০৮:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
সিঙ্গাপুরে মশা দিয়েই মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ডেঙ্গু কমেছে ৮৭.৬ শতাংশ সরকার কেন এখন কলেরার টিকা দিচ্ছে? দিল্লিকে ঢাকার কঠিন শর্ত: নেপথ্যে ‘অবিশ্বাস’, নাকি সম্পর্কের ‘রিসেট’ চায় ঢাকা? মালয়েশিয়ার তালিকায় ২৫ এজেন্সি, শ্রমবাজার খোলা নিয়ে কী বলছে বাংলাদেশ সরকার ওয়াশিংটন পোস্ট: মার্কিন কংগ্রেসম্যানের ২ বছরের মেয়ের কলারবোন ভাঙার রহস্য অমীমাংসিত ভারত থেকে রপ্তানি বাড়াবে জাপানের কুবোটা, ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে দামে প্রতিযোগিতার লক্ষ্য কালিমান্তানে দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে, বৃষ্টি না এলে বাড়তে পারে আগুন-ধোঁয়ার সংকট ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের মধ্যে লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ফেরানোর উদ্যোগে অচলাবস্থা আসাম–মেঘালয় উত্তেজনা: হামলায় জড়িত ৫ মুখোশধারী শনাক্ত, গঠিত বিশেষ তদন্ত দল গ্যাসের লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কমছে সিএনজি চালকদের আয়

ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের মধ্যে লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ফেরানোর উদ্যোগে অচলাবস্থা

লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বড় ধরনের অচলাবস্থায় পড়েছে। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কয়েক দশক পর সরাসরি আলোচনার সূচনা হলেও চার মাসে সাত দফা বৈঠকের পরও যুদ্ধ বন্ধ ও দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের জন্য এই পরিস্থিতি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি রাষ্ট্রের হাতে অস্ত্রের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা এবং হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁর সরকারের উদ্যোগে বৈরুতের বিমানবন্দর, বাণিজ্যিক বন্দর ও ব্যাংকিং ব্যবস্থায় হিজবুল্লাহর প্রভাব কমানোর কাজও এগিয়েছিল।

রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সীমাবদ্ধতা

তবে মার্চে ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর প্রভাব কিছুটা কমাতে পারলেও দেশকে যুদ্ধে জড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা গোষ্ঠীটির এখনো রয়েছে।

ইসরায়েল জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের দখল করা বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে তাদের বাহিনী সরবে না। শনিবার লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ইসরায়েলি বিমান হামলা ও ভবন ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় চার মাস ধরে দখল করা এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা করে আসছে। তাদের অবস্থান হলো, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র সমর্পণের প্রশ্নই আসে না। ফলে সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক শক্তি বিলুপ্ত করার কথা বললেও বাস্তবে সেই সক্ষমতা কতটা রয়েছে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিলো লেবাননের হিজবুল্লাহ

আলোচনায় অগ্রগতি থমকে গেছে

এপ্রিল মাসে ইসরায়েল ও লেবাননের কর্মকর্তারা সরাসরি আলোচনায় বসেন। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বৈরিতার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হয়েছিল। আলোচনার ভিত্তিতে নীতিগতভাবে একটি ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা থেকে সরে যাবে এবং সেসব এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন হয়ে হিজবুল্লাহকে প্রবেশ করতে দেবে না।

কিন্তু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেই প্রক্রিয়াও ধীর হয়ে গেছে। ইসরায়েল পরবর্তী ধাপে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং দাবি করেছে, হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে লেবাননের সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।

এর ফলে দক্ষিণ লেবাননে সংঘাত কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী দখল করা গ্রামগুলোতে ভবন ও অবকাঠামো ধ্বংস করছে, হিজবুল্লাহ লেবাননের ভূখণ্ডে থাকা ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং লাখো লেবানিজ এখনো বাস্তুচ্যুত হয়ে আছেন।

ইরানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ

জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত করার জন্য একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছায়, যার আওতায় লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ও ছিল। হিজবুল্লাহ এটিকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে এবং দাবি করে, তাদের পৃষ্ঠপোষক ইরানই লেবাননের যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এর বিপরীতে লেবানন সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দেখাতে চাইছে যে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে রাষ্ট্রের ভূমিকাই মুখ্য। কিন্তু সর্বশেষ দফার আলোচনা চলতি মাসে কার্যত অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হওয়ায় লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ফের অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি; তবে বর্তমানে দুই পক্ষের অবস্থান এতটাই বিপরীত যে প্রক্রিয়াটি অচলাবস্থায় রয়েছে। লেবাননের সাধারণ মানুষের মধ্যেও যুদ্ধ ও বাইরের শক্তির প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসার আকাঙ্ক্ষা বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, শান্তির জন্য তৈরি হওয়া সুযোগের জানালা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিঙ্গাপুরে মশা দিয়েই মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ডেঙ্গু কমেছে ৮৭.৬ শতাংশ

ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের মধ্যে লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ফেরানোর উদ্যোগে অচলাবস্থা

০৮:২০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বড় ধরনের অচলাবস্থায় পড়েছে। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কয়েক দশক পর সরাসরি আলোচনার সূচনা হলেও চার মাসে সাত দফা বৈঠকের পরও যুদ্ধ বন্ধ ও দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের জন্য এই পরিস্থিতি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি রাষ্ট্রের হাতে অস্ত্রের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা এবং হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁর সরকারের উদ্যোগে বৈরুতের বিমানবন্দর, বাণিজ্যিক বন্দর ও ব্যাংকিং ব্যবস্থায় হিজবুল্লাহর প্রভাব কমানোর কাজও এগিয়েছিল।

রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সীমাবদ্ধতা

তবে মার্চে ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর প্রভাব কিছুটা কমাতে পারলেও দেশকে যুদ্ধে জড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা গোষ্ঠীটির এখনো রয়েছে।

ইসরায়েল জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের দখল করা বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে তাদের বাহিনী সরবে না। শনিবার লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ইসরায়েলি বিমান হামলা ও ভবন ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় চার মাস ধরে দখল করা এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা করে আসছে। তাদের অবস্থান হলো, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র সমর্পণের প্রশ্নই আসে না। ফলে সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক শক্তি বিলুপ্ত করার কথা বললেও বাস্তবে সেই সক্ষমতা কতটা রয়েছে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিলো লেবাননের হিজবুল্লাহ

আলোচনায় অগ্রগতি থমকে গেছে

এপ্রিল মাসে ইসরায়েল ও লেবাননের কর্মকর্তারা সরাসরি আলোচনায় বসেন। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বৈরিতার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হয়েছিল। আলোচনার ভিত্তিতে নীতিগতভাবে একটি ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা থেকে সরে যাবে এবং সেসব এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন হয়ে হিজবুল্লাহকে প্রবেশ করতে দেবে না।

কিন্তু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেই প্রক্রিয়াও ধীর হয়ে গেছে। ইসরায়েল পরবর্তী ধাপে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং দাবি করেছে, হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে লেবাননের সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।

এর ফলে দক্ষিণ লেবাননে সংঘাত কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী দখল করা গ্রামগুলোতে ভবন ও অবকাঠামো ধ্বংস করছে, হিজবুল্লাহ লেবাননের ভূখণ্ডে থাকা ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং লাখো লেবানিজ এখনো বাস্তুচ্যুত হয়ে আছেন।

ইরানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ

জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত করার জন্য একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছায়, যার আওতায় লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ও ছিল। হিজবুল্লাহ এটিকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে এবং দাবি করে, তাদের পৃষ্ঠপোষক ইরানই লেবাননের যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এর বিপরীতে লেবানন সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দেখাতে চাইছে যে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে রাষ্ট্রের ভূমিকাই মুখ্য। কিন্তু সর্বশেষ দফার আলোচনা চলতি মাসে কার্যত অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হওয়ায় লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ফের অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি; তবে বর্তমানে দুই পক্ষের অবস্থান এতটাই বিপরীত যে প্রক্রিয়াটি অচলাবস্থায় রয়েছে। লেবাননের সাধারণ মানুষের মধ্যেও যুদ্ধ ও বাইরের শক্তির প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসার আকাঙ্ক্ষা বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, শান্তির জন্য তৈরি হওয়া সুযোগের জানালা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।