০৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
চীন-ইন্দোনেশিয়ার মন্ত্রীদের বৈঠকে নিরাপত্তা ও অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা ম্যাকেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নতুন ইতিহাসের হাতছানি বাংলাদেশের ইরানঘনিষ্ঠ হিজবুল্লাহর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের খরায় পানামা খালে জাহাজ চলাচল কমছে, সেপ্টেম্বরে আরও কড়াকড়ি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাপে বদলে যাচ্ছে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসা তিয়ানআনমেন স্মরণে হংকংয়ের দুই অধিকারকর্মী দোষী সাব্যস্ত রাজা চার্লসের কাছে উইলিয়ামই অগ্রাধিকার, হ্যারি-মেগানের নিরাপত্তায় বছরে লাগতে পারে ৫০ লাখ পাউন্ড মিয়ানমারের বিবৃতি কি রোহিঙ্গা সংকট আরও জটিল করে তুলছে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ‘হ্যাকিং’ ঠেকিয়ে আলোচনায় টেক্সাসের শিক্ষার্থী ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকার বাইরে যে পাঁচ জেলা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে

ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’তে কতটা বিপাকে পড়তে পারে ইরান?

প্রায় ছয় মাস ধরে ইরানের সঙ্গে সংঘাত চললেও কাঙ্ক্ষিত দ্রুত বিজয় বা সমঝোতার পথে এগোতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অচলাবস্থা কাটেনি। এবার সেই অচলাবস্থা ভাঙতে ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প এই নতুন উদ্যোগকে বলেছেন ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’। তাঁর হুঁশিয়ারি, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে গেলে যে কোনো দেশকে ‘ভয়াবহ’ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে।

ইরানকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক যুদ্ধ

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। ১৯৭৯ সালে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশটির ওপর বিভিন্ন মাত্রায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। তবে ২০১৮ সালে প্রথম ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে করা আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার পর অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র হয়।

বর্তমান সংঘাতের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ‘অর্থনৈতিক ক্রোধ’ নামে একটি দুইমুখী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর একদিকে রয়েছে ইরানের আর্থিক প্রবাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে ইরানের বন্দরকেন্দ্রিক নৌ অবরোধ।

নতুন করে যে অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর কথা বলা হচ্ছে, তার বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, আগামী ২৪ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে এর বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

বেসেন্টের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্র এবার শুধু ইরানকে নয়, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করতে প্রস্তুত।

তিনি বলেছেন, কোনো দেশ যদি ইরানের সঙ্গে অর্থ লেনদেন করে, ইরানের তেল কেনে কিংবা সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে সহযোগিতা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও মার্কিন সরকার সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে।

নিষেধাজ্ঞার ‘পরিধি’ আরও বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের মতে, সংঘাত এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং অর্থনৈতিক চাপই ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। ওয়াশিংটনের আটলান্টিক কাউন্সিলের ভূকৌশল বিশেষজ্ঞ ইমরান বায়োমির মতে, সামরিক ও অর্থনৈতিক—দুই ধরনের চাপ প্রয়োগ করেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো স্পষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। নতুন নিষেধাজ্ঞা মূলত সেই হতাশা থেকেই আসছে।

তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র কার্যত এই যুদ্ধে আটকে গেছে। অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে আরেকটি পথ হিসেবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ওয়াশিংটন আসলে কী অর্জন করতে চায়, সেই কৌশল এখনো স্পষ্ট নয়।

নিষেধাজ্ঞা বিশেষজ্ঞ মাইকেল পার্কারের মতে, এবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ‘অর্থনৈতিক বিস্তার’ আরও বড় করতে চাইছে। অর্থাৎ ইরানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই, কিন্তু ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করে—এমন তৃতীয় দেশ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও চাপে আনা হতে পারে।

বিশেষ করে মার্কিন মুদ্রার ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই চাপ বেশ কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

