০৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দর: পণ্য পরিবহন বাড়লেও বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দরের তালিকায় ৬৮তম অবস্থানেই ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বড় সংকট শনাক্তকরণ সরঞ্জামে সংসদ ভবনের কাছে ছিনতাইকারীর টান, রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যু ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে মোড় ঘুরছে চীনের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ভারতে জাপানের যুদ্ধবিমান মোতায়েন, চীনের জন্য কী বার্তা? হাম বাড়ছে, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু; দেশে মৃতের সংখ্যা ৯৬৩ বন্দিত্ব বন্ধের আইন যথেষ্ট নয়, প্রাণীদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে নিরাপদ ভবিষ্যৎ গঙ্গা চুক্তি নবায়নে ভারতের জেআরসি কাঠামো, বাংলাদেশের অপেক্ষা দিল্লির জবাবের খরা মোকাবিলায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি: ১৪ কোটি ডলারের বৈশ্বিক উদ্যোগ কি বদলাবে জলবায়ু অভিযোজনের কৌশল? নেপালে ভয়াবহ ভোতেকোশী বন্যা: মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা সাতজনের হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা

যুদ্ধের ধাক্কায় বিপর্যস্ত ইরানের অর্থনীতি, আরও কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ ও ক্রমবর্ধমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের কারণে ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্য প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে গেছে। একই সময়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সরকারকে মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে অর্থনৈতিক চাপ বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি তেহরান। বরং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষাকে পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র

ইরানের অর্থনীতিতে যুদ্ধের ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। দেশটিতে গত মাসে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে। নিত্যপণ্যের দাম, কর্মসংস্থান এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সরকারের প্রতি অর্থনৈতিক ও জীবিকা-সংক্রান্ত সংকট দ্রুত মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছেন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেকারত্ব কমানো, পণ্যের দাম ও বাজার ব্যবস্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

সরকার একই সঙ্গে মার্কিন মুদ্রার ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞায় ব্যাংকিং খাতেও চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের অভিযোগে মিসরের ব্যাংক মিসরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাখার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে লেনদেনের কারণে ব্যাংকটির মার্কিন মুদ্রায় কিছু লেনদেন সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মিসরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ব্যাংক মিসরও বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাখা প্রযোজ্য নিয়ম মেনে গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

এ ছাড়া হংকংভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান এবং ইরানের ব্যাংক মেল্লির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়াশিংটন অন্য দেশগুলোকেও ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক কমানোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। তা না হলে তাদের ওপরও দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে চীন ও ভারতের মতো ইরানের বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিরুদ্ধে এখনো বড় ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

তেল বিক্রিই বড় ভরসা

অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও তেল বিক্রি থেকে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে ইরান। পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী সমঝোতার সময় প্রায় ৯ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছিল তেহরান।

ওই সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইরানের তেল বিক্রির সুযোগ দিয়েছিল। পরে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতা ভেঙে যাওয়ায় সেই সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে।War and US Sanctions Deepen Crisis for Iran's Economy

হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনড় তেহরান

যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ইরান কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হতো।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি সম্প্রতি তেহরানে ইরানি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি যুদ্ধের আগের মতো হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বৈঠককে সৃজনশীল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তেহরান জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা—দুই পথই সমন্বিতভাবে অনুসরণ করা হবে।

কমেছে জাহাজ চলাচল

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্যেও তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, জলপথটি উন্মুক্ত রয়েছে। কিন্তু ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর নৌবাহিনী এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ইরানের অনুমতি ছাড়া জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।

শুক্রবার প্রকাশিত প্রাথমিক নৌ চলাচলের তথ্যে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১৭টি। গত ১০ দিনের দৈনিক গড় ১৫টি জাহাজের তুলনায়ও এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

ফলে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও গভীর হচ্ছে। একই সঙ্গে এই সংকটের প্রভাব ইরানের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দর: পণ্য পরিবহন বাড়লেও বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দরের তালিকায় ৬৮তম অবস্থানেই

যুদ্ধের ধাক্কায় বিপর্যস্ত ইরানের অর্থনীতি, আরও কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

০৫:৩৬:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ ও ক্রমবর্ধমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের কারণে ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্য প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে গেছে। একই সময়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সরকারকে মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে অর্থনৈতিক চাপ বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি তেহরান। বরং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষাকে পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র

ইরানের অর্থনীতিতে যুদ্ধের ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। দেশটিতে গত মাসে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে। নিত্যপণ্যের দাম, কর্মসংস্থান এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সরকারের প্রতি অর্থনৈতিক ও জীবিকা-সংক্রান্ত সংকট দ্রুত মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছেন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেকারত্ব কমানো, পণ্যের দাম ও বাজার ব্যবস্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

সরকার একই সঙ্গে মার্কিন মুদ্রার ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞায় ব্যাংকিং খাতেও চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের অভিযোগে মিসরের ব্যাংক মিসরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাখার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে লেনদেনের কারণে ব্যাংকটির মার্কিন মুদ্রায় কিছু লেনদেন সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মিসরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ব্যাংক মিসরও বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাখা প্রযোজ্য নিয়ম মেনে গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

এ ছাড়া হংকংভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান এবং ইরানের ব্যাংক মেল্লির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়াশিংটন অন্য দেশগুলোকেও ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক কমানোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। তা না হলে তাদের ওপরও দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে চীন ও ভারতের মতো ইরানের বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিরুদ্ধে এখনো বড় ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

তেল বিক্রিই বড় ভরসা

অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও তেল বিক্রি থেকে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে ইরান। পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী সমঝোতার সময় প্রায় ৯ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছিল তেহরান।

ওই সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইরানের তেল বিক্রির সুযোগ দিয়েছিল। পরে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতা ভেঙে যাওয়ায় সেই সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে।War and US Sanctions Deepen Crisis for Iran's Economy

হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনড় তেহরান

যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ইরান কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হতো।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি সম্প্রতি তেহরানে ইরানি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি যুদ্ধের আগের মতো হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বৈঠককে সৃজনশীল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তেহরান জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা—দুই পথই সমন্বিতভাবে অনুসরণ করা হবে।

কমেছে জাহাজ চলাচল

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্যেও তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, জলপথটি উন্মুক্ত রয়েছে। কিন্তু ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর নৌবাহিনী এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ইরানের অনুমতি ছাড়া জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।

শুক্রবার প্রকাশিত প্রাথমিক নৌ চলাচলের তথ্যে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১৭টি। গত ১০ দিনের দৈনিক গড় ১৫টি জাহাজের তুলনায়ও এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

ফলে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও গভীর হচ্ছে। একই সঙ্গে এই সংকটের প্রভাব ইরানের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।