০৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
ভয়াবহ বন্যার ক্ষত সারাতে নেপালের দরকার ৫০০ কোটি ডলার, চায় বিশেষজ্ঞ সহায়তা ভোটেকোশী বিপর্যয়ের তিন শিক্ষা: বদলাতে হবে হিমালয়কেন্দ্রিক উন্নয়ন ও দুর্যোগ-চিন্তা পটুয়াখালীতে বিষমিশ্রিত ঘাস খেয়ে মহিষের মৃত্যু, অসুস্থ ২৫ যুদ্ধের ধাক্কায় বিপর্যস্ত ইরানের অর্থনীতি, আরও কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এশিয়ার ‘পানির টাওয়ার’ তিব্বত মালভূমি কি অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে? চার খুনের আসামিদের পক্ষে লড়বেন না রংপুরের আইনজীবীরা স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমল ৭ হাজার ১১৫ টাকা ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট, চার ঘণ্টা আটকে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু ভোটেকোশী বন্যায় নিখোঁজ ২,৪০০, ভারত-চীনের বিশেষায়িত উদ্ধার সহায়তা চাইল নেপাল নেপালের ভয়াবহ বন্যায় জরুরি সহায়তায় ৫ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে এডিবি

ভোটেকোশী বন্যায় নিখোঁজ ২,৪০০, ভারত-চীনের বিশেষায়িত উদ্ধার সহায়তা চাইল নেপাল

নেপালের ভয়াবহ ভোটেকোশী বন্যার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করতে ভারত ও চীনের কাছে বিশেষায়িত সহায়তা চেয়েছে দেশটির সরকার। বন্যার পর এখন পর্যন্ত ৬২৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শনিবার কাঠমান্ডুতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য ভারতের ১১ সদস্যের একটি বিশেষায়িত কারিগরি পর্যবেক্ষণ দল ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। টানেল থেকে উদ্ধারকাজে দক্ষ চীনা একটি দলও শিগগির নেপালে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্ধারে বিশেষ প্রযুক্তির সহায়তা

নেপাল সরকার জীবিত ব্যক্তিদের শনাক্তে সক্ষম প্রযুক্তি, দ্রুত ফরেনসিক ও ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং উদ্ধার হওয়া মরদেহ সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত মর্গ সুবিধারও অনুরোধ জানিয়েছে। দুর্গত এলাকায় কেউ জীবিত অবস্থায় আটকে থাকলে দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করতেও এসব সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৫০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ১৮৭ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

রাসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং ও চিতওয়ান জেলায় এখনও অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুসন্ধান, মরদেহ উদ্ধার এবং তথ্য যাচাই অব্যাহত থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাচাই করা সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করার জন্য জনগণ ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।At least 586 dead and over 2,400 missing after Nepal-Tibet floods,  authorities say | Euronews

আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত

নেপাল আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রত্যাখ্যান করেছে—এমন খবরও নাকচ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা জানিয়েছে, দুর্যোগের ব্যাপকতা এত বেশি যে উদ্ধার ও ত্রাণের পাশাপাশি পুনর্বাসন এবং পুনর্গঠনেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

ইতোমধ্যে ভারত থেকে ৫৭ টনের বেশি ত্রাণসামগ্রী নেপালে পৌঁছেছে। চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য দেশ থেকেও প্রয়োজনীয় সামগ্রী আসছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে বিস্তারিত মূল্যায়ন চলছে। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনে নেপালের কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা হবে।

নিখোঁজদের তথ্য যাচাইয়ে সমন্বয়

নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন, হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করছে কর্তৃপক্ষ। জনসমক্ষে তথ্য প্রকাশের আগে সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এদিকে নদীগুলোর পরিস্থিতি এবং ভাটির দিকে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য অতিরিক্ত বন্যার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।

তবে সরকার জানিয়েছে, বন্যায় রাসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং ও চিতওয়ানের কিছু এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হলেও নেপালের অন্যান্য অংশ স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিদেশি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত। দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপাল ও বিদেশে থাকা মানুষ নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে সহায়তা করতে পারবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভয়াবহ বন্যার ক্ষত সারাতে নেপালের দরকার ৫০০ কোটি ডলার, চায় বিশেষজ্ঞ সহায়তা

ভোটেকোশী বন্যায় নিখোঁজ ২,৪০০, ভারত-চীনের বিশেষায়িত উদ্ধার সহায়তা চাইল নেপাল

০৪:৫৯:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

নেপালের ভয়াবহ ভোটেকোশী বন্যার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করতে ভারত ও চীনের কাছে বিশেষায়িত সহায়তা চেয়েছে দেশটির সরকার। বন্যার পর এখন পর্যন্ত ৬২৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শনিবার কাঠমান্ডুতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য ভারতের ১১ সদস্যের একটি বিশেষায়িত কারিগরি পর্যবেক্ষণ দল ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। টানেল থেকে উদ্ধারকাজে দক্ষ চীনা একটি দলও শিগগির নেপালে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্ধারে বিশেষ প্রযুক্তির সহায়তা

নেপাল সরকার জীবিত ব্যক্তিদের শনাক্তে সক্ষম প্রযুক্তি, দ্রুত ফরেনসিক ও ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং উদ্ধার হওয়া মরদেহ সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত মর্গ সুবিধারও অনুরোধ জানিয়েছে। দুর্গত এলাকায় কেউ জীবিত অবস্থায় আটকে থাকলে দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করতেও এসব সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৫০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ১৮৭ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

রাসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং ও চিতওয়ান জেলায় এখনও অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুসন্ধান, মরদেহ উদ্ধার এবং তথ্য যাচাই অব্যাহত থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাচাই করা সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করার জন্য জনগণ ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।At least 586 dead and over 2,400 missing after Nepal-Tibet floods,  authorities say | Euronews

আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত

নেপাল আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রত্যাখ্যান করেছে—এমন খবরও নাকচ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা জানিয়েছে, দুর্যোগের ব্যাপকতা এত বেশি যে উদ্ধার ও ত্রাণের পাশাপাশি পুনর্বাসন এবং পুনর্গঠনেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

ইতোমধ্যে ভারত থেকে ৫৭ টনের বেশি ত্রাণসামগ্রী নেপালে পৌঁছেছে। চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য দেশ থেকেও প্রয়োজনীয় সামগ্রী আসছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে বিস্তারিত মূল্যায়ন চলছে। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনে নেপালের কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা হবে।

নিখোঁজদের তথ্য যাচাইয়ে সমন্বয়

নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন, হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করছে কর্তৃপক্ষ। জনসমক্ষে তথ্য প্রকাশের আগে সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এদিকে নদীগুলোর পরিস্থিতি এবং ভাটির দিকে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য অতিরিক্ত বন্যার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।

তবে সরকার জানিয়েছে, বন্যায় রাসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং ও চিতওয়ানের কিছু এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হলেও নেপালের অন্যান্য অংশ স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিদেশি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত। দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপাল ও বিদেশে থাকা মানুষ নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে সহায়তা করতে পারবেন।