বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গত এক দশকে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা বেড়েছে। কিন্তু ব্রাজিলে ঘটেছে উল্টোটা। দুর্বল প্রেসিডেন্টদের সময়ে আদালত ও বিশেষ করে কংগ্রেসের হাতে ক্ষমতা ক্রমেই কেন্দ্রীভূত হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যে অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কে জিতবেন, তা নিয়েও কংগ্রেসের বড় অংশ খুব বেশি উদ্বিগ্ন নয়।
৪ অক্টোবরের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮০ বছর বয়সী বামপন্থি বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ৪৪ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারো, সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে জাইর বলসোনারো ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। একই দিনে নিম্নকক্ষের ৫১৩টি আসন এবং সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ আসনেও ভোট হবে।
তবে বিদায়ী কংগ্রেসের ৪৬ শতাংশ আসন নিয়ন্ত্রণকারী বৃহত্তম জোট সেন্ট্রাও নিজেদের নিরপেক্ষ ঘোষণা করেছে। দলীয় নেতৃত্ব স্থানীয় রাজনীতিকদের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থনের সুযোগ দিচ্ছে।
কংগ্রেসের হাতে বাজেটের নিয়ন্ত্রণ
২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফকে অভিশংসন করা হয়। তার উত্তরসূরি মিশেল তেমেরও সীমিত জনসমর্থন নিয়ে সরকার চালান। জাইর বলসোনারোও কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় ব্যর্থতার পর অভিশংসন ঠেকাতে কংগ্রেসকে ফেডারেল বাজেটে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেন।
২০১৫ সালে বিবেচনাধীন সরকারি ব্যয়ের মাত্র ২ শতাংশ কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ২০২৬ সালে তা বেড়ে ২৫ শতাংশ হয়েছে। ৬ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন রিয়েসের বাজেটের ৯০ শতাংশের বেশি বাধ্যতামূলক ব্যয়ে যায়। ২০২৬ সালে বিবেচনাধীন ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৪৬ বিলিয়ন ডলার, যার ১২ বিলিয়ন ডলার নিয়ন্ত্রণ করছে কংগ্রেস।
স্থানীয় জনপ্রিয় প্রকল্পে এই অর্থ ব্যবহারের ফলে আইনপ্রণেতাদের পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনাও বাড়ছে। ২০২৪ সালে পুনরায় প্রার্থী হওয়া ক্ষমতাসীন মেয়রদের ৮১ শতাংশ জয়ী হন। এবার নিম্নকক্ষের ৮৭ শতাংশ সদস্য পুনর্নির্বাচনে লড়ছেন, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

আইন প্রণয়নেও বদল
১৯৮৮ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ব্রাজিলের নতুন আইনের ৮০ শতাংশের বেশি নির্বাহী বিভাগ থেকে আসত। ২০২৫ সালে তা কমে ১৯ শতাংশ হয়েছে; বিপরীতে কংগ্রেসের উদ্যোগে এসেছে ৭৫ শতাংশ আইন।
কংগ্রেসের ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে লবির প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। গত বছর কৃষি ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর চাপের মধ্যে পরিবেশগত অনুমোদন প্রক্রিয়া দুর্বল করার বিল পাস হয়। লুলা বড় অংশে ভেটো দিলেও কংগ্রেস অধিকাংশ ভেটো বাতিল করে।
দুর্নীতির ঝুঁকি
জুলাইয়ে ফেডারেল অ্যাকাউন্টস কোর্ট ১০০টি ‘পিক্স অ্যামেন্ডমেন্ট’ পরীক্ষা করে। ২০২০-২০২৪ সময়ে ৭৫টি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পাঠানো প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলারের এসব বরাদ্দের ৮২ শতাংশে অনিয়ম পাওয়া যায়। অর্থ নির্ধারিত প্রকল্পের বাইরে যাওয়া, অস্বাভাবিক চুক্তিমূল্য এবং অসম্পন্ন প্রকল্পে অর্থ দেওয়ার মতো অনিয়ম ছিল। আদালতের হিসাবে সরকারি কোষাগারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার।
বর্তমান বাজেটে কংগ্রেস ৭ বিলিয়ন রিয়েসের পিক্স বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। নমুনা তদন্তের ফল সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রতিনিধিত্ব করলে সম্ভাব্য ক্ষতি বড় হতে পারে।
এদিকে ২০২১ সাল থেকে সিনেটররা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে ১০৫টি অভিশংসন আবেদন করেছেন। সন্দেহজনক বাজেট বরাদ্দ তদন্তকারী বিচারপতি ফ্লাভিও দিনোর বিরুদ্ধেও আটটি প্রস্তাব রয়েছে।
অক্টোবরে যে-ই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তাকে ধীরগতির অর্থনীতি, উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং এমন এক কংগ্রেসের মোকাবিলা করতে হবে, যার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দুর্বল ও নিজেদের দাবির প্রতি নির্ভরশীল রাখার মতো পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ব্রাজিলের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, গণতন্ত্রের জন্য শুধু অতিরিক্ত নির্বাহী ক্ষমতাই নয়, অতিশক্তিশালী আইনসভাও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















