যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ব্রায়ান কোহবার্গার তার মামলার বিচারককে সরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিচারস্থল পরিবর্তনেরও আবেদন করেছেন। দোষ স্বীকারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নতুন করে বিচার পাওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই তিনি এসব পদক্ষেপ নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার কোহবার্গারের নতুন আদালতনিযুক্ত আইনজীবী গ্রেগরি রাউখ দুটি আবেদন দাখিল করেন। প্রথম আবেদনে চতুর্থ বিচারিক জেলার বিচারক স্টিভেন হিপলারকে কোহবার্গারের দোষ-পরবর্তী আইনি কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। দ্বিতীয় আবেদনে অ্যাডা কাউন্টির পরিবর্তে অন্য কাউন্টিতে শুনানি নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
দোষ স্বীকারের পরই অবস্থান বদল
৩১ বছর বয়সি কোহবার্গার গত বছর চারটি প্রথম-স্তরের হত্যাকাণ্ড এবং একটি গুরুতর চুরির অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। ২০২২ সালের নভেম্বরে আইডাহো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ম্যাডিসন মোগেন, কেইলি গনসালভেস, জেনা কার্নডেল এবং ইথান চ্যাপিনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছিল।
কিন্তু এখন কোহবার্গার দাবি করছেন, তিনি নির্দোষ। তার বক্তব্য, তার নিজের প্রতিরক্ষা দল তাকে এমন একটি মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে প্রভাবিত করেছিল।

এবার তিনি দোষ স্বীকারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে পূর্ণাঙ্গ বিচারের সুযোগ চান। তবে নতুন করে বিচার হলে তার মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিচারককে সরানোর কারণ কী
বিচারক হিপলারকে অপসারণের আবেদনের মূল ভিত্তি হলো কোহবার্গারের আগের আইনজীবীদের প্রস্তুতি নিয়ে আদালতের সঙ্গে বিরোধ এবং বিচারকের কিছু মন্তব্য।
কোহবার্গারের আইনজীবীদের দাবি, মৃত্যুদণ্ডযোগ্য মামলার জন্য নির্ধারিত সময়সীমার কারণে বিপুল পরিমাণ প্রমাণ যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি। তারা আদালতকে সতর্ক করেছিলেন, এমন পরিস্থিতিতে বিচার চালিয়ে গেলে কোহবার্গারের কার্যকর আইনি প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে বিচারক হিপলার সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বিপুল পরিমাণ তথ্য-প্রমাণের কথা তুলে আইনজীবীরা প্রকৃত প্রস্তুতির সমস্যার বদলে মামলাটি বিলম্বিত করার কৌশল অবলম্বন করছেন।
নতুন আবেদনে বলা হয়েছে, বিচারকের আগের সিদ্ধান্ত, বক্তব্য এবং অন্যান্য পরিস্থিতি মিলিয়ে তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিচারকের মন্তব্যও আবেদনে তুলে ধরা হয়েছে
কোহবার্গারের আইনজীবীরা সাজা ঘোষণার সময় বিচারক হিপলারের কিছু বক্তব্যও আবেদনে উল্লেখ করেছেন।
আবেদন অনুযায়ী, বিচারক প্রশ্ন তুলেছিলেন, এত কিছুর পর কোহবার্গার আদৌ সত্য কথা বলার সক্ষমতা রাখেন কি না। একই সময়ে তিনি কোহবার্গারকে ‘মুখহীন কাপুরুষ’ এবং ‘সবচেয়ে নিকৃষ্টদের একজন’ বলেও অভিহিত করেছিলেন।

কোহবার্গারের নতুন আইনজীবীদের যুক্তি, এসব মন্তব্য শুধু অপরাধের ভয়াবহতা বা শাস্তির কঠোরতা নিয়ে বিচারকের মতামত নয়। বরং এগুলো কোহবার্গারের বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে বিচারকের আগাম ধারণা প্রকাশ করে। আর দোষ-পরবর্তী আইনি কার্যক্রমে কোহবার্গারের বক্তব্য ও বিশ্বাসযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিচারস্থল পরিবর্তনের আবেদন
কোহবার্গারের পক্ষ থেকে অ্যাডা কাউন্টি থেকে শুনানি সরিয়ে লাতাহ কাউন্টিতে নেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডগুলো লাতাহ কাউন্টিতেই ঘটেছিল।
এর আগে নিরপেক্ষ বিচারক এবং পর্যাপ্ত বিচারিক সম্পদ নিশ্চিত করার জন্য ২০২৪ সালে মূল ফৌজদারি বিচার অ্যাডা কাউন্টিতে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
তবে কোহবার্গারের আইনজীবীদের দাবি, এখন বিষয়টি সাধারণ বিচার নয়; বরং বিচারকের মাধ্যমে পরিচালিত দোষ-পরবর্তী কার্যক্রম। তাই আগের বিচারস্থল পরিবর্তনের কারণগুলো বর্তমান কার্যক্রমের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়।
আবেদনে বলা হয়েছে, সাক্ষীদের সুবিধা এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচারস্থল পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

নতুন বিচারের পথ কতটা সহজ
কোহবার্গারের বর্তমান আইনি পদক্ষেপ মূলত তার দোষ স্বীকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। তিনি দাবি করছেন, তার আগের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল না এবং সেই পরিস্থিতির কারণে তিনি ভুলভাবে দোষ স্বীকার করেছিলেন।
তবে তার আবেদন গ্রহণ করা হলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে নিজের দাবিগুলোর পক্ষে আদালতে যথেষ্ট ভিত্তি উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে দোষ স্বীকারের পর নতুন করে বিচার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও তার জন্য শাস্তির ঝুঁকি আরও গুরুতর হতে পারে।
২০২২ সালের হত্যাকাণ্ডে নিহত চার শিক্ষার্থীকে ঘিরে এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচিত হয়ে আসছে। এখন কোহবার্গারের বিচারক অপসারণ ও বিচারস্থল পরিবর্তনের আবেদন তার মামলায় নতুন আইনি মোড় তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















