০৮:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের নিষেধ অমান্য করে ফের খেলার মাঠ সংস্কার ১০ দিনের বিরতির পর ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে এক দিনেই যুক্তরাজ্যে প্রায় ৫০০ অভিবাসী লন্ডনে ইহুদি সম্প্রদায়ের চার অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগ, দোষ স্বীকার চার তরুণের নেপাল-তিব্বত আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ প্রায় ৩০০ ভারতীয়, স্বপ্নের তীর্থযাত্রায় গিয়ে দুই নারীও নিখোঁজ পাকিস্তানের অর্থনীতিতে উদযাপনের মতো তেমন কিছু নেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধাক্কায় বিশ্ব ভয়াবহ পরিবর্তনের মুখে, প্রস্তুতি নেই: বিল গেটস টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে বোন নূরিন নিয়াজির সাক্ষাৎ যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরদের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে কারফিউ ও দৈনিক সময়সীমা পাঞ্জাবে ক্যানসারের উন্নত চিকিৎসা আরও বিস্তৃত, বসছে পাঁচ নতুন ক্রায়োঅ্যাবলেশন যন্ত্র মানুষের উপস্থিতিতে বদলে যায় বন্যপ্রাণীর আচরণ, ৪,৫০০ প্রাণীর গবেষণায় নতুন তথ্য

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কঠোর, কৌশলী ভারসাম্যের পথে পাকিস্তান

  • Sarakhon Report
  • ০৬:৫৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • 14

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হওয়ার পর অত্যন্ত সতর্ক ও পরিমিত অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান। প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে ইসলামাবাদকে। ফলে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা না করে আন্তর্জাতিক আইন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং কূটনৈতিক সমঝোতার ওপর জোর দিয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য আন্তর্জাতিক আইন এবং দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। ইসলামাবাদের বক্তব্য, এসব দায়বদ্ধতা মেনেই ইরানের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান একদিকে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো সরাসরি বিরোধে জড়ানো এড়িয়ে যাচ্ছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিযান

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপের সর্বশেষ পর্যায় শুরু হয়েছে নতুন একটি ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রমের মাধ্যমে। এর লক্ষ্য ইরানের অর্থনীতি ও বৈদেশিক লেনদেনকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা এবং দেশটির ওপর এমন চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তেহরান শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমঝোতার পথে আসে।

নতুন ব্যবস্থায় শুধু ইরানের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য করা প্রতিষ্ঠান নয়, অন্যান্য দেশ ও কোম্পানির ওপরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জাহাজ চলাচল, বিমান পরিবহন, প্রযুক্তি, স্বর্ণ এবং ডিজিটাল সম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতও এই নিষেধাজ্ঞার বিস্তৃত ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে গেলে কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফলে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর সামনে এখন একদিকে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাজনিত সম্ভাব্য ঝুঁকি—দুই বিষয়ই বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

কেন সতর্ক পাকিস্তান

পাকিস্তানের জন্য পরিস্থিতিটি বিশেষভাবে সংবেদনশীল। ইরান তাদের সরাসরি প্রতিবেশী। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বাণিজ্য, জ্বালানি, পরিবহন ও জনগণের যোগাযোগ রয়েছে। পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের ভূমিকা রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ইসলামাবাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই বাস্তবতায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করলে পাকিস্তান নিজেই অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। আবার ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোরতা দেখালেও সীমান্তবর্তী বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাই পাকিস্তান আপাতত এমন একটি অবস্থান নিয়েছে, যেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সরাসরি সমর্থন বা প্রত্যাখ্যান না করে আন্তর্জাতিক আইন ও নিজেদের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির কথা সামনে আনছে।Cost of doing business with Iran? US warns Pakistan of sanctions risk

