নেপালের বিভিন্ন জেলায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন জেলা থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDRRMA)।
বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর (ভাদ্র ১০) তিব্বতে ভয়াবহ তুষারধসের ঘটনা ঘটে। এর প্রভাবে চীন ও নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়। নেপালের রসুয়া, নুয়াকোট, গোরখা, ধাদিং ও চিতওয়ানসহ বিভিন্ন জেলায় এখনো উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছে।
চিতওয়ানে সর্বোচ্চ মরদেহ উদ্ধার

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ২৩৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। এছাড়া নওয়ালপরাসি পূর্বে ১৫৮, নুয়াকোটে ৫১, গোরখায় ৪৮, নওয়ালপরাসি পশ্চিমে ৪৭, ধাদিংয়ে ৪৫ এবং তানাহুনে ৩১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রসুয়া থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৩টি মরদেহ।
ঘটনার পর চার দিনের মধ্যে মৃতের সংখ্যা ৬২৬-এ পৌঁছেছে। উদ্ধার কার্যক্রম এখনো চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে কর্তৃপক্ষের তথ্য থেকে জানা গেছে।
৪ হাজার ৪৫১ জন উদ্ধার
দুর্যোগের পর এ পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৪৫১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫১ জনকে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেলের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ১২৯ জন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
তবে উদ্ধার অভিযান চললেও বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো নিখোঁজ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোট ২ হাজার ৪২৬ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে শুধু জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেলের ভেতর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন ৯৩৩ জন। এছাড়া ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

নিখোঁজের তালিকায় নিরাপত্তাকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তারাও
নিখোঁজদের মধ্যে নেপাল পুলিশের ২৭ জন, নেপাল সেনাবাহিনীর ৪৫ জন এবং আর্মড পুলিশ ফোর্সের ১৩ জন সদস্য রয়েছেন। এছাড়া কাস্টমস কার্যালয়ের ১৫ জন কর্মী, ইমিগ্রেশন কার্যালয়ের চারজন এবং লাংটাং ন্যাশনাল পার্কের তিনজন কর্মীও নিখোঁজ রয়েছেন।
জেলাভিত্তিক হিসাবে রসুয়ায় ৫২৬ জন, নুয়াকোটে ১১৫ জন এবং মাকওয়ানপুরে ৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া বিদেশে বসবাসরত ১২৭ জন নেপালি নাগরিক, যারা পর্যটনের উদ্দেশ্যে দেশে ফিরেছিলেন, তারাও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন।
চলমান উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রমের মধ্যেই নিখোঁজদের সন্ধান এবং দুর্গত এলাকাগুলো থেকে আরও মানুষ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















