০৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
যত্রতত্র বালু তোলায় ভয়াবহ নদীভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতভিটা-ফসলি জমি ভালো ফলনেও আউশের দামে হতাশ হবিগঞ্জের কৃষক, মণ ৭০০–৮০০ টাকা সুন্দরবনে বনদস্যুদের হানা, ট্রলারসহ ৫ জেলে অপহরণ তিন মাসে আইপিএসের দাম বেড়েছে ৩২ শতাংশ, চার্জার ফ্যানেও ৫০ শতাংশ ঊর্ধ্বগতি এমপিওভুক্তির দাবিতে শহীদ মিনারে শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য তানিম সুফিয়ানী অব্যাহতি ক্যামেরুনে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৭ সুন্দরবনের জলবায়ু প্রকল্পে ব্রিটিশ সহায়তা কাটছাঁট, দুই বছর আগেই বন্ধ হচ্ছে কার্যক্রম শেরপুরে পুকুর থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজের সাড়ে ১৪ ঘণ্টা পর মিলল সন্ধান নুসরাত হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের সাজা আমৃত্যু কারাদণ্ড

বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী ভারত, রাজনীতি চলবে নিজস্ব পথে

বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বেসরকারি খাতের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ভারত। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিজস্ব গতিতে চলবে, তবে জনগণের স্বার্থে ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া জরুরি।

সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন। রাজনীতি তার নিজস্ব পথে চলবে, কিন্তু দুই দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করা উভয় পক্ষের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। সময়কে তার নিজস্ব গতিতে এগোতে দিয়ে দুই দেশের মানুষের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সমান মর্যাদায় সম্পর্কের বার্তা

ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশকে একটি প্রাণবন্ত, সার্বভৌম ও স্বাধীন দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। একইভাবে ভারতও সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র—এ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কোনো দেশই বড় বা ছোট নয়; দুই দেশই সমান এবং সেই সমতার ভিত্তিতেই পারস্পরিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত।

ত্রিবেদী শান্তি ও সমৃদ্ধির পারস্পরিক সম্পর্কের ওপরও জোর দেন। তাঁর মতে, শান্তি নিশ্চিত করা গেলে সমৃদ্ধি তার পথ তৈরি করবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা বাংলাদেশ ও ভারতের উভয় দেশের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, সাধারণ মানুষের চাহিদা খুব বেশি নয়। তারা জীবনের মৌলিক প্রয়োজনগুলো নিশ্চিত করতে চায়, আর এসবের মধ্যে শান্তিই তাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

মহাত্মা গান্ধীর একটি নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তার প্রভাব সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের ওপর কী পড়বে, নেতৃত্বকে সবসময় সেটি বিবেচনায় রাখতে হবে।

যৌথ বিনিয়োগে নতুন সুযোগ

বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন ত্রিবেদী। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে যৌথ ব্যবসায়িক প্রকল্পের সম্ভাবনা খুঁজে দেখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এর আগে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব কমাতে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেছিলেন। তাঁর মতে, বিশ্বের কোনো সরকারই মানুষের সব প্রয়োজন একা পূরণ করতে পারে না। এ জন্য বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও মানুষে-মানুষে যোগাযোগ শক্তিশালী হলে বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হতে পারে।

বাংলাদেশ-ভারত ব্যবসায়িক সম্পর্ক

দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যবসা, বিনিয়োগ, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যৌথ উদ্যোগ এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজনৈতিক সম্পর্কের গতিপথ আলাদা হলেও জনগণের স্বার্থে ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তাকেই ভারত গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

যত্রতত্র বালু তোলায় ভয়াবহ নদীভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতভিটা-ফসলি জমি

বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী ভারত, রাজনীতি চলবে নিজস্ব পথে

০২:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বেসরকারি খাতের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ভারত। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিজস্ব গতিতে চলবে, তবে জনগণের স্বার্থে ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া জরুরি।

সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন। রাজনীতি তার নিজস্ব পথে চলবে, কিন্তু দুই দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করা উভয় পক্ষের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। সময়কে তার নিজস্ব গতিতে এগোতে দিয়ে দুই দেশের মানুষের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সমান মর্যাদায় সম্পর্কের বার্তা

ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশকে একটি প্রাণবন্ত, সার্বভৌম ও স্বাধীন দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। একইভাবে ভারতও সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র—এ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কোনো দেশই বড় বা ছোট নয়; দুই দেশই সমান এবং সেই সমতার ভিত্তিতেই পারস্পরিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত।

ত্রিবেদী শান্তি ও সমৃদ্ধির পারস্পরিক সম্পর্কের ওপরও জোর দেন। তাঁর মতে, শান্তি নিশ্চিত করা গেলে সমৃদ্ধি তার পথ তৈরি করবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা বাংলাদেশ ও ভারতের উভয় দেশের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, সাধারণ মানুষের চাহিদা খুব বেশি নয়। তারা জীবনের মৌলিক প্রয়োজনগুলো নিশ্চিত করতে চায়, আর এসবের মধ্যে শান্তিই তাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

মহাত্মা গান্ধীর একটি নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তার প্রভাব সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের ওপর কী পড়বে, নেতৃত্বকে সবসময় সেটি বিবেচনায় রাখতে হবে।

যৌথ বিনিয়োগে নতুন সুযোগ

বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন ত্রিবেদী। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে যৌথ ব্যবসায়িক প্রকল্পের সম্ভাবনা খুঁজে দেখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এর আগে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব কমাতে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেছিলেন। তাঁর মতে, বিশ্বের কোনো সরকারই মানুষের সব প্রয়োজন একা পূরণ করতে পারে না। এ জন্য বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও মানুষে-মানুষে যোগাযোগ শক্তিশালী হলে বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হতে পারে।

বাংলাদেশ-ভারত ব্যবসায়িক সম্পর্ক

দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যবসা, বিনিয়োগ, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যৌথ উদ্যোগ এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজনৈতিক সম্পর্কের গতিপথ আলাদা হলেও জনগণের স্বার্থে ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তাকেই ভারত গুরুত্ব দিচ্ছে।