মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার কুমারশাইল সীমান্তে কথিত চোরাকারবারিদের সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের গোলাগুলির পর এক ভারতীয় চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে বিদেশি তৈরি একটি পিস্তল, দশমিক ২২ বোরের দুই রাউন্ড গুলি এবং ৫০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে বিজিবির বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি) বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করে।
বিজিবি জানায়, ভারতীয় একটি চোরাকারবারি চক্র কুমারশাইল সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও মাদকের একটি চালান বাংলাদেশে পাচার করবে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১০টার দিকে একটি বিশেষ টহল দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়।
সন্দেহভাজন চোরাকারবারিরা সেখানে পৌঁছালে বিজিবি সদস্যরা তাদের থামার নির্দেশ দেন।
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা গুলি ছোড়ে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান।
এরপর চোরাকারবারিরা ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়।
বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে বিদেশি তৈরি একটি পিস্তল, দশমিক ২২ বোরের দুই রাউন্ড গুলি এবং ৫০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি আন্তসীমান্ত চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
বিজিবির ধারণা, উদ্ধার করা অস্ত্র ও মাদক ভারত থেকে এনে বাংলাদেশে সরবরাহের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।
ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া অন্য চোরাকারবারিদের শনাক্ত ও আটক করতে বিজিবির গোয়েন্দা দলগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক, অস্ত্রসহ অন্যান্য অবৈধ পণ্য পাচার ঠেকাতে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে সুরক্ষিত রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















