১১:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
সন্তান জন্মের পর মায়ের মনেও ঝড়: কখন স্বাভাবিক, কখন বিপদের সংকেত? গ্রিনল্যান্ডে জোরপূর্বক জন্মনিয়ন্ত্রণে মানবাধিকার লঙ্ঘন, তবে গণহত্যা নয় ওজন কমানোর পর চেহারা ও শরীর ঠিকঠাক করতে পুরুষদের ঝোঁক প্রসাধনী চিকিৎসায় শাওমির নতুন ভাঁজযোগ্য ফোনে চীনের সিএক্সএমটির অত্যাধুনিক স্মৃতি চিপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারে নতুন সংঘাত, কার্সারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করছে ওপেনএআই পশ্চিমা প্রভাবের পাল্টা শক্তি গড়তে কিরগিজস্তানে পুতিন-শি-মাসুদের সম্মেলন চেরকির অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে মুগ্ধ মারেসকা, নতুন যুগের বার্তা ম্যানচেস্টার সিটির চীনা হ্যাকারদের হামলা নিয়ে দাবি সংশোধন করল যুক্তরাষ্ট্র, আক্রান্ত নয়—টার্গেট ছিল সরকারি সংস্থাগুলো শত বছরের ব্যর্থতার পর ক্যানসার টিকায় ঐতিহাসিক সাফল্য, বদলে যেতে পারে চিকিৎসার ভবিষ্যৎ মস্কোর বৈঠক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য পেয়েছে কিয়েভ, রাশিয়াকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় আশাবাদ, সুদ বাড়ানোর দরজাও খোলা—ফেডপ্রধান কেভিন ওয়ার্শের জ্যাকসন হোল বক্তৃতায় যে ৩ বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো বিশ্বের শীর্ষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের সামনে জ্যাকসন হোল সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন কেভিন ওয়ার্শ। তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত এই বক্তৃতায় উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি, সুদের হার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণ পদ্ধতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা।

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে ওয়ার্শকে ঘিরে মূল প্রশ্ন ছিল—তিনি মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় কতটা কঠোর হবেন, ভবিষ্যতে সুদের হার কোন পথে যেতে পারে এবং বাজারকে আগাম নীতির ইঙ্গিত দেওয়ার প্রচলিত ফেড-সংস্কৃতি তিনি আদৌ বজায় রাখবেন কি না।

বক্তৃতায় তিনি সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট সময়ের সুদের হার নির্ধারণ করেননি। তবে তাঁর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—মূল্যস্ফীতি যদি কাঙ্ক্ষিত গতিতে কমে না আসে, তাহলে ফেডের সামনে আরও কঠোর হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রচলিত আগাম দিকনির্দেশনার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আরও নীরব ও পরিস্থিতিনির্ভর নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

এক. মূল্যস্ফীতি কমতে না থাকলে সুদ বাড়ানোর পথ খোলা

Warsh signals Fed may need to hike rates if above-target inflation persists

ওয়ার্শের বক্তৃতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলোর একটি হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ে তাঁর কঠোর অবস্থান। তিনি বলেন, ফেডকে নিশ্চিত হতে হবে যে অন্তর্নিহিত মূল্যস্ফীতি তাদের দুই শতাংশ লক্ষ্যের দিকে স্পষ্টভাবে এবং যথেষ্ট দ্রুত এগোচ্ছে। সেই অগ্রগতি নিয়ে যথেষ্ট আস্থা তৈরি না হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে আরও কাজ রয়েছে।

এর অর্থ হলো, সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির কিছুটা উন্নতিকে তিনি চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখছেন না। বরং মূল্যস্ফীতি টেকসইভাবে দুই শতাংশের দিকে ফিরছে কি না, সেটিই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ফেডের দুই শতাংশ লক্ষ্যের ওপরে রয়েছে। ফলে সামনে যদি মূল্যস্ফীতির চাপ কমার পরিবর্তে স্থায়ী হয়ে যায়, তাহলে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না ওয়ার্শ। তাঁর বক্তব্যকে বাজার বিশ্লেষকেরা ফেডের সম্ভাব্য আরও কঠোর নীতির অন্যতম শক্তিশালী ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট বৈঠকে সুদ বাড়ানো হবে—এমন ঘোষণা দেননি। বরং তাঁর অবস্থান হলো, সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তখনকার অর্থনৈতিক তথ্য ও মূল্যস্ফীতির গতিপথ দেখে।

