ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান তাঁর দুই ছেলের একজনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে ঠিক কোন ছেলেকে লক্ষ্য করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের একটি অনুষ্ঠানে ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘অবিশ্বাস্য একটি ঘটনা ঘটেছে। ইরান আমার এক ছেলেকে লক্ষ্য করেছিল। ইরান আমার এক ছেলেকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে।’
তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত প্রমাণ বা ঘটনার বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য আসে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে। ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের জন্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে সংস্থাটি আপত্তি জানিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

নেতানিয়াহু আইজেনকটের জন্য পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, এটি কোনো বিলাসিতা নয়। তাঁর দাবি, যথাযথ নিরাপত্তা না থাকলে ইরান হামলার সুযোগ পেতে পারে।
কোন ছেলেকে লক্ষ্য করা হয়েছিল, স্পষ্ট নয়
নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাঁর বড় ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহু দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালের শুরু থেকে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে ইসরায়েলি নিরাপত্তাকর্মীরা রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ইয়াইরকে যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যয় নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরেও বিতর্ক রয়েছে। দক্ষিণ ফ্লোরিডার কিছু বাসিন্দাও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তাঁর উপস্থিতি ওই এলাকাকে ইসরায়েলের শত্রুদের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।
নেতানিয়াহুর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ইসরায়েলি সাংবাদিক আমিত সেগাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, কথিত হত্যাচেষ্টার বিষয়টি কয়েক মাস ধরেই জানা ছিল। তবে বিষয়টি প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এতদিন তা প্রকাশ্যে আসেনি বলে তিনি জানান।
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় নতুন মাত্রা
নেতানিয়াহুর এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলায় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন।

এরপর খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বার্তায় তিনি তাঁর বাবা ও পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে খুব কমই প্রকাশ্যে দেখা গেছে। তাঁর বাবাকে হত্যার একই হামলায় তিনি আহত হয়েছিলেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আলী খামেনির শেষকৃত্য উপলক্ষে প্রকাশিত আরেকটি বার্তায় মোজতবা তাঁর বাবের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। ফলে নেতানিয়াহুর ছেলেকে লক্ষ্য করে কথিত হত্যাচেষ্টার দাবি ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ইরান সত্যিই নেতানিয়াহুর কোনো ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল কি না, কিংবা কথিত সেই হামলার সঙ্গে ইরানের কোনো নির্দিষ্ট সংস্থার সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত, নেতানিয়াহুর ছেলে হত্যাচেষ্টা, ইরানের হামলা ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















