধান পরামর্শ দেবেন। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর তাঁর কার্যকর পরিচালনাগত কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

অধিবেশনে শুরুতেই উত্তেজনা

এর আগে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী ও সংসদীয় সচিবদের অনুপস্থিতির কারণে জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক ১৫ মিনিটের জন্য কার্যক্রম স্থগিত করেন।

তিনি আন্তঃপ্রাদেশিক সমন্বয় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরও তলব করেন এবং ভবিষ্যতে মন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি অব্যাহত থাকলে সংসদীয় অধিকার লঙ্ঘনের প্রস্তাব আনার সতর্কতা দেন।

পরে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন শুক্রবার ২১ আগস্ট সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।