দুই. ‘নীরব ফেড’—আগাম সুদের পথ বলে দিতে চান না ওয়ার্শ

ওয়ার্শের বক্তব্যের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যোগাযোগ পদ্ধতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

ফেড সাধারণত অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সুদের পথ সম্পর্কে বাজারকে বিভিন্ন ধরনের আগাম সংকেত দিয়ে থাকে। নীতিনির্ধারকদের পূর্বাভাস, সুদের হার নিয়ে তাদের প্রত্যাশা এবং বিভিন্ন বক্তব্য—সব মিলিয়ে বাজার অনেক সময় ফেডের পরবর্তী পদক্ষেপ আগেই অনুমান করার চেষ্টা করে।

ওয়ার্শ এই ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমাতে চান।

US Federal Reserve assessing central bank digital currency - Ledger Insights - blockchain for enterprise

তাঁর যুক্তি, অর্থনীতি এত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে যে কয়েক মাস পরের পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। ভূরাজনীতি, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা, প্রযুক্তি এবং আর্থিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে ফেডের জন্য একটি নির্দিষ্ট সুদের পথ আগে থেকেই ঘোষণা করা বাস্তবে সব সময় কার্যকর নাও হতে পারে।

তাই তিনি এমন একটি ফেডের ধারণা তুলে ধরেছেন, যা প্রতিটি পরিস্থিতিতে নতুন তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবে। অর্থাৎ বাজারকে আগেভাগে বলে দেওয়া হবে না—কোন পরিস্থিতিতে ঠিক কতটা সুদ বাড়ানো বা কমানো হবে।

এই পদ্ধতিকে অনেকটা ‘নীরব ফেড’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো বাজারের অতিরিক্ত প্রত্যাশা কমিয়ে ফেডের সিদ্ধান্তকে বাস্তব অর্থনৈতিক তথ্যের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ করা।

এতে বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে

ওয়ার্শের এই কৌশলের সুবিধা যেমন আছে, তেমনি ঝুঁকিও রয়েছে।

আগে বাজার যদি ফেডের বক্তব্য থেকে ভবিষ্যৎ সুদের হার সম্পর্কে একটি ধারণা পেত, তাহলে বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা নিজেদের সিদ্ধান্ত সেই অনুযায়ী নিতে পারতেন। কিন্তু ফেড যদি ইচ্ছাকৃতভাবে আগাম সংকেত কমিয়ে দেয়, তাহলে প্রতিটি নতুন অর্থনৈতিক তথ্য বাজারে তুলনামূলক বড় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

এরই মধ্যে ওয়ার্শের আগের বক্তব্যের পর বন্ডবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। জ্যাকসন হোল বক্তৃতাতেও তিনি আগাম নীতির স্পষ্ট পথনকশা না দেওয়ায় বাজারকে এখন আরও বেশি করে মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের নতুন তথ্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

তিন. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থনীতির চেহারা বদলে দিতে পারে

ওয়ার্শের বক্তব্যের সবচেয়ে ভবিষ্যতমুখী অংশ ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে তাঁর আলোচনা।

তিনি মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। প্রযুক্তি খাতে বিপুল বিনিয়োগ, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং নতুন ধরনের উদ্ভাবনের গতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আগের ধারণার তুলনায় অনেক বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে।

AI's productivity effects are changing the Fed's outlook

ওয়ার্শ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সম্ভাব্য নতুন উৎপাদন উপাদান হিসেবে দেখেছেন। অর্থাৎ এটি শুধু একটি নতুন প্রযুক্তি নয়; ভবিষ্যতে শ্রম, মূলধন ও প্রযুক্তির সঙ্গে মিলে উৎপাদনব্যবস্থার মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করতে পারে।

