০৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
ভয়াবহ বন্যায় নেপালের পুনর্গঠনে লাগতে পারে ৫ বিলিয়ন ডলার নাইজারের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে সেনাদের হামলার চেষ্টা, রাজধানীতে সংঘর্ষ বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন: দেশ এবং জাতি কি পেল ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে কাঁদলেন মিয়াঁদাদ, বললেন—‘সব ভুলে এবার তাঁকে ছেড়ে দিন’ ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি কি আমেরিকাকেই দুর্বল করে দিচ্ছে? ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে মার্কিন সেনা পরিবারগুলোর জীবন যেন আবেগের রোলার কোস্টার ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্যানসার টিকার সাফল্য: আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে এখনই গতি বাড়াতে হবে চট্টগ্রাম বন্দর: পণ্য পরিবহন বাড়লেও বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দরের তালিকায় ৬৮তম অবস্থানেই ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বড় সংকট শনাক্তকরণ সরঞ্জামে সংসদ ভবনের কাছে ছিনতাইকারীর টান, রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যু

ভারতে জাপানের যুদ্ধবিমান মোতায়েন, চীনের জন্য কী বার্তা?

জাপান প্রথমবারের মতো ভারতে যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে পশ্চিম ভারতের রাজস্থানে তিনটি যুদ্ধবিমান পাঠাবে টোকিও। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতসহ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে জাপানের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সেপ্টেম্বরে রাজস্থানে যৌথ মহড়া

জাপানের বিমান আত্মরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, আগামী ৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর রাজস্থানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর সঙ্গে ‘ভীর গার্ডিয়ান ২৬’ নামে যৌথ প্রশিক্ষণ মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।

এই মহড়ার অংশ হিসেবে জাপান তিনটি এফ-২ যুদ্ধবিমান ভারতে পাঠাবে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের ফুকুওকা অঞ্চলের সুইকি বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত অষ্টম বিমান শাখার প্রায় ১১০ জন সদস্যও এতে অংশ নেবেন।

চীনকে ঘিরে বাড়ছে নিরাপত্তা সহযোগিতা

জাপানের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন চীনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। চীনের সামরিক শক্তি বাড়ার প্রতিক্রিয়ায় জাপানও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা গভীর করছে।Japan summons China envoy over ‘fighter jet radar lock’ as tensions surge

ভারতের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধবিমান মহড়ায় অংশ নেওয়া সেই বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মাধ্যমে জাপান ভারতকে শুধু প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবেই নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সহযোগী হিসেবেও দেখছে।

চীনের জন্য এর তাৎপর্য কী

জাপানের যুদ্ধবিমান প্রথমবারের মতো ভারতে মোতায়েনের বিষয়টি চীনের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও জাপান—দুই দেশই চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফলে দুই দেশের বিমানবাহিনীর যৌথ প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পথ তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে ভারত মহাসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক সক্ষমতা ও পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই ধরনের মহড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরাসরি চীনবিরোধী সামরিক জোটের ঘোষণা না হলেও, জাপানের পদক্ষেপটি বেইজিংকে একটি স্পষ্ট কৌশলগত বার্তা দিচ্ছে—চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মুখে আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়াচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভয়াবহ বন্যায় নেপালের পুনর্গঠনে লাগতে পারে ৫ বিলিয়ন ডলার

ভারতে জাপানের যুদ্ধবিমান মোতায়েন, চীনের জন্য কী বার্তা?

০৬:২৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

জাপান প্রথমবারের মতো ভারতে যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে পশ্চিম ভারতের রাজস্থানে তিনটি যুদ্ধবিমান পাঠাবে টোকিও। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতসহ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে জাপানের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সেপ্টেম্বরে রাজস্থানে যৌথ মহড়া

জাপানের বিমান আত্মরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, আগামী ৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর রাজস্থানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর সঙ্গে ‘ভীর গার্ডিয়ান ২৬’ নামে যৌথ প্রশিক্ষণ মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।

এই মহড়ার অংশ হিসেবে জাপান তিনটি এফ-২ যুদ্ধবিমান ভারতে পাঠাবে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের ফুকুওকা অঞ্চলের সুইকি বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত অষ্টম বিমান শাখার প্রায় ১১০ জন সদস্যও এতে অংশ নেবেন।

চীনকে ঘিরে বাড়ছে নিরাপত্তা সহযোগিতা

জাপানের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন চীনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। চীনের সামরিক শক্তি বাড়ার প্রতিক্রিয়ায় জাপানও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা গভীর করছে।Japan summons China envoy over ‘fighter jet radar lock’ as tensions surge

ভারতের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধবিমান মহড়ায় অংশ নেওয়া সেই বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মাধ্যমে জাপান ভারতকে শুধু প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবেই নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সহযোগী হিসেবেও দেখছে।

চীনের জন্য এর তাৎপর্য কী

জাপানের যুদ্ধবিমান প্রথমবারের মতো ভারতে মোতায়েনের বিষয়টি চীনের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও জাপান—দুই দেশই চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফলে দুই দেশের বিমানবাহিনীর যৌথ প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পথ তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে ভারত মহাসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক সক্ষমতা ও পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই ধরনের মহড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরাসরি চীনবিরোধী সামরিক জোটের ঘোষণা না হলেও, জাপানের পদক্ষেপটি বেইজিংকে একটি স্পষ্ট কৌশলগত বার্তা দিচ্ছে—চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মুখে আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়াচ্ছে।