০৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
হরমুজ ঘিরে ছয় মাসে ৬৮ হামলা, নিহত ২০ নাবিক ও বন্দরকর্মী সাইবার নিরাপত্তা সেবার লাইসেন্স জটিলতার অবসান, সমঝোতায় ইওয়াই ঘানা ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞার হুমকি, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা চীনের ইরান যুদ্ধে সমর্থন কমছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩৩ শতাংশেই আটকে রুপির দর আরও শক্তিশালী, ডলারের বিপরীতে সামান্য ঊর্ধ্বগতি সৌদি আরব-ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে নতুন চুক্তি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্র পাশে আছে—কিন্তু কার পাশে? রাশিয়ার জ্বালানি সংকট কি ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ত্বরান্বিত করতে পারে? সনি এক্সপেরিয়া ১০ অষ্টমী: পিক্সেল ১০এ-কে যে হার্ডওয়্যার শিক্ষা দিল

যুদ্ধের ছয় মাসে যুদ্ধকবলিত দেশ থেকেই আসছে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক তেল

ইরান যুদ্ধ শুরুর ছয় মাসের মাথায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪৩ শতাংশই এখন কোনো না কোনো সংঘাতকবলিত দেশের ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধ, হামলা, নিষেধাজ্ঞা ও অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে তেল উৎপাদন ও পরিশোধন ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে।

সংঘাতকবলিত দেশগুলোর ওপর তেলের বড় নির্ভরতা

চলতি বছর ইরান, রাশিয়া, ইউক্রেন, লিবিয়া ও ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে সংঘাত, নিষেধাজ্ঞা এবং সরবরাহ সংকট বৈশ্বিক তেল ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ২০২৫ সালের উৎপাদনের হিসাব ধরে দেখা যায়, এসব পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত দেশগুলো প্রতিদিন প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করেছে। যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ৪৩ শতাংশেরও বেশি।

ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর যে সংকট শুরু হয়, তা এখন পর্যন্ত বিশ্বে তেল সরবরাহের অন্যতম বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। সংকটের দ্রুত অবসানেরও কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

এর পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার তেল উৎপাদন ও পরিশোধন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে কাছের দেশ কাজাখস্তানেও। লিবিয়ার চলমান সংঘাত এবং বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধও বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

হরমুজ প্রণালিতে বড় ধাক্কা

ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পারস্য উপসাগরীয় তেল সরবরাহ ব্যবস্থায়। সৌদি আরব তেল পরিবহনের কিছু অংশ লোহিত সাগরের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানিকারকেরা হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিভিন্ন উপায়ে তেল সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকদের হিসাবে, উপসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ থেকে ৭০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

তবে ঝুঁকি শুধু উপসাগরেই সীমাবদ্ধ নেই। লোহিত সাগর এবং মিসরের সুয়েজ খালের আশপাশে সাম্প্রতিক হামলা বৈশ্বিক তেল পরিবহন ব্যবস্থার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে যুদ্ধের প্রভাব সরবরাহের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও পরিবহন ব্যয়ের ওপরও পড়ছে।

পরিশোধন সক্ষমতাও কমেছে

শুধু অপরিশোধিত তেল সরবরাহ নয়, তেল পরিশোধন ব্যবস্থাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। ইরান ও ইউক্রেনের সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী তেল পরিশোধন সক্ষমতার প্রায় এক-দশমাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন তেল পরিশোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এমনকি ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরের ওমস্কের স্থাপনাও হামলার লক্ষ্য হয়েছে।

রাশিয়াতেও জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটি পেট্রোল ও ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ আরও সংকুচিত হয়েছে।বিশ্বে তেলের মজুদে তৃতীয় বৃহত্তম দেশ ইরান: ওপেক

বাড়ছে জ্বালানির দাম, চাপ বাড়ছে মূল্যস্ফীতিতে

সরবরাহ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানির দামে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলো প্রায় সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কাজ করলেও দেশটিতে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জ্বালানির উচ্চমূল্য এখন মূল্যস্ফীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। এর ফলে ঋণের খরচ বাড়ছে এবং বিভিন্ন সরকারের আর্থিক চাপও তীব্র হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ইতোমধ্যে ৪০ লাখ কোটি ডলারের রেকর্ড মাত্রা ছাড়িয়েছে।

মজুত কমছে, বাড়ছে উদ্বেগ

বিশ্বের তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা সামাল দিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জরুরি মজুত থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল বাজারে ছেড়েছে। কিন্তু সেই মজুত থেকে সরবরাহ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে বৈশ্বিক তেল মজুত এখনও কমছে। ফলে আগামী কয়েক মাসে নতুন কোনো বড় সরবরাহ সংকট দেখা দিলে তা মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের তেলের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে

সংঘাতকবলিত অঞ্চলগুলো থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিশ্ব ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্রের তেলের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। চলতি বছর চরম আবহাওয়ার কারণে দেশটির তেল উৎপাদন ও জ্বালানি খাতেও সাময়িক বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে।

ফলে বর্তমান সংকট শুধু একটি দেশের যুদ্ধ বা একটি অঞ্চলের সরবরাহ সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা, চরম আবহাওয়া এবং পরিবহন ঝুঁকি একসঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও ভঙ্গুর করে তুলেছে।

ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো—বিশ্বের প্রায় অর্ধেক তেল সরবরাহ এমন দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে সংঘাত বা সংঘাতের প্রভাব সক্রিয়। এই বাস্তবতায় সামান্য নতুন কোনো সরবরাহ বিঘ্নও তেলের দাম, মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।

বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রায় ৪৩ শতাংশ এখন সংঘাতকবলিত দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধ ও হামলায় উৎপাদন, পরিশোধন ও পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি বাজারে সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ ঘিরে ছয় মাসে ৬৮ হামলা, নিহত ২০ নাবিক ও বন্দরকর্মী

যুদ্ধের ছয় মাসে যুদ্ধকবলিত দেশ থেকেই আসছে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক তেল

০৫:৩৮:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

ইরান যুদ্ধ শুরুর ছয় মাসের মাথায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪৩ শতাংশই এখন কোনো না কোনো সংঘাতকবলিত দেশের ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধ, হামলা, নিষেধাজ্ঞা ও অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে তেল উৎপাদন ও পরিশোধন ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে।

সংঘাতকবলিত দেশগুলোর ওপর তেলের বড় নির্ভরতা

চলতি বছর ইরান, রাশিয়া, ইউক্রেন, লিবিয়া ও ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে সংঘাত, নিষেধাজ্ঞা এবং সরবরাহ সংকট বৈশ্বিক তেল ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ২০২৫ সালের উৎপাদনের হিসাব ধরে দেখা যায়, এসব পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত দেশগুলো প্রতিদিন প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করেছে। যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ৪৩ শতাংশেরও বেশি।

ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর যে সংকট শুরু হয়, তা এখন পর্যন্ত বিশ্বে তেল সরবরাহের অন্যতম বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। সংকটের দ্রুত অবসানেরও কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

এর পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার তেল উৎপাদন ও পরিশোধন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে কাছের দেশ কাজাখস্তানেও। লিবিয়ার চলমান সংঘাত এবং বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধও বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

হরমুজ প্রণালিতে বড় ধাক্কা

ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পারস্য উপসাগরীয় তেল সরবরাহ ব্যবস্থায়। সৌদি আরব তেল পরিবহনের কিছু অংশ লোহিত সাগরের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানিকারকেরা হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিভিন্ন উপায়ে তেল সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকদের হিসাবে, উপসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ থেকে ৭০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

তবে ঝুঁকি শুধু উপসাগরেই সীমাবদ্ধ নেই। লোহিত সাগর এবং মিসরের সুয়েজ খালের আশপাশে সাম্প্রতিক হামলা বৈশ্বিক তেল পরিবহন ব্যবস্থার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে যুদ্ধের প্রভাব সরবরাহের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও পরিবহন ব্যয়ের ওপরও পড়ছে।

পরিশোধন সক্ষমতাও কমেছে

শুধু অপরিশোধিত তেল সরবরাহ নয়, তেল পরিশোধন ব্যবস্থাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। ইরান ও ইউক্রেনের সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী তেল পরিশোধন সক্ষমতার প্রায় এক-দশমাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন তেল পরিশোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এমনকি ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরের ওমস্কের স্থাপনাও হামলার লক্ষ্য হয়েছে।

রাশিয়াতেও জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটি পেট্রোল ও ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ আরও সংকুচিত হয়েছে।বিশ্বে তেলের মজুদে তৃতীয় বৃহত্তম দেশ ইরান: ওপেক

বাড়ছে জ্বালানির দাম, চাপ বাড়ছে মূল্যস্ফীতিতে

সরবরাহ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানির দামে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলো প্রায় সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কাজ করলেও দেশটিতে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জ্বালানির উচ্চমূল্য এখন মূল্যস্ফীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। এর ফলে ঋণের খরচ বাড়ছে এবং বিভিন্ন সরকারের আর্থিক চাপও তীব্র হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ইতোমধ্যে ৪০ লাখ কোটি ডলারের রেকর্ড মাত্রা ছাড়িয়েছে।

মজুত কমছে, বাড়ছে উদ্বেগ

বিশ্বের তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা সামাল দিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জরুরি মজুত থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল বাজারে ছেড়েছে। কিন্তু সেই মজুত থেকে সরবরাহ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে বৈশ্বিক তেল মজুত এখনও কমছে। ফলে আগামী কয়েক মাসে নতুন কোনো বড় সরবরাহ সংকট দেখা দিলে তা মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের তেলের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে

সংঘাতকবলিত অঞ্চলগুলো থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিশ্ব ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্রের তেলের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। চলতি বছর চরম আবহাওয়ার কারণে দেশটির তেল উৎপাদন ও জ্বালানি খাতেও সাময়িক বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে।

ফলে বর্তমান সংকট শুধু একটি দেশের যুদ্ধ বা একটি অঞ্চলের সরবরাহ সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা, চরম আবহাওয়া এবং পরিবহন ঝুঁকি একসঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও ভঙ্গুর করে তুলেছে।

ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো—বিশ্বের প্রায় অর্ধেক তেল সরবরাহ এমন দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে সংঘাত বা সংঘাতের প্রভাব সক্রিয়। এই বাস্তবতায় সামান্য নতুন কোনো সরবরাহ বিঘ্নও তেলের দাম, মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।

বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রায় ৪৩ শতাংশ এখন সংঘাতকবলিত দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধ ও হামলায় উৎপাদন, পরিশোধন ও পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি বাজারে সংকট আরও গভীর হচ্ছে।