তবে তিনি এ সম্ভাবনা নিয়ে অন্ধ আশাবাদও দেখাননি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এসব বিনিয়োগ থেকে প্রকৃত অর্থনৈতিক সুফল কত দ্রুত এবং কতটা পাওয়া যাবে, তা এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ফেডের কাজও বদলে দিতে পারে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব শুধু উৎপাদন ও ব্যবসায় সীমাবদ্ধ থাকবে না—ফেডের নীতিনির্ধারণেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ওয়ার্শ।

উৎপাদনশীলতা যদি দ্রুত বাড়ে, তাহলে অর্থনীতির সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির হারও বদলে যেতে পারে। শ্রমবাজারে পরিবর্তন আসতে পারে। ব্যবসায়িক বিনিয়োগের ধরন পাল্টাতে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ, মজুরি, মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তা চাহিদার ওপরও নতুন ধরনের প্রভাব তৈরি হতে পারে।

ফলে অতীতের অর্থনৈতিক তথ্য দিয়ে ভবিষ্যতের অর্থনীতি বোঝার প্রচলিত মডেলগুলোকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে।

এই কারণেই ওয়ার্শ আরও উন্নত অর্থনৈতিক মডেল ও শক্তিশালী নীতিনির্ধারণ কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অর্থনীতির পূর্বাভাসে শতভাগ নির্ভুলতা এখনও সম্ভব নয়; তাই ফেডকে নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও তথ্যকে নীতিনির্ধারণে জায়গা দিতে হবে।

অর্থনীতির শক্তি নিয়েও সতর্ক আশাবাদ

ওয়ার্শের বক্তব্যে শুধু মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ ছিল না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতার কথাও তুলে ধরেছেন।

ভোক্তা ব্যয় এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এখনও অর্থনীতিকে সমর্থন করছে। এর ফলে বর্তমান সুদের হার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে যতটা কঠোরভাবে আটকে রাখার কথা, বাস্তবে পরিস্থিতি হয়তো ততটা নয়—এমন ধারণাও তাঁর বক্তব্যে পাওয়া গেছে।

এই যুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যদি অর্থনীতি শক্তিশালী থাকে এবং মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকে, তাহলে ফেডের জন্য সুদের হার কমানোর প্রয়োজনীয়তা কমে যেতে পারে। বরং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে আরও কঠোর হওয়ার যুক্তি শক্তিশালী হতে পারে।

বাজারের জন্য ওয়ার্শের বার্তার অর্থ কী

ওয়ার্শের বক্তৃতার পর বিনিয়োগকারীদের সামনে এখন একটি অপেক্ষাকৃত পরিষ্কার চিত্র তৈরি হয়েছে।

ফেড দ্রুত সুদ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না। আবার এখনই সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেনি। বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতির তথ্য, কর্মসংস্থান, ভোক্তা ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

US Fed chair warns inflation progress insufficient, hints at rate hikes | Banks News | Al Jazeera

এর ফলে সামনে প্রকাশিত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।

বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি যদি আবার বাড়ে বা দুই শতাংশের দিকে নামার গতি থেমে যায়, তাহলে সুদ বাড়ানোর প্রত্যাশা জোরালো হতে পারে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমে গিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দুর্বল হলে সুদ কমানোর সম্ভাবনাও সামনে আসতে পারে।

অর্থাৎ ওয়ার্শ বাজারকে একটি নির্দিষ্ট সুদের পথ দেননি। বরং তিনি বোঝাতে চেয়েছেন—অর্থনৈতিক তথ্যই হবে ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্তের মূল চালিকাশক্তি।

