ডারউইনে অবিশ্বাস্য জয়ের পর এবার আরও বড় ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে শনিবার ম্যাকের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় মুখোমুখি হবে দুই দল।
প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ মাত্র চার দিনের মধ্যে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এবার ড্র করলেই সিরিজ নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের। আর জয় পেলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো তাদের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়বে টাইগাররা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সুযোগ
ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্ট সিরিজে হারানো অত্যন্ত কঠিন। ১৮৮৭ সালে ইংল্যান্ডের কাছে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারার পর নিজেদের দেশে কোনো বহু-টেস্ট সিরিজে আর হোয়াইটওয়াশ হয়নি অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশের জন্য তাই এবারের সুযোগটি অন্যরকম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি হবে প্রথম সিরিজ জয়, পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম সিরিজ জয়ও। এর আগে দেশের বাইরে কোনো সিরিজে দুই টেস্ট জেতার ঘটনা বাংলাদেশের আছে মাত্র দুবার—২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এবং ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
প্রতিপক্ষ এবার আরও মরিয়া
তবে ম্যাকেতে বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হতে পারে। ডারউইনের পরাজয়ে অস্ট্রেলিয়া যেমন চাপে থাকবে, তেমনি নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের জন্যও মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে তারা।
বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও মনে করছেন, দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়া আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ফিরবে। তাই ডারউইনের পারফরম্যান্স ধরে রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনে আরও উন্নতি করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সিমন্সের মতে, ডারউইনের জয়ের পর দলের খেলোয়াড়রা এখন অনেকটাই স্থির হয়ে উঠেছেন। কয়েক দিনের বিশ্রাম ও অনুশীলনের পর শনিবার ভালোভাবে শুরু করার দিকেই নজর বাংলাদেশের।

একাদশে আসতে পারে পরিবর্তন
জয়ী দলেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। পেসার শরিফুল ইসলাম একাদশে ঢুকতে পারেন, আর বাদ পড়তে পারেন এবাদত হোসেন।
তবে বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে। ডারউইনে প্রথম টেস্ট শতক পাওয়া তানজিদ বৃহস্পতিবার ঘাড়ের সমস্যার কারণে অনুশীলনে ব্যাট করেননি।
অন্যদিকে অনুশীলনের সময় আঙুলে আঘাত পেয়েছিলেন মুশফিক। তবে পরে তিনি আবার ব্যাটিং অনুশীলনে ফিরেছেন।
ম্যাকের উইকেটে বাড়তে পারে গতি
ডারউইনের তুলনায় ম্যাকের পরিবেশ ও উইকেট বাংলাদেশের জন্য ভিন্ন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এখানকার উইকেটে বেশি গতি ও বাউন্স পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।
খোলামেলা মাঠে প্রবল বাতাসও বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য নতুন সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শুরুতে উইকেট ধরে রেখে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের সামলানোই হবে বড় পরীক্ষা।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া দলে জেক ওয়েদারাল্ডের জায়গায় ম্যাথিউ রেনশকে নেওয়া হয়েছে। এই মাঠে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুটি শতক রয়েছে রেনশর। ফলে দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর একাদশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পেসার স্কট বোল্যান্ডও দলে ফিরতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য একটাই—ম্যাচ জিতে সিরিজ সমতায় ফেরানো এবং ডারউইনের ধাক্কা সামলে নিজেদের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা। বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য অবশ্য আরও বড়। ডারউইনে ইতিহাস গড়েছে টাইগাররা, এবার ম্যাকেতে সেই ইতিহাসকে আরও বড় করার হাতছানি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















