ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আরও চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার বাকি ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্ত্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল দুই আসামি
হাইকোর্ট যে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন তারা হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা এবং শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম।
মামলার বিচারিক আদালতের রায়ের পর আসামিদের করা আপিল এবং মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য পাঠানো ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ সিদ্ধান্ত দেন।
২০১৯ সালে ট্রাইব্যুনালের রায়
নুসরাত হত্যা মামলায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
ওই বছরের এপ্রিল মাসে সোনাগাজীর মাদ্রাসায় নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে তিনি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন। আগুনে গুরুতর দগ্ধ নুসরাতকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়।
চার দিন পর মৃত্যু
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল নুসরাত জাহান রাফি মারা যান। তার ওপর হামলার চার দিন পর মৃত্যু হয় তার।
নুসরাতের মৃত্যু দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বিচার শেষে ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। হাইকোর্টের রায়ে এখন দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকল, চারজনের সাজা কমে আমৃত্যু কারাদণ্ড হলো এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ আসামি খালাস পেলেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















