পশ্চিম সাহারায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর মিশনের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণের বিষয়টি প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত না করায় ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে আলজেরিয়া।
বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে ১২টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। রাশিয়া ও মোজাম্বিক ভোটদানে বিরত থাকে। আর পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতাকামী পলিসারিও ফ্রন্টের সমর্থক আলজেরিয়া ভোটেই অংশ নেয়নি।
প্রায় পাঁচ দশকের বিরোধ
পশ্চিম সাহারা একসময় স্পেনের উপনিবেশ ছিল। ১৯৭৫ সালে মরক্কো অঞ্চলটি নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার পর আলজেরিয়া-সমর্থিত স্বাধীনতাকামী পলিসারিও ফ্রন্টের সঙ্গে সংঘাত শুরু হয়। আয়তনে পশ্চিম সাহারা যুক্তরাজ্যের চেয়ে কিছুটা বড়। অঞ্চলটিতে সমুদ্রের নিচে উল্লেখযোগ্য তেল ও খনিজ সম্পদের মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
১৯৯১ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ এবং পশ্চিম সাহারার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতির জন্য জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন গঠন করা হয়।
তবে গণভোটে কারা ভোট দিতে পারবেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে সেই ভোট আর অনুষ্ঠিত হয়নি। বর্তমানে মরক্কো পশ্চিম সাহারার জন্য স্বাধীনতার বদলে স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাবকেই একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান হিসেবে তুলে ধরছে।

২০২০ সালে ফের সংঘাত
২০২০ সালে পলিসারিও ফ্রন্ট আবার সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে ২৯ বছরের যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটে। এরপর থেকে পশ্চিম সাহারা নিয়ে মরক্কো ও পলিসারিও ফ্রন্টের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
জাতিসংঘে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আমর বেনজামা যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া করা প্রস্তাবে দুটি সংশোধনী যুক্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বিশেষ করে পশ্চিম সাহারায় মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের বিষয়টি জাতিসংঘের মিশনের দায়িত্বের মধ্যে রাখার দাবি জানান।
কিন্তু সেই দাবি গৃহীত হয়নি। এ কারণে আলজেরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা করে এবং ভোটে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
রাজনৈতিক সমাধানের তাগিদ
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রদূত রবার্ট উড বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে পশ্চিম সাহারা বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের ব্যক্তিগত দূত স্তাফান দে মিস্তুরার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘস্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের জন্য দ্রুত প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানান।
উড বলেন, পশ্চিম সাহারা সংকটের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র মরক্কোর স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনাকে গুরুতর, বিশ্বাসযোগ্য ও বাস্তবসম্মত একটি প্রস্তাব হিসেবে বিবেচনা করে।
এর আগে চলতি মাসে দে মিস্তুরা পশ্চিম সাহারাকে ভাগ করে দেওয়ার একটি সম্ভাব্য প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদের সামনে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল, এতে উভয় পক্ষের স্বার্থের কিছুটা সমন্বয় করা সম্ভব হতে পারে এবং পশ্চিম সাহারার বাসিন্দারা কোন পক্ষের অধীনে থাকতে চান, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
তবে দে মিস্তুরা জানান, মরক্কো ও পলিসারিও ফ্রন্ট—কোনো পক্ষই এ প্রস্তাব নিয়ে আরও আলোচনায় আগ্রহ দেখায়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