১০০ দিনের ওয়ার্শ ফেডের প্রথম বড় বার্তা

ফেড চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ১০০তম দিনে জ্যাকসন হোলে দাঁড়িয়ে ওয়ার্শ মূলত তাঁর নীতিদর্শনের একটি কাঠামো তুলে ধরেছেন। তিনি কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেননি; বরং বলেছেন, তিনি একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের পরিবর্তে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ নীতিপদ্ধতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তাঁর নেতৃত্বাধীন ফেডের তিনটি বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান, আগাম নীতির ইঙ্গিত কমিয়ে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন অর্থনৈতিক শক্তিকে নীতিনির্ধারণের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ওয়ার্শ বাজারকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য আগাম সুদের প্রতিশ্রুতি দিতে চান না। তাঁর বার্তা অনেকটা এমন—ফেড কী করবে, তা এখনই বলা হবে না; অর্থনীতি কী বলছে, সেটি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আর মূল্যস্ফীতি যদি ফেডের দুই শতাংশ লক্ষ্যে ফেরার পথে যথেষ্ট দ্রুত না এগোয়, তাহলে সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনাও যে বাস্তব, জ্যাকসন হোলের মঞ্চ থেকে সেটি বেশ স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন নতুন ফেডপ্রধান।  

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্তান জন্মের পর মায়ের মনেও ঝড়: কখন স্বাভাবিক, কখন বিপদের সংকেত?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় আশাবাদ, সুদ বাড়ানোর দরজাও খোলা—ফেডপ্রধান কেভিন ওয়ার্শের জ্যাকসন হোল বক্তৃতায় যে ৩ বার্তা

১০:৪৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো বিশ্বের শীর্ষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের সামনে জ্যাকসন হোল সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন কেভিন ওয়ার্শ। তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত এই বক্তৃতায় উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি, সুদের হার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণ পদ্ধতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা।

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে ওয়ার্শকে ঘিরে মূল প্রশ্ন ছিল—তিনি মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় কতটা কঠোর হবেন, ভবিষ্যতে সুদের হার কোন পথে যেতে পারে এবং বাজারকে আগাম নীতির ইঙ্গিত দেওয়ার প্রচলিত ফেড-সংস্কৃতি তিনি আদৌ বজায় রাখবেন কি না।

বক্তৃতায় তিনি সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট সময়ের সুদের হার নির্ধারণ করেননি। তবে তাঁর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—মূল্যস্ফীতি যদি কাঙ্ক্ষিত গতিতে কমে না আসে, তাহলে ফেডের সামনে আরও কঠোর হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রচলিত আগাম দিকনির্দেশনার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আরও নীরব ও পরিস্থিতিনির্ভর নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

এক. মূল্যস্ফীতি কমতে না থাকলে সুদ বাড়ানোর পথ খোলা

Warsh signals Fed may need to hike rates if above-target inflation persists

ওয়ার্শের বক্তৃতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলোর একটি হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ে তাঁর কঠোর অবস্থান। তিনি বলেন, ফেডকে নিশ্চিত হতে হবে যে অন্তর্নিহিত মূল্যস্ফীতি তাদের দুই শতাংশ লক্ষ্যের দিকে স্পষ্টভাবে এবং যথেষ্ট দ্রুত এগোচ্ছে। সেই অগ্রগতি নিয়ে যথেষ্ট আস্থা তৈরি না হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে আরও কাজ রয়েছে।

এর অর্থ হলো, সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির কিছুটা উন্নতিকে তিনি চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখছেন না। বরং মূল্যস্ফীতি টেকসইভাবে দুই শতাংশের দিকে ফিরছে কি না, সেটিই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ফেডের দুই শতাংশ লক্ষ্যের ওপরে রয়েছে। ফলে সামনে যদি মূল্যস্ফীতির চাপ কমার পরিবর্তে স্থায়ী হয়ে যায়, তাহলে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না ওয়ার্শ। তাঁর বক্তব্যকে বাজার বিশ্লেষকেরা ফেডের সম্ভাব্য আরও কঠোর নীতির অন্যতম শক্তিশালী ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট বৈঠকে সুদ বাড়ানো হবে—এমন ঘোষণা দেননি। বরং তাঁর অবস্থান হলো, সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তখনকার অর্থনৈতিক তথ্য ও মূল্যস্ফীতির গতিপথ দেখে।

দুই. ‘নীরব ফেড’—আগাম সুদের পথ বলে দিতে চান না ওয়ার্শ

ওয়ার্শের বক্তব্যের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যোগাযোগ পদ্ধতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

