আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের বিরুদ্ধে ‘ঋণের ফাঁদ’ তৈরির অভিযোগ বহুদিনের। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে পশ্চিমা গণমাধ্যম, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা—অনেকেই উন্নয়নশীল দেশগুলোকে চীনের দ্বিপক্ষীয় ঋণের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। তবে গ্রেনাডার এক দশক আগের ঋণবিরোধ এবং বর্তমানে সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডিনসের ঋণসংকট এই প্রচলিত বয়ানের বাইরে ভিন্ন একটি বাস্তবতা সামনে আনছে। অভিযোগ উঠেছে, তাইওয়ানও ঋণকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।
গ্রেনাডার সংকট ও কূটনৈতিক পরিবর্তন
বহু বছর ধরে গ্রেনাডা গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। ২০০৪ সালে হারিকেন ইভানের আঘাতে দেশটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর পরের বছর, ২০০৫ সালে, গ্রেনাডা তাইওয়ানের পরিবর্তে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়।
সে সময় গ্রেনাডার জনসংখ্যা ছিল মাত্র এক লাখের কিছু বেশি। একই সময়ে ২০০৫ সালে আরেকটি হারিকেনের আঘাতে দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।
ক্যারিবীয় অঞ্চলে কমছে তাইওয়ানের মিত্র
বর্তমানে বিশ্বের মাত্র ১২টি দেশ তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। এর মধ্যে চারটি দেশ ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবস্থিত। দেশগুলো হলো হাইতি, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া এবং সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডিনস।
এই সীমিত কূটনৈতিক সমর্থনের পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর জন্য ঋণ ও আর্থিক সম্পর্ক ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠছে। গ্রেনাডার অতীত অভিজ্ঞতা এবং সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডিনসের বর্তমান পরিস্থিতি তাইওয়ানের অবশিষ্ট মিত্রদের জন্য নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে—কূটনৈতিক আনুগত্যের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক কতটা নিরাপদ এবং ঋণ কি কখনো রাজনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে?
তাইওয়ানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যত তীব্র হচ্ছে, তার অল্পসংখ্যক কূটনৈতিক মিত্রদের জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্কের এই দিকটি উপেক্ষা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