অর্থনৈতিক বিরোধের রাজনৈতিক সমাধান চায় ইসলামাবাদ

পাকিস্তানের অবস্থানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ইরানকে ঘিরে অর্থনৈতিক বিরোধকে দীর্ঘমেয়াদি বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে দেখছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামগ্রিক বিরোধের একটি টেকসই সমাধান হলে অর্থনৈতিক বিষয়গুলোরও সমাধান হওয়া প্রয়োজন। কারণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নটি দুই দেশের বিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ইসলামাবাদ একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকাও অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে। অর্থাৎ পাকিস্তান শুধু নিজেদের বাণিজ্যিক অবস্থান ব্যাখ্যা করেই থেমে থাকতে চাইছে না; বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগেও সক্রিয় থাকতে চায়।

চীন ও কাতারের সঙ্গে অবস্থানের মিল

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্যের সঙ্গে চীন ও কাতারের অবস্থানেরও বেশ কিছু মিল রয়েছে।

চীন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হয়। কাতারও যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সংলাপ ও আঞ্চলিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

ফলে পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থানকে শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তির মধ্যে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক ভারসাম্যেরও একটি প্রতিফলন।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন আশাবাদ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ইস্যুগুলোর একটি হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক সমুদ্রবাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বিশ্ববাজারেও তা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

পাকিস্তান জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ইরান সফরের সময়ও এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনা হয়েছে। ইসলামাবাদ মনে করছে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনায় নতুন গতি তৈরি করতে পারে।

তবে পাকিস্তান এটাও স্পষ্ট করেছে যে, শেষ পর্যন্ত নৌপথটি পুরোপুরি স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতার ওপরই নির্ভর করবে।

আসিম মুনিরের সফর নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করল পাকিস্তান

ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ইরান সফরকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের দাবি উঠেছিল। কোনো কোনো প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দূত হিসেবে অথবা ওয়াশিংটনের অনুরোধে তেহরান সফর করেছেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি категорically প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসলামাবাদের বক্তব্য, সফরটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ দূত হিসেবে ছিল না এবং ওয়াশিংটনের নির্দেশেও এই সফর হয়নি।

বরং পাকিস্তানের নিজস্ব মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এই সফরকে দেখতে হবে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে তারা ভূমিকা রাখতে আগ্রহী হলেও সেই উদ্যোগ পাকিস্তানের নিজস্ব কূটনৈতিক অবস্থান থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।

আফগানিস্তান নিয়েও কঠোর অবস্থান

ইরান ইস্যুর পাশাপাশি আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, কাবুলের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক আশ্বাস যথেষ্ট নয়; আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে বাস্তব ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ প্রয়োজন।

পাকিস্তানের অভিযোগ, অতীতে আফগান কর্তৃপক্ষ একাধিকবার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও সেসব প্রতিশ্রুতির কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।

এ কারণে ভবিষ্যতে যেকোনো দ্বিপক্ষীয় সমন্বয় কাঠামোর কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তব ফলাফলের ওপর।

তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান ও বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি নিয়ে উদ্বেগ

পাকিস্তান বিশেষভাবে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান এবং বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে এসব গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে।

পাকিস্তান চায়, আফগান সরকার নিশ্চিত করুক যে তাদের ভূখণ্ড কোনোভাবেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হবে না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও বাস্তবায়ন করতে হবে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

তবে পাকিস্তান পুরোপুরি আলোচনার দরজা বন্ধ করেনি। বরং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিনিময় এবং সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপে বাস্তব অগ্রগতি হলে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বাণিজ্য ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনাতেও সমন্বয়ের প্রস্তাব

আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য, যাতায়াত, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও শরণার্থীসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে পৃথক সমন্বয় কাঠামো গঠনের প্রস্তাব এসেছে।

দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে বিধিনিষেধ এবং পারস্পরিক উত্তেজনার কারণে দুই দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করাও এখন দুই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে পাকিস্তানের অবস্থান পরিষ্কার—নিরাপত্তা প্রশ্নে বাস্তব অগ্রগতি ছাড়া অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক সমন্বয় কাঠামো দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

বৃহত্তর আঞ্চলিক সমীকরণে পাকিস্তানের ভারসাম্যের নীতি

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তান—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও অংশীদারকে ঘিরে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট: ইসলামাবাদ একই সঙ্গে অর্থনৈতিক স্বার্থ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক কূটনীতির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে চাইছে।

