বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জ্যাকসন হোলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের বৈঠক সামনে রেখে বিনিয়োগকারীরা বিশেষ করে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। একই সময়ে, জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তার মন্তব্যের পরও ইয়েনের দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
জাপানি ইয়েনে চাপ কমলেও সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা
বৃহস্পতিবার প্রতি ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের দর ছিল প্রায় ১৫৯ দশমিক ৩০। জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপ-গভর্নর রিওজো হিমিনো বলেছেন, সময়মতো সুদের হার বাড়ানো হলে ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
তবে তিনি আগামী মাসের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে সরাসরি কোনো ইঙ্গিত দেননি। ফলে বাজারে ইয়েনের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব খুব সীমিত রয়েছে।
বাজারের হিসাব অনুযায়ী, আগামী মাসে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন প্রায় ৮৬ শতাংশ। আগামী ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বক্তব্যের দিকেও বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য ডলারকে সমর্থন দিচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানও ডলারের পক্ষে কিছুটা সহায়ক হয়েছে। জুলাই পর্যন্ত ১২ মাসে ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। জুনেও এই হার একই ছিল, তবে অর্থনীতিবিদদের ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পূর্বাভাসের চেয়ে এটি কিছুটা বেশি।
মাসভিত্তিক হিসাবে জুলাইয়ে এই মূল্যসূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। এর ফলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশা বাজারে এখনও টিকে আছে।
ডলার সূচক ৯৯ দশমিক ১৩-তে মোটামুটি অপরিবর্তিত ছিল। এর আগে সূচকটি আট দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল।
অন্যান্য প্রধান মুদ্রার অবস্থান
ডলারের বিপরীতে ইউরোর দর শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ১৬৫৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ব্রিটিশ পাউন্ড শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৩৫৮৬ ডলারে নেমেছে।
অস্ট্রেলীয় ডলার শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ শক্তিশালী হয়ে শূন্য দশমিক ৭১৮ ডলারে উঠেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক টানা দ্বিতীয়বারের মতো সুদের হার বাড়ানোর পর দেশটির মুদ্রা ওন ডলারের বিপরীতে শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে। প্রতি ডলারের বিপরীতে ওনের দর দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭৯ দশমিক ৯।

জ্যাকসন হোলের বক্তব্যেই মিলতে পারে পরবর্তী দিকনির্দেশনা
বাজার এখন মূলত জ্যাকসন হোল বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা বেশি থাকায় সুদের হার নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের অবস্থান কী হয়, তা মুদ্রাবাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে কেভিন ওয়ারশের বক্তব্যকে বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য থেকে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার কোন পথে যেতে পারে, সে সম্পর্কে নতুন ইঙ্গিত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে কানাডীয় ডলারও মোটামুটি স্থির ছিল। প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে এর দর ছিল ১ দশমিক ৩৮৮ কানাডীয় ডলার। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক নিয়েও বাজারে উদ্বেগ রয়েছে।
ক্রিপ্টো মুদ্রার বাজারে বিটকয়েন শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ৭৮ হাজার ৬৪০ ডলার ৯৫ সেন্টে এবং ইথার শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৪৮৩ ডলার ২৭ সেন্টে উঠেছে।
মুদ্রাবাজারে এখন মূল প্রশ্ন হলো, জ্যাকসন হোলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে কতটা কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। সেই বক্তব্যের ওপরই ডলার ও অন্যান্য প্রধান মুদ্রার পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















