বৃষ্টিভেজা লন্ডনে ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় আলোচনার নাম রায়ান চেরকি। ফরাসি এই তরুণের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে কোচ এনজো মারেসকা তাকে বলেছেন ‘অবিশ্বাস্য’।
মাঠে নেমেই বদলে দিলেন চেরকি
মৌসুমের প্রথম ম্যাচে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে শুরুতে জায়গা পাননি চেরকি। বিষয়টি তাকে হতাশ করেছিল। তবে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দুটি গোলে সহায়তা করে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন তিনি।
ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে এবার শুরু থেকেই মাঠে নামার সুযোগ পেয়ে তার জবাবটা ছিল আরও জোরালো। ২৩ বছর বয়সী এই ফরাসি মিডফিল্ডার করেন জোড়া গোল। তার নৈপুণ্যে আক্রমণে আরও ধারালো হয়ে ওঠে সিটি।
এর আগে আর্লিং হলান্ডের গোলে এগিয়ে যায় সিটি। পরে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার আত্মঘাতী গোলে প্যালেস সমতায় ফিরলেও চেরকির জোড়া গোল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার সিটির হাতে এনে দেয়। শেষদিকে হলান্ড নিজের দ্বিতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।
শুধু আক্রমণ নয়, রক্ষণেও চেরকির প্রশংসা
চেরকির প্রশংসা করতে গিয়ে মারেসকা শুধু তার গোল বা সৃজনশীলতার কথা বলেননি। বল ছাড়া অবস্থায় তার পরিশ্রম ও প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাও আলাদা করে তুলে ধরেছেন।
মারেসকার মতে, প্যালেসের গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার অ্যাডাম হোয়াটনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্বও চেরকি খুব ভালোভাবে পালন করেছেন। তার ভাষায়, চেরকি হোয়াটনকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং বল ছাড়া অবস্থায়ও অসাধারণ পরিশ্রম করেছেন।
সিটির কোচ মনে করেন, চেরকির সামর্থ্য সম্পর্কে সবাই জানে। কিন্তু আক্রমণাত্মক প্রতিভার পাশাপাশি তিনি যদি একইভাবে পরিশ্রম করে যান, তাহলে ভবিষ্যতে দলকে আরও অনেক কিছু দিতে পারবেন।
নিজের পারফরম্যান্সেই পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন চেরকি
মজার ব্যাপার হলো, ম্যাচে জোড়া গোল করেও নিজের পারফরম্যান্সকে খুব বেশি বড় করে দেখছেন না চেরকি।
তার মতে, প্রথমার্ধে দল কাঙ্ক্ষিত জায়গা খুঁজে পাচ্ছিল না এবং তিনিও নিজের সেরা ফুটবল খেলতে পারেননি। ভবিষ্যতে আরও বেশি বল সতীর্থদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং গোল করার ইচ্ছা দেখানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।
এই আত্মসমালোচনাই হয়তো চেরকির মানসিকতার আরেকটি দিক তুলে ধরে। দারুণ একটি ম্যাচের পরও তিনি মনে করছেন, তার আরও উন্নতি করার জায়গা রয়েছে।
গার্দিওলার অধ্যায় পেছনে ফেলে নতুন গল্প
গত মৌসুমে চেরকির মাঠের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ এবং মাঠের বাইরের অস্থির ব্যক্তিত্ব নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছিল। সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা তাকে নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলেন না বলেও বিভিন্ন সময়ে খবর ছড়িয়েছিল।
তবে গার্দিওলা এখন সিটির দায়িত্বে নেই। তার বিদায়ের পর চেরকি মনে করছেন, ক্লাবের সামনে নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়েছে।
চেরকির কথায়, গার্দিওলা ছিলেন সিটির একটি বড় গল্প। এখন তারা নতুন গল্প শুরু করতে চান এবং নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করার জন্যই মাঠে আছেন।
শিরোপা লড়াইয়ের শুরুতেই সিটির আত্মবিশ্বাস
মারেসকার অধীনে সিটির শুরুটা বেশ শক্তিশালী হয়েছে। ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে জয়টিও কোচকে সন্তুষ্ট করেছে।
ম্যাচের শুরুতে প্রতিপক্ষের মাঠে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়লেও প্রায় ১০ মিনিট পর বল ও বলের বাইরে—দুই ক্ষেত্রেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় সিটি। দলের তীব্রতা ও লড়াকু মানসিকতায় সন্তুষ্ট মারেসকা।
তবে এবার সিটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালকে সরিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধার করা। আর সেই লড়াইয়ে হলান্ডের কাছ থেকে সর্বোচ্চ গোল করার ক্ষমতা প্রয়োজন বলে জানেন মারেসকা।
তার বিশ্বাস, দল যত বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারবে, হলান্ড তত বেশি কার্যকর হয়ে উঠবেন।
নতুন কোচ, নতুন কৌশল আর নতুন নেতৃত্বের আবহে ম্যানচেস্টার সিটি যে নিজেদের শক্তির জানান দিতে শুরু করেছে, ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয় তারই বড় প্রমাণ। আর সেই নতুন যাত্রায় রায়ান চেরকি যে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠতে পারেন, তার ইঙ্গিতও মিলেছে এই ম্যাচে।
চেরকি ম্যানচেস্টার সিটির নতুন যুগের অন্যতম নায়ক হয়ে উঠবেন কি না—প্রিমিয়ার লিগের মৌসুম যত এগোবে, সেই প্রশ্নের উত্তরও তত পরিষ্কার হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















