০৮:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
সিঙ্গাপুরে মশা দিয়েই মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ডেঙ্গু কমেছে ৮৭.৬ শতাংশ সরকার কেন এখন কলেরার টিকা দিচ্ছে? দিল্লিকে ঢাকার কঠিন শর্ত: নেপথ্যে ‘অবিশ্বাস’, নাকি সম্পর্কের ‘রিসেট’ চায় ঢাকা? মালয়েশিয়ার তালিকায় ২৫ এজেন্সি, শ্রমবাজার খোলা নিয়ে কী বলছে বাংলাদেশ সরকার ওয়াশিংটন পোস্ট: মার্কিন কংগ্রেসম্যানের ২ বছরের মেয়ের কলারবোন ভাঙার রহস্য অমীমাংসিত ভারত থেকে রপ্তানি বাড়াবে জাপানের কুবোটা, ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে দামে প্রতিযোগিতার লক্ষ্য কালিমান্তানে দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে, বৃষ্টি না এলে বাড়তে পারে আগুন-ধোঁয়ার সংকট ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের মধ্যে লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ফেরানোর উদ্যোগে অচলাবস্থা আসাম–মেঘালয় উত্তেজনা: হামলায় জড়িত ৫ মুখোশধারী শনাক্ত, গঠিত বিশেষ তদন্ত দল গ্যাসের লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কমছে সিএনজি চালকদের আয়

গ্যাসের লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কমছে সিএনজি চালকদের আয়

গ্যাস সংকটে রাজধানীর সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ অন্যান্য গ্যাসচালিত যানবাহনের চালকদের ভোগান্তি বেড়েছে। গ্যাস নিতে অনেক ফিলিং স্টেশনে প্রায় তিন ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে দিনের বড় একটি সময় পাম্পেই কেটে যাচ্ছে, ফলে কমছে আয় এবং বাড়ছে গাড়ি পরিচালনার খরচ। অনেক চালকের জন্য প্রতিদিনের জমার টাকা পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে চালক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পরও পর্যাপ্ত গ্যাস নেই

চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস মিলছে না। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে মাত্র ১২০ টাকার গ্যাস নিয়েই রাস্তায় ফিরতে হচ্ছে।

সিএনজি চালক মো. মনা জানান, ভোর ৪টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাননি। গাড়ির মালিককে প্রতিদিনের জমা দিতে কিস্তির টাকা থেকে অর্থ জোগাড় করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। সামনে বাসাভাড়া ও সংসারের খরচ থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরেক চালক জাহাঙ্গীর জানান, প্রতিদিন মহাজনকে ১ হাজার ২০০ টাকা জমা দিতে হয়। গ্যাসে প্রায় ৫০০ টাকা এবং নিজের খরচে আরও ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লাগে। সব মিলিয়ে দৈনিক দেড় থেকে দুই হাজার টাকা খরচ হলেও গ্যাস সংকটের কারণে গত দুই মাস ধরে আয় বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

দিনে কম চাপ, রাতে কিছুটা সরবরাহ

ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক ও কর্মীরা বলছেন, দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে অনেক স্টেশনে পাম্প চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু স্টেশনে কম চাপেও ভালভ চালু করা গেলেও সেখানে সীমিত পরিসরে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে।

উত্তরার এম এ মাসুদ ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক কামাল জানান, দিনে নিয়মিত সরবরাহ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত চাপ নেই। বিকালের দিকে চাপ কিছুটা বাড়তে শুরু করলেও রাতের দিকে তুলনামূলকভাবে কিছুটা গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

আকিজ সিএনজি স্টেশনের কর্মী তারেক জানান, রাতে গ্যাস পাওয়া গেলেও সারাদিন সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। জামান স্টেশনের কর্মী আব্দুল্লাহও দিনের বেলায় সরবরাহ না থাকার কথা জানিয়েছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সারি

উত্তরার আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী, তেজগাঁও, কাওরান বাজার, সাতরাস্তা, মালিবাগ, মুগদা, মতিঝিল, মানিকনগর, খিলগাঁও, সবুজবাগ, বনশ্রী ও গোড়ানসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকটের একই চিত্র দেখা গেছে।

অনেক ফিলিং স্টেশন গ্যাসের অভাবে বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা স্টেশনগুলোতেও কম চাপের কারণে ধীরগতিতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন সিএনজি ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা।

আব্দুলপুরের খন্দকার ফিলিং স্টেশনের অপারেটর মনির হোসেন জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস না থাকায় স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে। ডেমরার রাসেল ফিলিং ও সিএনজি স্টেশনে চারটি হোসের মধ্যে মাত্র একটি সচল রাখা সম্ভব হয়েছে।

মহাখালীর এবিএন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক শহীদুল বলেন, গ্যাসের চাপ এত কম যে কিছুক্ষণ সরবরাহের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাম্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর আবার চালু করে সীমিত পরিসরে গ্যাস দিতে হচ্ছে।

