সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ভারতের জাতীয় নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। চুক্তিকে ঘিরে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অবস্থান ও সাম্প্রতিক developments ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন সব ঘটনাই তারা অনুসরণ করছে। জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে দিল্লির নজর
মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থানের বিষয়ে ভারতীয় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল এসব মন্তব্য করেন। এর আগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চুক্তিটি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়। ফলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে এই প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হতে পারে কি না, তা নিয়ে দেশ-বিদেশে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যুক্ত করার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত কোনো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বিষয়টি মূলত নির্ভর করবে চুক্তির তিন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত এবং তারা বর্তমান সদস্যসংখ্যার বাইরে চুক্তিটি সম্প্রসারণ করতে চায় কি না—তার ওপর।
সংসদে যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মক্কা চুক্তি নিয়ে উদ্বেগের জবাব দেন। তিনি এটিকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ নিয়ে অন্যদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
বাংলাদেশ চুক্তিতে যোগ দেবে কি না—এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান সদস্যরা আমন্ত্রণ জানালে বাংলাদেশ বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। আমন্ত্রণ পাওয়ার আগেই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করাকে তিনি সময়ের আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে এ ধরনের নিরাপত্তা উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অস্বাভাবিক হবে না।
মক্কা চুক্তির লক্ষ্য কী
চলতি মাসে সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরব, পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান ও ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর দেশ তুরস্ককে নিয়ে গঠিত এই কাঠামোকে পাকিস্তান একটি প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় চুক্তিটি কাজ করবে এবং অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ভবিষ্যতে এটি উন্মুক্ত থাকতে পারে।
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের প্রেক্ষাপট
এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ভারতে অবস্থান করছেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা যোগাযোগ রাখছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ জানিয়েছে, প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে ঢাকা। সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















