ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে গণমাধ্যমের কোনো প্রশ্ন না নেওয়ার বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আগাম অনুরোধ করা হয়েছিল—এমন অভিযোগ ঘিরে অবস্থান পরিষ্কার করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, কোনো নেতার প্রকাশ্য উপস্থিতির আয়োজন নিয়ে আগে থেকে আলোচনা করা ভিভিআইপি সফরের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ও প্রচলিত প্রক্রিয়ার অংশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, এ ধরনের সফরে প্রকাশ্য অনুষ্ঠান ও গণমাধ্যমের উপস্থিতি নিয়ে আয়োজক পক্ষগুলোর মধ্যে নিয়মিত আলোচনা হয়। ভারতীয় পক্ষও এ ক্ষেত্রে ভিভিআইপি সফরের জন্য অনুসরণ করা তাদের প্রচলিত ব্যবস্থাপনার কথা জানিয়েছিল।

ট্রাম্পের ‘অপ্রত্যাশিত’ আচরণ নিয়ে সতর্কতা
ভারতীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি দলগুলো তার অনির্দেশ্য আচরণ নিয়ে সতর্ক থাকে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে ট্রাম্পের বিভিন্ন কথোপকথনের উদাহরণ টেনে ভারতীয় পক্ষের সতর্ক অবস্থানের বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এর আগে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর দাবি করেন, মোদি-ট্রাম্প বৈঠকে গণমাধ্যমের কাছ থেকে কোনো প্রশ্ন না নেওয়ার জন্য ভারত ‘বিশেষভাবে অনুরোধ’ করেছিল।
গোরের দাবি, বৈঠকের আগে তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছিলেন যে ভারতীয় পক্ষ কোনো প্রশ্ন নিতে চায় না। ট্রাম্প এতে সম্মতি দিয়েছিলেন বলেও তিনি জানান। কিন্তু বৈঠকে গণমাধ্যমের সামনে দুই নেতা কয়েক মিনিট বক্তব্য দেওয়ার পর ট্রাম্প নিজেই ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করতে বলেন।
এরপর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায় বলে দাবি করেন গোর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকের পর প্রায় ৪৫ মিনিটের একটি সংবাদ সম্মেলন হয় এবং সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
জ্বালানি ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে মোদির উদ্বেগ
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও ট্রাম্পের বৈঠকটি হয়। বৈঠকে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর বাড়তে থাকা হামলার প্রসঙ্গও ওঠে।
মোদি বলেন, ভারতের বিপুলসংখ্যক নাবিক সমুদ্র পরিবহন খাতে কাজ করেন এবং তাদের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষার বিষয়টি তিনি ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরেন।
এর জবাবে ট্রাম্প ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। মোদিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কেউ যদি তার ওপর হামলা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পাশে থাকবে। তবে ভবিষ্যতে নেতৃত্বে পরিবর্তন এলে পরিস্থিতি কী হবে, সে বিষয়ে তিনি অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দেন।
বৈঠকে ট্রাম্প ভবিষ্যতে ভারত সফরের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
মোদি-ট্রাম্প বৈঠককে ঘিরে প্রশ্ন না নেওয়ার অভিযোগের পর ভারতের এই ব্যাখ্যায় নয়াদিল্লি বিষয়টিকে বিশেষ কোনো ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, বরং ভিভিআইপি সফরের প্রচলিত প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেই তুলে ধরেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