ইরানের ক্ষেত্রে তারা আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির কথা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বিরোধ এড়িয়ে চলছে এবং একই সঙ্গে মধ্যস্থতার ভূমিকা ধরে রাখছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর ক্ষেত্রেও তারা কূটনৈতিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করছে।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে পাকিস্তান তুলনামূলকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সেখানে শুধু আশ্বাস নয়, সন্ত্রাস দমনে বাস্তব ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপকে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে তুলে ধরেছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তা এবং আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তান এখন এমন এক কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করছে, যেখানে সরাসরি কোনো পক্ষের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত স্বার্থ রক্ষা করাই প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের নিষেধ অমান্য করে ফের খেলার মাঠ সংস্কার

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কঠোর, কৌশলী ভারসাম্যের পথে পাকিস্তান

০৬:৫৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হওয়ার পর অত্যন্ত সতর্ক ও পরিমিত অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান। প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে ইসলামাবাদকে। ফলে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা না করে আন্তর্জাতিক আইন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং কূটনৈতিক সমঝোতার ওপর জোর দিয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য আন্তর্জাতিক আইন এবং দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। ইসলামাবাদের বক্তব্য, এসব দায়বদ্ধতা মেনেই ইরানের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান একদিকে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো সরাসরি বিরোধে জড়ানো এড়িয়ে যাচ্ছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিযান

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপের সর্বশেষ পর্যায় শুরু হয়েছে নতুন একটি ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রমের মাধ্যমে। এর লক্ষ্য ইরানের অর্থনীতি ও বৈদেশিক লেনদেনকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা এবং দেশটির ওপর এমন চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তেহরান শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমঝোতার পথে আসে।

নতুন ব্যবস্থায় শুধু ইরানের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য করা প্রতিষ্ঠান নয়, অন্যান্য দেশ ও কোম্পানির ওপরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জাহাজ চলাচল, বিমান পরিবহন, প্রযুক্তি, স্বর্ণ এবং ডিজিটাল সম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতও এই নিষেধাজ্ঞার বিস্তৃত ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে গেলে কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফলে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর সামনে এখন একদিকে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাজনিত সম্ভাব্য ঝুঁকি—দুই বিষয়ই বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

কেন সতর্ক পাকিস্তান

পাকিস্তানের জন্য পরিস্থিতিটি বিশেষভাবে সংবেদনশীল। ইরান তাদের সরাসরি প্রতিবেশী। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বাণিজ্য, জ্বালানি, পরিবহন ও জনগণের যোগাযোগ রয়েছে। পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের ভূমিকা রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ইসলামাবাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই বাস্তবতায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করলে পাকিস্তান নিজেই অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। আবার ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোরতা দেখালেও সীমান্তবর্তী বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাই পাকিস্তান আপাতত এমন একটি অবস্থান নিয়েছে, যেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সরাসরি সমর্থন বা প্রত্যাখ্যান না করে আন্তর্জাতিক আইন ও নিজেদের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির কথা সামনে আনছে।Cost of doing business with Iran? US warns Pakistan of sanctions risk

অর্থনৈতিক বিরোধের রাজনৈতিক সমাধান চায় ইসলামাবাদ

পাকিস্তানের অবস্থানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ইরানকে ঘিরে অর্থনৈতিক বিরোধকে দীর্ঘমেয়াদি বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে দেখছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামগ্রিক বিরোধের একটি টেকসই সমাধান হলে অর্থনৈতিক বিষয়গুলোরও সমাধান হওয়া প্রয়োজন। কারণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নটি দুই দেশের বিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ইসলামাবাদ একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকাও অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে। অর্থাৎ পাকিস্তান শুধু নিজেদের বাণিজ্যিক অবস্থান ব্যাখ্যা করেই থেমে থাকতে চাইছে না; বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগেও সক্রিয় থাকতে চায়।

চীন ও কাতারের সঙ্গে অবস্থানের মিল

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্যের সঙ্গে চীন ও কাতারের অবস্থানেরও বেশ কিছু মিল রয়েছে।

