ইরানের সঙ্গে হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে লেবাননের এই সশস্ত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় সংগঠনটিকে ইরান সরকারের হয়ে কাজ করার অভিযোগে পুনরায় নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, হিজবুল্লাহ ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের কুদস বাহিনীর নির্দেশনায় ইরানি সরকারের হয়ে কাজ করছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন করে সংগঠনটির অবস্থান নির্ধারণের উদ্দেশ্য হলো হিজবুল্লাহ যে ইরান সরকারের স্বার্থে কাজ করছে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।
হিজবুল্লাহকে ১৯৯৭ সালে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন এবং ২০০১ সালে বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র।
নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দ করা, ব্যাংকগুলোর সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করা এবং পণ্য, সেবা ও অন্যান্য সহায়তা প্রবাহে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ তৈরি হয়।
অর্থ পাচারের অভিযোগে ১০ ব্যক্তি
নতুন পদক্ষেপে হিজবুল্লাহর জন্য নগদ অর্থ পাচারের অভিযোগে ১০ জনকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তুরস্কের এক ব্যবসায়ী রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটির মধ্যে অর্থ স্থানান্তরের জন্য একটি কুরিয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওই ব্যবসায়ী তুরস্কভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করতেন। এ ছাড়া কুদস বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ স্থানান্তরের জন্য বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে। অর্থ পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কুরিয়ারকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের নিষেধাজ্ঞা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নতুন বড় ধরনের পদক্ষেপের অংশ নয়। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন যে কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে, সে বিষয়ে আগামী সোমবার বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হবে।
১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠা হিজবুল্লাহর
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে ১৯৮২ সালে ইরানের বিপ্লবী গার্ড হিজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠা করে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি। লেবাননের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সময় সংগঠনটি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
বর্তমানে হিজবুল্লাহ শুধু সশস্ত্র সংগঠন নয়, লেবাননের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংগঠনটি বিদ্যালয় ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন সামাজিক সেবাও পরিচালনা করে এবং দেশটির শিয়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে।
ইরান ও হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ওয়াশিংটনের তেহরানবিরোধী চাপ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