Trump vows tougher economic measures on Iran and supporting countries

নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলায় অভ্যস্ত ইরান

তবে ইরানের জন্য নিষেধাজ্ঞা নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলা করতে গিয়ে দেশটি বিকল্প বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।

নিষেধাজ্ঞা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান তেল পরিবহনের জন্য ছায়া নৌবহর ব্যবহার করছে। পাশাপাশি নতুন নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক পথ তৈরি করে নিষেধাজ্ঞার আওতা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের নিষেধাজ্ঞা ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণবিষয়ক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হামুদার মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরপরই ইরান নতুন কোনো পথ খুঁজে নেয়। ফলে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নকারীদের প্রায়ই ইরানের সঙ্গে একধাপ পিছিয়ে থেকে দৌড়াতে হয়।

অর্থাৎ কাগজে নিষেধাজ্ঞা যত কঠোরই হোক, বাস্তবে তা কার্যকর করতে হলে বিশ্বজুড়ে ব্যাংক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নজরদারি করতে হয়। ইরানও সেই সুযোগগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করে।

চীন, তুরস্ক ও ইরাকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় তার ওপর।

সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র তুরস্ক ও ইরাকের পাশাপাশি চীনের মতো বড় অর্থনৈতিক শক্তিও থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কতটা টিকে থাকতে পারবে, তা শুধু তার নিজস্ব সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে না। বরং অন্য দেশ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানকে বৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ দেবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নেওয়া কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কারণ চীনসহ অনেক দেশই নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির ভারসাম্য বজায় রেখে চলছে।

চাপ বাড়লেও ফল মিলবে কি?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, নতুন অর্থনৈতিক চাপ কি সত্যিই ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করবে?

ইরান ইতিমধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক সংকট ও সামরিক চাপ মোকাবিলা করে আসছে। ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিতে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তেলের আয় ও আন্তর্জাতিক লেনদেন সংকুচিত করতে পারে এবং সাধারণ মানুষের ওপরও অর্থনৈতিক দুর্ভোগ বাড়াতে পারে।

কিন্তু একই সঙ্গে ইরানের বিকল্প বাণিজ্যপথ ও নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাকে কঠিন করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে অন্য দেশগুলো ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা কতটা মেনে চলে তার ওপর। ফলে ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ শুধু ইরানের বিরুদ্ধে নতুন চাপ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতকে ঘিরে মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর জন্যও নতুন অর্থনৈতিক পরীক্ষার সূচনা করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীন-ইন্দোনেশিয়ার মন্ত্রীদের বৈঠকে নিরাপত্তা ও অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা

ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’তে কতটা বিপাকে পড়তে পারে ইরান?

০৬:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

প্রায় ছয় মাস ধরে ইরানের সঙ্গে সংঘাত চললেও কাঙ্ক্ষিত দ্রুত বিজয় বা সমঝোতার পথে এগোতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অচলাবস্থা কাটেনি। এবার সেই অচলাবস্থা ভাঙতে ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প এই নতুন উদ্যোগকে বলেছেন ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’। তাঁর হুঁশিয়ারি, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে গেলে যে কোনো দেশকে ‘ভয়াবহ’ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে।

ইরানকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক যুদ্ধ

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। ১৯৭৯ সালে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশটির ওপর বিভিন্ন মাত্রায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। তবে ২০১৮ সালে প্রথম ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে করা আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার পর অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র হয়।

বর্তমান সংঘাতের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ‘অর্থনৈতিক ক্রোধ’ নামে একটি দুইমুখী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর একদিকে রয়েছে ইরানের আর্থিক প্রবাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে ইরানের বন্দরকেন্দ্রিক নৌ অবরোধ।

নতুন করে যে অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর কথা বলা হচ্ছে, তার বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, আগামী ২৪ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে এর বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

বেসেন্টের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্র এবার শুধু ইরানকে নয়, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করতে প্রস্তুত।