ফেড সাধারণত অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সুদের পথ সম্পর্কে বাজারকে বিভিন্ন ধরনের আগাম সংকেত দিয়ে থাকে। নীতিনির্ধারকদের পূর্বাভাস, সুদের হার নিয়ে তাদের প্রত্যাশা এবং বিভিন্ন বক্তব্য—সব মিলিয়ে বাজার অনেক সময় ফেডের পরবর্তী পদক্ষেপ আগেই অনুমান করার চেষ্টা করে।

ওয়ার্শ এই ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমাতে চান।

US Federal Reserve assessing central bank digital currency - Ledger Insights - blockchain for enterprise

তাঁর যুক্তি, অর্থনীতি এত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে যে কয়েক মাস পরের পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। ভূরাজনীতি, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা, প্রযুক্তি এবং আর্থিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে ফেডের জন্য একটি নির্দিষ্ট সুদের পথ আগে থেকেই ঘোষণা করা বাস্তবে সব সময় কার্যকর নাও হতে পারে।

তাই তিনি এমন একটি ফেডের ধারণা তুলে ধরেছেন, যা প্রতিটি পরিস্থিতিতে নতুন তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবে। অর্থাৎ বাজারকে আগেভাগে বলে দেওয়া হবে না—কোন পরিস্থিতিতে ঠিক কতটা সুদ বাড়ানো বা কমানো হবে।

এই পদ্ধতিকে অনেকটা ‘নীরব ফেড’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো বাজারের অতিরিক্ত প্রত্যাশা কমিয়ে ফেডের সিদ্ধান্তকে বাস্তব অর্থনৈতিক তথ্যের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ করা।

এতে বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে

ওয়ার্শের এই কৌশলের সুবিধা যেমন আছে, তেমনি ঝুঁকিও রয়েছে।

আগে বাজার যদি ফেডের বক্তব্য থেকে ভবিষ্যৎ সুদের হার সম্পর্কে একটি ধারণা পেত, তাহলে বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা নিজেদের সিদ্ধান্ত সেই অনুযায়ী নিতে পারতেন। কিন্তু ফেড যদি ইচ্ছাকৃতভাবে আগাম সংকেত কমিয়ে দেয়, তাহলে প্রতিটি নতুন অর্থনৈতিক তথ্য বাজারে তুলনামূলক বড় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

এরই মধ্যে ওয়ার্শের আগের বক্তব্যের পর বন্ডবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। জ্যাকসন হোল বক্তৃতাতেও তিনি আগাম নীতির স্পষ্ট পথনকশা না দেওয়ায় বাজারকে এখন আরও বেশি করে মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের নতুন তথ্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

তিন. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থনীতির চেহারা বদলে দিতে পারে

ওয়ার্শের বক্তব্যের সবচেয়ে ভবিষ্যতমুখী অংশ ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে তাঁর আলোচনা।

তিনি মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। প্রযুক্তি খাতে বিপুল বিনিয়োগ, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং নতুন ধরনের উদ্ভাবনের গতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আগের ধারণার তুলনায় অনেক বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে।

AI's productivity effects are changing the Fed's outlook

ওয়ার্শ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সম্ভাব্য নতুন উৎপাদন উপাদান হিসেবে দেখেছেন। অর্থাৎ এটি শুধু একটি নতুন প্রযুক্তি নয়; ভবিষ্যতে শ্রম, মূলধন ও প্রযুক্তির সঙ্গে মিলে উৎপাদনব্যবস্থার মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করতে পারে।

তবে তিনি এ সম্ভাবনা নিয়ে অন্ধ আশাবাদও দেখাননি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এসব বিনিয়োগ থেকে প্রকৃত অর্থনৈতিক সুফল কত দ্রুত এবং কতটা পাওয়া যাবে, তা এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ফেডের কাজও বদলে দিতে পারে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব শুধু উৎপাদন ও ব্যবসায় সীমাবদ্ধ থাকবে না—ফেডের নীতিনির্ধারণেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ওয়ার্শ।

উৎপাদনশীলতা যদি দ্রুত বাড়ে, তাহলে অর্থনীতির সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির হারও বদলে যেতে পারে। শ্রমবাজারে পরিবর্তন আসতে পারে। ব্যবসায়িক বিনিয়োগের ধরন পাল্টাতে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ, মজুরি, মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তা চাহিদার ওপরও নতুন ধরনের প্রভাব তৈরি হতে পারে।