চীন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হয়। কাতারও যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সংলাপ ও আঞ্চলিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

ফলে পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থানকে শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তির মধ্যে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক ভারসাম্যেরও একটি প্রতিফলন।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন আশাবাদ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ইস্যুগুলোর একটি হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক সমুদ্রবাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বিশ্ববাজারেও তা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

পাকিস্তান জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ইরান সফরের সময়ও এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনা হয়েছে। ইসলামাবাদ মনে করছে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনায় নতুন গতি তৈরি করতে পারে।

তবে পাকিস্তান এটাও স্পষ্ট করেছে যে, শেষ পর্যন্ত নৌপথটি পুরোপুরি স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতার ওপরই নির্ভর করবে।

আসিম মুনিরের সফর নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করল পাকিস্তান

ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ইরান সফরকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের দাবি উঠেছিল। কোনো কোনো প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দূত হিসেবে অথবা ওয়াশিংটনের অনুরোধে তেহরান সফর করেছেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি категорically প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসলামাবাদের বক্তব্য, সফরটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ দূত হিসেবে ছিল না এবং ওয়াশিংটনের নির্দেশেও এই সফর হয়নি।

বরং পাকিস্তানের নিজস্ব মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এই সফরকে দেখতে হবে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে তারা ভূমিকা রাখতে আগ্রহী হলেও সেই উদ্যোগ পাকিস্তানের নিজস্ব কূটনৈতিক অবস্থান থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।

আফগানিস্তান নিয়েও কঠোর অবস্থান

ইরান ইস্যুর পাশাপাশি আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, কাবুলের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক আশ্বাস যথেষ্ট নয়; আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে বাস্তব ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ প্রয়োজন।

পাকিস্তানের অভিযোগ, অতীতে আফগান কর্তৃপক্ষ একাধিকবার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও সেসব প্রতিশ্রুতির কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।

এ কারণে ভবিষ্যতে যেকোনো দ্বিপক্ষীয় সমন্বয় কাঠামোর কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তব ফলাফলের ওপর।

তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান ও বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি নিয়ে উদ্বেগ

পাকিস্তান বিশেষভাবে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান এবং বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে এসব গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে।

পাকিস্তান চায়, আফগান সরকার নিশ্চিত করুক যে তাদের ভূখণ্ড কোনোভাবেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হবে না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও বাস্তবায়ন করতে হবে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

তবে পাকিস্তান পুরোপুরি আলোচনার দরজা বন্ধ করেনি। বরং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিনিময় এবং সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপে বাস্তব অগ্রগতি হলে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বাণিজ্য ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনাতেও সমন্বয়ের প্রস্তাব

আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য, যাতায়াত, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও শরণার্থীসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে পৃথক সমন্বয় কাঠামো গঠনের প্রস্তাব এসেছে।

দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে বিধিনিষেধ এবং পারস্পরিক উত্তেজনার কারণে দুই দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করাও এখন দুই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে পাকিস্তানের অবস্থান পরিষ্কার—নিরাপত্তা প্রশ্নে বাস্তব অগ্রগতি ছাড়া অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক সমন্বয় কাঠামো দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

বৃহত্তর আঞ্চলিক সমীকরণে পাকিস্তানের ভারসাম্যের নীতি

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তান—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও অংশীদারকে ঘিরে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট: ইসলামাবাদ একই সঙ্গে অর্থনৈতিক স্বার্থ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক কূটনীতির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে চাইছে।

ইরানের ক্ষেত্রে তারা আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির কথা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বিরোধ এড়িয়ে চলছে এবং একই সঙ্গে মধ্যস্থতার ভূমিকা ধরে রাখছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর ক্ষেত্রেও তারা কূটনৈতিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করছে।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে পাকিস্তান তুলনামূলকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সেখানে শুধু আশ্বাস নয়, সন্ত্রাস দমনে বাস্তব ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপকে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে তুলে ধরেছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তা এবং আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তান এখন এমন এক কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করছে, যেখানে সরাসরি কোনো পক্ষের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত স্বার্থ রক্ষা করাই প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।