সিলেট বিভাগে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে বিভাগটিতে হাম ও হামের মতো উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫১ জনে। একই সময়ে নতুন করে ছয়জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে চলতি বছরে বিভাগে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১ জনে।
শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় এসব তথ্য জানিয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন শিশুর মৃত্যু
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামের মতো উপসর্গ নিয়ে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজনের বয়স পাঁচ মাস এবং অন্যজনের বয়স ১১ মাস।
এ ছাড়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নয় মাস বয়সী আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তিন শিশুই হামের মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিল।
এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১২৮ রোগী
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের মতো উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১২৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ জন। সবচেয়ে বেশি ৬০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ ছাড়া মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও নয়জন।
নতুন রোগী ভর্তির পর বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের সন্দেহভাজন ৩৫৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চলতি বছরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে হামের মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর সিলেট বিভাগে ১৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সর্বশেষ হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের হাম নিশ্চিত হওয়ায় চলতি বছরে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের মোট সংখ্যা ১ হাজার ৩১ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১২৮ নতুন রোগী পরিস্থিতির ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
সিলেটে হামের মতো উপসর্গে শিশু মৃত্যুর ঘটনাগুলো অব্যাহত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতালে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় এ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
সিলেটে হামের মতো উপসর্গে শিশুমৃত্যু ও নতুন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে; ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ১৫১ জন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















