আফগানিস্তানকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত করার প্রক্রিয়ায় গঠনমূলকভাবে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটি জানিয়েছে, আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিরে আসার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে তারা সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিরতে আফগানিস্তানের প্রচেষ্টা
ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিস মাত্তা সোমবার আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রথম রাজনৈতিক পরিচালক শোয়াইব বারাকজাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুনঃএকত্রীকরণ, আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়।
আনিস মাত্তা জানান, আফগানিস্তানের বর্তমান কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পূরণ এবং বিশ্বসম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি অবহিত হয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়া মনে করে, গঠনমূলক যোগাযোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে আফগানিস্তানের পরিস্থিতির উন্নতি, স্থিতিশীলতা এবং সাধারণ মানুষের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার পথ তৈরি করা সম্ভব।
কাবুলের প্রশংসা
জাকার্তায় আফগান দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত কায়েস বারাকজাই ইন্দোনেশিয়ার অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তান ইন্দোনেশিয়ার গঠনমূলক সম্পৃক্ততাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অর্থবহ যোগাযোগ বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা জোরদারে আফগানিস্তান তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।
আফগানিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং বৈশ্বিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়ার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশের ধারাবাহিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা কাবুলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় নতুন বার্তা
ইন্দোনেশিয়ার এই অবস্থান শুধু আফগানিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় নয়; বরং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সহযোগিতা জোরদারের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্ক যত গভীর হবে, দেশটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনর্গঠনের সুযোগও তত বাড়তে পারে। ইন্দোনেশিয়ার সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই সম্ভাবনার দিকেই নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ টানছে।
আফগানিস্তানের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আস্থা তৈরি করা এবং একই সঙ্গে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কার্যকর করা। ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন সেই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