দ্রুত সমাধান চান চালকরা

চালকদের ভাষ্য, গ্যাসনির্ভর যানবাহন চালিয়েই তাদের আয়-রোজগার। কিন্তু গ্যাসের জন্য দিনের বড় অংশ অপেক্ষায় কাটলে গাড়ি চালানোর সময় কমে যায়, ফলে আয়ও কমে যায়। প্রাইভেটকার চালক সানাউল্লাহ বলেন, গাড়ি চালাতে না পারলেও খরচ ঠিকই হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালীতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে গ্যাস খালাসে বিলম্ব এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে এই সংকট তৈরি হয়েছে। এতে আবাসিক গ্রাহক, সিএনজি চালক ও শিল্প খাতের মানুষও ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন চালকরা।

রাজধানীর গ্যাস সংকটে সিএনজি চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে গাড়ি চালানোর সময় কমে গিয়ে আয়ও কমছে, বাড়ছে দৈনিক খরচের চাপ।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিঙ্গাপুরে মশা দিয়েই মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ডেঙ্গু কমেছে ৮৭.৬ শতাংশ

গ্যাসের লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কমছে সিএনজি চালকদের আয়

০৮:১২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

গ্যাস সংকটে রাজধানীর সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ অন্যান্য গ্যাসচালিত যানবাহনের চালকদের ভোগান্তি বেড়েছে। গ্যাস নিতে অনেক ফিলিং স্টেশনে প্রায় তিন ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে দিনের বড় একটি সময় পাম্পেই কেটে যাচ্ছে, ফলে কমছে আয় এবং বাড়ছে গাড়ি পরিচালনার খরচ। অনেক চালকের জন্য প্রতিদিনের জমার টাকা পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে চালক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পরও পর্যাপ্ত গ্যাস নেই

চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস মিলছে না। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে মাত্র ১২০ টাকার গ্যাস নিয়েই রাস্তায় ফিরতে হচ্ছে।

সিএনজি চালক মো. মনা জানান, ভোর ৪টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাননি। গাড়ির মালিককে প্রতিদিনের জমা দিতে কিস্তির টাকা থেকে অর্থ জোগাড় করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। সামনে বাসাভাড়া ও সংসারের খরচ থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরেক চালক জাহাঙ্গীর জানান, প্রতিদিন মহাজনকে ১ হাজার ২০০ টাকা জমা দিতে হয়। গ্যাসে প্রায় ৫০০ টাকা এবং নিজের খরচে আরও ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লাগে। সব মিলিয়ে দৈনিক দেড় থেকে দুই হাজার টাকা খরচ হলেও গ্যাস সংকটের কারণে গত দুই মাস ধরে আয় বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

দিনে কম চাপ, রাতে কিছুটা সরবরাহ

ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক ও কর্মীরা বলছেন, দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে অনেক স্টেশনে পাম্প চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু স্টেশনে কম চাপেও ভালভ চালু করা গেলেও সেখানে সীমিত পরিসরে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে।

উত্তরার এম এ মাসুদ ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক কামাল জানান, দিনে নিয়মিত সরবরাহ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত চাপ নেই। বিকালের দিকে চাপ কিছুটা বাড়তে শুরু করলেও রাতের দিকে তুলনামূলকভাবে কিছুটা গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

আকিজ সিএনজি স্টেশনের কর্মী তারেক জানান, রাতে গ্যাস পাওয়া গেলেও সারাদিন সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। জামান স্টেশনের কর্মী আব্দুল্লাহও দিনের বেলায় সরবরাহ না থাকার কথা জানিয়েছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সারি

উত্তরার আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী, তেজগাঁও, কাওরান বাজার, সাতরাস্তা, মালিবাগ, মুগদা, মতিঝিল, মানিকনগর, খিলগাঁও, সবুজবাগ, বনশ্রী ও গোড়ানসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকটের একই চিত্র দেখা গেছে।

অনেক ফিলিং স্টেশন গ্যাসের অভাবে বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা স্টেশনগুলোতেও কম চাপের কারণে ধীরগতিতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন সিএনজি ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা।

আব্দুলপুরের খন্দকার ফিলিং স্টেশনের অপারেটর মনির হোসেন জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস না থাকায় স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে। ডেমরার রাসেল ফিলিং ও সিএনজি স্টেশনে চারটি হোসের মধ্যে মাত্র একটি সচল রাখা সম্ভব হয়েছে।

মহাখালীর এবিএন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক শহীদুল বলেন, গ্যাসের চাপ এত কম যে কিছুক্ষণ সরবরাহের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাম্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর আবার চালু করে সীমিত পরিসরে গ্যাস দিতে হচ্ছে।

দ্রুত সমাধান চান চালকরা

চালকদের ভাষ্য, গ্যাসনির্ভর যানবাহন চালিয়েই তাদের আয়-রোজগার। কিন্তু গ্যাসের জন্য দিনের বড় অংশ অপেক্ষায় কাটলে গাড়ি চালানোর সময় কমে যায়, ফলে আয়ও কমে যায়। প্রাইভেটকার চালক সানাউল্লাহ বলেন, গাড়ি চালাতে না পারলেও খরচ ঠিকই হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালীতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে গ্যাস খালাসে বিলম্ব এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে এই সংকট তৈরি হয়েছে। এতে আবাসিক গ্রাহক, সিএনজি চালক ও শিল্প খাতের মানুষও ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন চালকরা।

রাজধানীর গ্যাস সংকটে সিএনজি চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে গাড়ি চালানোর সময় কমে গিয়ে আয়ও কমছে, বাড়ছে দৈনিক খরচের চাপ।