চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটের পাশাপাশি ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেও ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুৎবিহীন সময় কাটানো কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি সামাল দিতে আইপিএস, ব্যাটারি, চার্জার ফ্যান ও বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। তবে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব পণ্যের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন মার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে আইপিএসের দাম গড়ে প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে আইপিএস ব্যাটারির দাম বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে চার্জার ফ্যানের, প্রায় ৫০ শতাংশ। গ্যাস সংকটের কারণে বৈদ্যুতিক চুলার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আইপিএস ও ব্যাটারির বাজারে বড় ধাক্কা
তিন মাস আগে চট্টগ্রামে মাঝারি মানের একটি আইপিএস ২৪ থেকে ২৬ হাজার টাকায় পাওয়া গেলেও এখন সেটির দাম ৩২ থেকে ৩৩ হাজার টাকা। ভালো মানের আইপিএসের দামও ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ থেকে ৪০ হাজার টাকায়।

আইপিএস ব্যাটারির ক্ষেত্রেও একই চিত্র। আগে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া ব্যাটারির দাম এখন ১৭ থেকে ২০ হাজার টাকা। অপেক্ষাকৃত ভালো মানের ব্যাটারির দাম ২১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৩ থেকে ২৬ হাজার টাকায় উঠেছে।
চার্জার ফ্যান ও বৈদ্যুতিক চুলাতেও মূল্যবৃদ্ধি
বিদ্যুৎ চলে গেলে স্বস্তির অন্যতম উপায় হয়ে উঠেছে চার্জার ফ্যান। কিন্তু তিন মাস আগে প্রায় তিন হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া এসব ফ্যান এখন চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ সংকটে স্বস্তি খুঁজতে গিয়ে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
গ্যাস সংকটের কারণে বৈদ্যুতিক চুলার চাহিদাও বেড়েছে। তিন-চার হাজার টাকার চুলার দাম এখন সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার বেশি। ভালো মানের চুলা, যা তিন মাস আগেও ছয় থেকে আট হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এখন বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায়।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাড়তি দামের কারণে প্রয়োজনীয় এসব পণ্য কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। উত্তর কাট্টলীর বাসিন্দা রোখসানা আরা জানান, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তাঁর সন্তানদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। ধার করা টাকা নিয়ে আইপিএস কিনতে এসে তিনি আগের তুলনায় অনেক বেশি দাম চাওয়ায় হতাশ হয়েছেন।

লোডশেডিংয়ের সুযোগে কারসাজির অভিযোগ
রাইফেল ক্লাব ইলেকট্রনিকস মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. শামীমের অভিযোগ, কিছু কোম্পানি, বড় ব্যবসায়ী ও ডিলার লোডশেডিং এবং বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়েছেন। তাঁর দাবি, ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু ব্যবসায়ীও এ ধরনের কারসাজির সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ীরাও বিব্রত বলে জানান তিনি।
একেএম ব্যাটারি হাউসের মালিক বেলাল হোসেন বলেন, আগের তুলনায় আইপিএস, চার্জার ফ্যান ও বৈদ্যুতিক চুলার চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। কিন্তু অধিকাংশ কোম্পানি সে অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করছে না। এর আগে সংকটের কথা বলে কিছু কোম্পানি দাম বাড়িয়েছিল বলেও জানান তিনি।
বাজার তদারকি নিয়ে প্রশ্ন
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে সাধারণ মানুষ এমনিতেই চাপে রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর প্রশ্ন, বাজার তদারকির জন্য একাধিক সংস্থা থাকলেও ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজারে কার্যকর নজরদারি কোথায়। তাঁর দাবি, গত এক বছরেও ইলেকট্রনিক মার্কেটে কোনো সংস্থার অভিযান দেখা যায়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















