তামিলনাড়ুর পারান্দুরে চেন্নাইয়ের দ্বিতীয় বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করায় মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগমের (ডিএমকে) সভাপতি এম কে স্ট্যালিন। তিনি এই সিদ্ধান্তকে তামিলনাড়ুর উন্নয়নের জন্য ‘অপূরণীয় ধাক্কা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
স্ট্যালিন সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, পারান্দুর বিমানবন্দর প্রকল্প বাতিল কোনো পরিবর্তন নয়, বরং এটি তামিলনাড়ুর প্রবৃদ্ধিকে কয়েক বছর পিছিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে রাজ্যের বৃহত্তর স্বার্থকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত বিধানসভায় কোনো আলোচনা বা বিতর্কের সুযোগ না দিয়েই নেওয়া হয়েছে, যা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। বিধানসভার ১১০ নম্বর বিধির অধীনে ঘোষণার মাধ্যমে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলেও বিরোধীদের মতামত জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ডিএমকের।
পারান্দুর প্রকল্প নিয়ে স্ট্যালিনের আপত্তি
স্ট্যালিনের দাবি, পারান্দুরকে বিমানবন্দরের স্থান হিসেবে বেছে নেওয়ার আগে সম্ভাব্য সব বিকল্প যাচাই করা হয়েছিল। জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ ও অনুমোদনের বেশ কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছিল। দ্রুত নির্মাণকাজ শুরুর পরিকল্পনাও প্রস্তুত ছিল বলে জানান তিনি।
তার মতে, এখন নতুন করে অন্য স্থান খুঁজে পুরো প্রক্রিয়া শুরু করলে বিমানবন্দর নির্মাণ আরও দীর্ঘ সময় পিছিয়ে যাবে এবং এর প্রভাব পড়বে তামিলনাড়ুর উন্নয়নের গতিপথে।

২০ হাজার কোটি রুপির প্রকল্প ঘিরে বিরোধ
প্রায় ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত কাঞ্চিপুরম জেলার পারান্দুরে দ্বিতীয় চেন্নাই বিমানবন্দর নির্মাণের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ হাজার কোটি রুপি। পরিকল্পিত বিমানবন্দরটির বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা হওয়ার কথা ছিল ১০ কোটি।
তবে পারান্দুরের জমি রানওয়ে নির্মাণের জন্য উপযুক্ত নয় বলে আপত্তি উঠেছিল। ওই এলাকায় জলাভূমি ও জলাধার রয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত জমিতে ধান চাষ হওয়ায় স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ করে আসছিলেন।
কৃষিজমি ও মানুষের জীবিকা রক্ষার যুক্তি
মুখ্যমন্ত্রী বিজয় জানিয়েছেন, উন্নয়ন ও শিল্পায়নের গুরুত্ব তিনি স্বীকার করেন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিমানবন্দরের ভূমিকার বিষয়েও তিনি একমত। তবে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের নামে কৃষিজমি ও মানুষের জীবিকার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব তিনি মেনে নিতে চান না।
বিজয় বলেন, ২০২৫ সালে পারান্দুর সফরের সময় তিনি স্থানীয় মানুষের অভিযোগ শুনেছিলেন এবং বিমানবন্দর প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তার ভাষ্য, কৃষকরা তাদের কৃষিজমি রক্ষার জন্য আন্দোলন করছিলেন। তাই পারান্দুরের পরিবর্তে এমন একটি বিকল্প স্থান বেছে নেওয়া হবে, যেখানে কৃষিজমির ক্ষতি ও মানুষের জীবিকার ওপর প্রভাব সর্বনিম্ন থাকবে।
চেন্নাই বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা

বিজয় জানান, চেন্নাইয়ের মীনামবাক্কম বিমানবন্দর বর্তমানে বছরে প্রায় ৩ কোটি যাত্রী সামলাতে পারে। শহরের ভবিষ্যৎ চাহিদা, যাত্রীসুবিধা, শিল্পের সম্প্রসারণ এবং কার্গো পরিবহনের ক্রমবর্ধমান প্রয়োজন বিবেচনায় নতুন বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তবে নতুন স্থান নির্ধারণের পাশাপাশি বিদ্যমান বিমানবন্দর সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। মীনামবাক্কমে নতুন যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণের মাধ্যমে অতিরিক্ত ২ কোটি যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা তৈরি করা হবে। টার্মিনাল-৩-এর নির্মাণকাজ শেষ হলে সক্ষমতা ৩ কোটি ৫০ লাখে পৌঁছাবে। পরে টার্মিনাল-৫ চালু হলে মোট সক্ষমতা বছরে ৫ কোটি ৫০ লাখ যাত্রীর পর্যায়ে যাবে। এ ছাড়া আরও সড়ক ও উড়ালসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন বিজয়।
বিরোধীদের ওয়াকআউট
পারান্দুর বিমানবন্দর প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তে ডিএমকে বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করে। দলটি প্রকল্পটি নিয়ে বিধানসভায় আলোচনা চাইলেও স্পিকার সেই দাবি অনুমোদন করেননি। এর পরই স্ট্যালিন প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তকে তামিলনাড়ুর উন্নয়নের জন্য বড় ধরনের হতাশা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
পারান্দুর বিমানবন্দর, চেন্নাইয়ের দ্বিতীয় বিমানবন্দর, এম কে স্ট্যালিন, সি জোসেফ বিজয়, তামিলনাড়ু বিমানবন্দর প্রকল্প
চেন্নাইয়ের দ্বিতীয় বিমানবন্দর নির্মাণের পারান্দুর প্রকল্প বাতিল নিয়ে তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক বিরোধ তীব্র হয়েছে। কৃষিজমি রক্ষার যুক্তিতে সিদ্ধান্তের পক্ষে বিজয়, বিপরীতে উন্নয়নের গতি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা স্ট্যালিনের।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















