পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর শুক্রবার ভোরে তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য স্থানান্তর করা হয় বলে জানিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তার সমর্থকেরা অভিযোগ করে আসছেন, কারাগারে থাকার কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবীরা।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ
গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ একটি চিকিৎসক দলের মাধ্যমে তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।
এরপর শুক্রবার ভোরে আদিয়ালা কারাগার থেকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইমরানের দল জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ীই তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তবে পাকিস্তান সরকার এর আগে জানিয়েছিল, ইমরানের চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এমন কোনো গুরুতর সমস্যা পাওয়া যায়নি, যার জন্য তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজন।
রাজনৈতিক উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা
ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনাকে তার দল ও পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কমানোর সম্ভাব্য একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণের পর থেকেই ইমরান খান ও তার দলের সঙ্গে সামরিক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক তীব্র বিরোধপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ইমরান খান এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। তবে পাকিস্তান সরকার তার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
দেশজুড়ে আন্দোলনের ঘোষণা
ইমরানের দল আদালতের নির্দেশকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও আন্দোলনের কর্মসূচি বাতিল করেনি। দলের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি জানিয়েছেন, ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ, তার মামলাগুলোর দ্রুত শুনানি এবং মুক্তির দাবিতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী পদযাত্রা করবে দলটি।
হাসপাতালে স্থানান্তর ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে তার সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবির আংশিক পূরণ হলেও, তার মুক্তি ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে পাকিস্তানে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