ফলে অতীতের অর্থনৈতিক তথ্য দিয়ে ভবিষ্যতের অর্থনীতি বোঝার প্রচলিত মডেলগুলোকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে।

এই কারণেই ওয়ার্শ আরও উন্নত অর্থনৈতিক মডেল ও শক্তিশালী নীতিনির্ধারণ কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অর্থনীতির পূর্বাভাসে শতভাগ নির্ভুলতা এখনও সম্ভব নয়; তাই ফেডকে নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও তথ্যকে নীতিনির্ধারণে জায়গা দিতে হবে।

অর্থনীতির শক্তি নিয়েও সতর্ক আশাবাদ

ওয়ার্শের বক্তব্যে শুধু মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ ছিল না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতার কথাও তুলে ধরেছেন।

ভোক্তা ব্যয় এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এখনও অর্থনীতিকে সমর্থন করছে। এর ফলে বর্তমান সুদের হার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে যতটা কঠোরভাবে আটকে রাখার কথা, বাস্তবে পরিস্থিতি হয়তো ততটা নয়—এমন ধারণাও তাঁর বক্তব্যে পাওয়া গেছে।

এই যুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যদি অর্থনীতি শক্তিশালী থাকে এবং মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকে, তাহলে ফেডের জন্য সুদের হার কমানোর প্রয়োজনীয়তা কমে যেতে পারে। বরং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে আরও কঠোর হওয়ার যুক্তি শক্তিশালী হতে পারে।

বাজারের জন্য ওয়ার্শের বার্তার অর্থ কী

ওয়ার্শের বক্তৃতার পর বিনিয়োগকারীদের সামনে এখন একটি অপেক্ষাকৃত পরিষ্কার চিত্র তৈরি হয়েছে।

ফেড দ্রুত সুদ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না। আবার এখনই সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেনি। বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতির তথ্য, কর্মসংস্থান, ভোক্তা ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

US Fed chair warns inflation progress insufficient, hints at rate hikes | Banks News | Al Jazeera

এর ফলে সামনে প্রকাশিত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।

বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি যদি আবার বাড়ে বা দুই শতাংশের দিকে নামার গতি থেমে যায়, তাহলে সুদ বাড়ানোর প্রত্যাশা জোরালো হতে পারে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমে গিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দুর্বল হলে সুদ কমানোর সম্ভাবনাও সামনে আসতে পারে।

অর্থাৎ ওয়ার্শ বাজারকে একটি নির্দিষ্ট সুদের পথ দেননি। বরং তিনি বোঝাতে চেয়েছেন—অর্থনৈতিক তথ্যই হবে ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্তের মূল চালিকাশক্তি।

১০০ দিনের ওয়ার্শ ফেডের প্রথম বড় বার্তা

ফেড চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ১০০তম দিনে জ্যাকসন হোলে দাঁড়িয়ে ওয়ার্শ মূলত তাঁর নীতিদর্শনের একটি কাঠামো তুলে ধরেছেন। তিনি কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেননি; বরং বলেছেন, তিনি একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের পরিবর্তে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ নীতিপদ্ধতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তাঁর নেতৃত্বাধীন ফেডের তিনটি বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান, আগাম নীতির ইঙ্গিত কমিয়ে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন অর্থনৈতিক শক্তিকে নীতিনির্ধারণের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ওয়ার্শ বাজারকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য আগাম সুদের প্রতিশ্রুতি দিতে চান না। তাঁর বার্তা অনেকটা এমন—ফেড কী করবে, তা এখনই বলা হবে না; অর্থনীতি কী বলছে, সেটি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আর মূল্যস্ফীতি যদি ফেডের দুই শতাংশ লক্ষ্যে ফেরার পথে যথেষ্ট দ্রুত না এগোয়, তাহলে সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনাও যে বাস্তব, জ্যাকসন হোলের মঞ্চ থেকে সেটি বেশ স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন নতুন ফেডপ্রধান।