০৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির তথ্য, যুদ্ধে ব্রিটেনের সরাসরি অংশগ্রহণের অভিযোগ বাংলাদেশ কৃষকের গুদাম ভাঙার পর সারের অনিয়ম ধরা পড়ল, ডিলারশিপ বাতিলের সুপারিশ ইরান যুদ্ধে নতুন উত্তেজনা, হরমুজে জাহাজ চলাচল তলানিতে—বাড়ছে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনীতির পথে ফেরার আহ্বান পাকিস্তানের বিশ্বসম্প্রদায়ে আফগানিস্তানের পুনঃএকত্রীকরণে ইন্দোনেশিয়ার জোরালো সমর্থন বেলুচিস্তানে শিক্ষাব্যবস্থা গভীর সংকটে, ঝুঁকিতে লাখো শিশুর ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে চার নীতির কথা জানালেন শি জিনপিং ইরান-পাকিস্তান গ্যাস পাইপলাইন চালু করতে ট্রাম্পের কাছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন বর্ণবৈষম্যের অভিযোগে শিশুদের হ্যালোইন পোশাক বিক্রি বন্ধ, ক্ষমা চাইল টার্গেট চাঙ্গি বিমানবন্দরে জ্যাকেট চুরির অভিযোগে দুই বছর পর ব্রিটিশ নাগরিক গ্রেপ্তার

হরমুজ ঘিরে ছয় মাসে ৬৮ হামলা, নিহত ২০ নাবিক ও বন্দরকর্মী

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সময়ে উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে অন্তত ৬৮টি ঘটনার তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। এসব ঘটনায় অন্তত ২০ জন নাবিক ও বন্দরকর্মী নিহত, ৩৫ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন।

প্রতি আড়াই দিনে একটি করে ঘটনা

জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের ছয় মাসে গড়ে প্রতি ২ দশমিক ৬ দিনে একটি করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রায় অর্ধেকই তেলবাহী জাহাজকে ঘিরে। এছাড়া প্রায় ২০ শতাংশ ঘটনা পণ্যবাহী জাহাজ এবং ১৫ শতাংশ বড় পণ্য পরিবহনকারী জাহাজকে কেন্দ্র করে ঘটেছে।

ব্রিটিশ সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা কর্তৃপক্ষ ৬৮টি ঘটনার মধ্যে ৪৭টিকে হামলা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। পতাকাবাহী জাহাজের হিসাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লাইবেরিয়ার ১৩টি জাহাজ। এরপর পানামা ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের ১০টি করে জাহাজ এসব ঘটনায় জড়িত ছিল। ইরানের পতাকাবাহী চারটি জাহাজও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।

যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে বদলেছে হামলার হার

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জুনের মাঝামাঝি শান্তি আলোচনা নিয়ে একটি কাঠামোগত সমঝোতা হওয়ার আগ পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। ওই সময়ে গড়ে প্রতি ২ দশমিক ৩ দিনে একটি করে ঘটনা ঘটে। এই পর্যায়েই ১৬ জন নিহত ও ১৯ জন আহত হন।

হরমুজ প্রণালির পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় দিকের জলসীমা ছাড়াও ইরাক, ইরান, কাতার, সৌদি আরব, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলসংলগ্ন এলাকাতেও এসব ঘটনা ঘটে।6 months of war: 20 dead in 68 incidents near Strait of Hormuz

শান্তি আলোচনা চলাকালে কিছুটা কমেছিল হামলা

শান্তি আলোচনা চলতে থাকা সময়, অর্থাৎ জুলাইয়ের প্রায় ৭ তারিখ পর্যন্ত হামলার হার প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। তখন গড়ে প্রতি ৪ দশমিক ৬ দিনে একটি ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে কোনো নাবিক বা বন্দরকর্মী নিহত, আহত কিংবা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

তবে ওই সময়ের পাঁচটি ঘটনার মধ্যে চারটিই ওমানের উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের কাছে ঘটেছে। এসব জাহাজ এমন একটি পথ ব্যবহার করছিল, যেটি ইরানি কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করেনি।

ইরান যুদ্ধ শেষে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে জাহাজ চলাচলের জন্য ফি আদায়ের আশা করছে। এ কারণে বিকল্প ওই পথ ব্যবহার না করতে জাহাজগুলোকে আগেই সতর্ক করেছিল দেশটি।