তিনি বলেছেন, কোনো দেশ যদি ইরানের সঙ্গে অর্থ লেনদেন করে, ইরানের তেল কেনে কিংবা সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে সহযোগিতা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও মার্কিন সরকার সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে।

নিষেধাজ্ঞার ‘পরিধি’ আরও বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের মতে, সংঘাত এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং অর্থনৈতিক চাপই ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। ওয়াশিংটনের আটলান্টিক কাউন্সিলের ভূকৌশল বিশেষজ্ঞ ইমরান বায়োমির মতে, সামরিক ও অর্থনৈতিক—দুই ধরনের চাপ প্রয়োগ করেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো স্পষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। নতুন নিষেধাজ্ঞা মূলত সেই হতাশা থেকেই আসছে।

তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র কার্যত এই যুদ্ধে আটকে গেছে। অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে আরেকটি পথ হিসেবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ওয়াশিংটন আসলে কী অর্জন করতে চায়, সেই কৌশল এখনো স্পষ্ট নয়।

নিষেধাজ্ঞা বিশেষজ্ঞ মাইকেল পার্কারের মতে, এবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ‘অর্থনৈতিক বিস্তার’ আরও বড় করতে চাইছে। অর্থাৎ ইরানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই, কিন্তু ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করে—এমন তৃতীয় দেশ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও চাপে আনা হতে পারে।

বিশেষ করে মার্কিন মুদ্রার ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই চাপ বেশ কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

Trump vows tougher economic measures on Iran and supporting countries

নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলায় অভ্যস্ত ইরান

তবে ইরানের জন্য নিষেধাজ্ঞা নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলা করতে গিয়ে দেশটি বিকল্প বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।

নিষেধাজ্ঞা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান তেল পরিবহনের জন্য ছায়া নৌবহর ব্যবহার করছে। পাশাপাশি নতুন নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক পথ তৈরি করে নিষেধাজ্ঞার আওতা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের নিষেধাজ্ঞা ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণবিষয়ক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হামুদার মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরপরই ইরান নতুন কোনো পথ খুঁজে নেয়। ফলে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নকারীদের প্রায়ই ইরানের সঙ্গে একধাপ পিছিয়ে থেকে দৌড়াতে হয়।

অর্থাৎ কাগজে নিষেধাজ্ঞা যত কঠোরই হোক, বাস্তবে তা কার্যকর করতে হলে বিশ্বজুড়ে ব্যাংক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নজরদারি করতে হয়। ইরানও সেই সুযোগগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করে।

চীন, তুরস্ক ও ইরাকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় তার ওপর।

সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র তুরস্ক ও ইরাকের পাশাপাশি চীনের মতো বড় অর্থনৈতিক শক্তিও থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কতটা টিকে থাকতে পারবে, তা শুধু তার নিজস্ব সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে না। বরং অন্য দেশ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানকে বৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ দেবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নেওয়া কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কারণ চীনসহ অনেক দেশই নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির ভারসাম্য বজায় রেখে চলছে।

চাপ বাড়লেও ফল মিলবে কি?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, নতুন অর্থনৈতিক চাপ কি সত্যিই ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করবে?

ইরান ইতিমধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক সংকট ও সামরিক চাপ মোকাবিলা করে আসছে। ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিতে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তেলের আয় ও আন্তর্জাতিক লেনদেন সংকুচিত করতে পারে এবং সাধারণ মানুষের ওপরও অর্থনৈতিক দুর্ভোগ বাড়াতে পারে।

কিন্তু একই সঙ্গে ইরানের বিকল্প বাণিজ্যপথ ও নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাকে কঠিন করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে অন্য দেশগুলো ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা কতটা মেনে চলে তার ওপর। ফলে ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ শুধু ইরানের বিরুদ্ধে নতুন চাপ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতকে ঘিরে মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর জন্যও নতুন অর্থনৈতিক পরীক্ষার সূচনা করতে পারে।