আলোচনা ভেঙে পড়ার পর আবার বেড়েছে ঝুঁকি

শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর সামুদ্রিক হামলা ও ঘটনার হার আবারও দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে গড়ে প্রতি ২ দশমিক ৮ দিনে একটি করে ঘটনা ঘটছে, যা যুদ্ধের শুরুর সময়ের পরিস্থিতির কাছাকাছি।

আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী পর্যায়ে এসব ঘটনায় চারজন নাবিক বা বন্দরকর্মী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ১৬ জন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তার অবনতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির তথ্য, যুদ্ধে ব্রিটেনের সরাসরি অংশগ্রহণের অভিযোগ

হরমুজ ঘিরে ছয় মাসে ৬৮ হামলা, নিহত ২০ নাবিক ও বন্দরকর্মী

০৬:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সময়ে উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে অন্তত ৬৮টি ঘটনার তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। এসব ঘটনায় অন্তত ২০ জন নাবিক ও বন্দরকর্মী নিহত, ৩৫ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন।

প্রতি আড়াই দিনে একটি করে ঘটনা

জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের ছয় মাসে গড়ে প্রতি ২ দশমিক ৬ দিনে একটি করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রায় অর্ধেকই তেলবাহী জাহাজকে ঘিরে। এছাড়া প্রায় ২০ শতাংশ ঘটনা পণ্যবাহী জাহাজ এবং ১৫ শতাংশ বড় পণ্য পরিবহনকারী জাহাজকে কেন্দ্র করে ঘটেছে।

ব্রিটিশ সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা কর্তৃপক্ষ ৬৮টি ঘটনার মধ্যে ৪৭টিকে হামলা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। পতাকাবাহী জাহাজের হিসাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লাইবেরিয়ার ১৩টি জাহাজ। এরপর পানামা ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের ১০টি করে জাহাজ এসব ঘটনায় জড়িত ছিল। ইরানের পতাকাবাহী চারটি জাহাজও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।

যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে বদলেছে হামলার হার

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জুনের মাঝামাঝি শান্তি আলোচনা নিয়ে একটি কাঠামোগত সমঝোতা হওয়ার আগ পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। ওই সময়ে গড়ে প্রতি ২ দশমিক ৩ দিনে একটি করে ঘটনা ঘটে। এই পর্যায়েই ১৬ জন নিহত ও ১৯ জন আহত হন।

হরমুজ প্রণালির পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় দিকের জলসীমা ছাড়াও ইরাক, ইরান, কাতার, সৌদি আরব, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলসংলগ্ন এলাকাতেও এসব ঘটনা ঘটে।6 months of war: 20 dead in 68 incidents near Strait of Hormuz

শান্তি আলোচনা চলাকালে কিছুটা কমেছিল হামলা

শান্তি আলোচনা চলতে থাকা সময়, অর্থাৎ জুলাইয়ের প্রায় ৭ তারিখ পর্যন্ত হামলার হার প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। তখন গড়ে প্রতি ৪ দশমিক ৬ দিনে একটি ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে কোনো নাবিক বা বন্দরকর্মী নিহত, আহত কিংবা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

তবে ওই সময়ের পাঁচটি ঘটনার মধ্যে চারটিই ওমানের উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের কাছে ঘটেছে। এসব জাহাজ এমন একটি পথ ব্যবহার করছিল, যেটি ইরানি কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করেনি।

ইরান যুদ্ধ শেষে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে জাহাজ চলাচলের জন্য ফি আদায়ের আশা করছে। এ কারণে বিকল্প ওই পথ ব্যবহার না করতে জাহাজগুলোকে আগেই সতর্ক করেছিল দেশটি।

আলোচনা ভেঙে পড়ার পর আবার বেড়েছে ঝুঁকি

শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর সামুদ্রিক হামলা ও ঘটনার হার আবারও দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে গড়ে প্রতি ২ দশমিক ৮ দিনে একটি করে ঘটনা ঘটছে, যা যুদ্ধের শুরুর সময়ের পরিস্থিতির কাছাকাছি।

আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী পর্যায়ে এসব ঘটনায় চারজন নাবিক বা বন্দরকর্মী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ১৬ জন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তার অবনতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।